বঙ্গবন্ধু সেতুর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ

ভুয়া জনবল দেখিয়ে তোলা হচ্ছে অর্ধশতাধিক লোকের বেতন

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:৩৯
বঙ্গবন্ধু সেতুতে অর্ধশতাধিক জনবল নিয়োগ না দিয়ে ওই পদগুলোতে ভুয়া জনবল দেখিয়ে বিবিএর কাছ থেকে প্রতি মাসেই টাকা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে বঙ্গবন্ধু সেতু পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এমসিসিসি-এসইএল-ইউডিসি এর বিরুদ্ধে। এখানে অপারেশন ডাইরেক্টর, কোয়ালিটি কন্ট্রোল এন্ড কন্ট্রাক্ট ইঞ্জিনিয়ার, ট্রাফিক এন্ড পেট্রোল, সিকিউরিটি, সিগন্যাল ম্যান, টোল কালেক্টর, স্পিড বোট হেলপারসহ অন্যান্য পদে লোক না থাকলেও সে পদের বিপরীতে নিয়মিত বেতন নেয়া হচ্ছে। জানা গেছে, সেতু পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেটালজিক্যাল কনস্ট্রাকশন কোম্পানি অব চায়না-শামীম এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড-ইউনাইটেড ডেভলপমেন্ট কোম্পানি (এমসিসিসি-এসইএল-ইউডিসি জয়েন্ট ভেঞ্চার) এর কর্মকর্তারা ভুয়া লোক নিয়োগ দেখিয়ে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিয়মিত মাসিক বেতন-ভাতা উত্তোলন করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অর্ধশতাধিক পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পড়ে আছে। শূন্য পদের মধ্যে রয়েছে অপারেশন ডাইরেক্টর ২টি, কোয়ালিটি কন্ট্রোল এন্ড কন্ট্রাক্ট ইঞ্জিনিয়ার ১টি, ট্রাফিক এন্ড পেট্রোল ১২টি, সিকিউরিটি ২২টি, সিগন্যাল ম্যান ২০টি, টোল কালেক্টর ১টি, স্পিড বোট হেলপার ১টি। এর মধ্যে অপারেশন ডাইরেক্টর ও কোয়ালিটি কন্ট্রোল এন্ড কন্ট্রাক্ট ইঞ্জিনিয়ার পদে ৩ জন বিদেশি এবং অন্যান্য পদে দেশীয় লোক নিয়োগ দেয়ার কথা নিয়োগ বিধিতে উল্লেখ রয়েছে। ২০১০ সালের নভেম্বর মাসে ৫ বছরের জন্য সেতু পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণের পর শুরু করে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের কাজ। দক্ষ শ্রমিকদের বাদ দিয়ে অদক্ষ লোক নিয়োগ দেয় প্রতিষ্ঠানটি। পূর্বে নিয়োগপ্রাপ্ত দক্ষ শ্রমিকদের বেতন কমিয়ে অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়। বাড়িয়ে দেয়া হয় নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত অদক্ষ শ্রমিকদের বেতন। নতুন ও পুরাতন শ্রমিকদের বেতন বৈষম্য দেখা দেয়। পূর্বের কোম্পানিগুলো যে হারে বেতন প্রদান করতো বর্তমান কোম্পানি সে হারে বেতন প্রদান করছে না। বেতন বাড়ানোর কথা বললেই চাকরিচ্যুতির ভয় দেখায় কোম্পানিটি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের বিষয়টি অস্বীকার করে বঙ্গবন্ধু সেতুর সাইট অফিসে কর্মরত বিবিএ’র সহকারী প্রকৌশলী মো. আবুল কালাম আজাদ ইত্তেফাককে বলেন, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের সাথে এমসিসিসি-এসইএল-ইউডিসি’র পাঁচ বছরের একটি চুক্তি হয়েছে। চুক্তিমতে, এমসিসিসি-এসইএল-ইউডিসি’র কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তালিকা অনুযায়ী বেতন-ভাতা বিবিএ’র পক্ষ থেকে পরিশোধ করা হয়। শ্রমিকদের কম বেতন প্রদানের বিষয়ে বলেন, হয়তো বেশি লাভের আশায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি শ্রমিকদের ঠকাচ্ছে। এতে আমাদের কিছু করার নেই। বঙ্গবন্ধু সেতু পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এমসিসিসি-এসইএল-ইউডিসি’র প্রধান প্রকৌশলী মো. মোজাম্মেল হক ভুয়া লোক নিয়োগের মাধ্যমে বেতন উত্তোলনের বিষয়টি অস্বীকার করেন। অন্যদিকে শ্রমিকদের বেতন বাড়ানো হচ্ছে বলে দাবিও করেন ওই প্রকৌশলী।