চরমোনাইর দরবার ইহজাগতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য নয়

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:২৫
চরমোনাই’র পীরসাহেব হযরত মওলানা মুফতী রেজাউল করিম বলেছেন, যারা এখানে এসেছেন সবার নিয়ত একমাত্র আল্লাহকে রাজি খুশি করা হতে হবে। দুনিয়ার স্বার্থ হাসিলের জন্য কোন নিয়ত করে থাকলে তা পরিবর্তন করে নেন। এ দরবার একদম ব্যতিক্রমী আল্লাহ্ওয়ালাদের মিলনমেলা। এখানে অনেক কষ্ট, তবে ঈমানদারদের নিকট এ কষ্ট কোন কষ্টই নয়। তিনি অত্যন্ত ধৈর্যের সাথে ৩দিন ধরে প্রত্যেকটি বয়ান সকলকে শ্রবণ করার আহবান জানান। গতকাল রবিবার পীরসাহেব সৈয়দ রেজাউল করিম বাদ জোহর ৩ দিনব্যাপী বার্ষিক ওয়াজ মাহফিলের উদ্বোধনী বয়ান করেন। উদ্বোধনী বয়ানে শরিয়ত সম্পর্কে বয়ানে পীরসাহেব বলেন, চরমোনাই দুনিয়া পাওয়ার জায়গা নয়। দুনিয়ায় কোন কিছু পাওয়ার আশা করে যদি কেউ চরমোনাই এসে থাকেন তাহলে ভুল করছেন। মাহফিলের প্রথমদিনেই লাখ লাখ মুসল্লি চরমোনাই’র দরবার শরীফে ভিড় জমান। লাখো মুসল্লির পদভারে মুখরিত কীর্তনখোলার তীরবর্তী এ তীর্থস্থান। মাহফিল এলাকা সংলগ্ন নদীতীরবর্তী এক কিলোমিটারে এখন আর নৌযান ভিড়ানোর কোন খালি জায়গা নেই। গতকাল মাহফিলের বিশাল মাঠ কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়। সন্ধ্যার পর যারা মাহফিলে চরমোনাই এসেছেন তাদেরকে পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন বাড়ির উঠান, বাগান ও রাস্তায় অবস্থান করতে হচ্ছে। নৌযানে আশ্রয় নিয়েই অনেকে মাহফিল শুনছেন। ওয়াজ মাহফিল শোনার সুবিধার্থে দীর্ঘ প্যান্ডেল এলাকায় ২ হাজার মাইক, ৩ হাজার বৈদ্যুতিক বাতি স্থাপন করা হয়েছে। খাবার পানির জন্য ১৫ হাজার নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে ৮০০ কেভি এবং ৪৮ কেভি’র ২টি জেনারেটর সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মাহফিলে আগত মুসল্লিদের চিকিত্সার জন্য মাহফিল কর্তৃপক্ষ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সেখানে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট অস্থায়ী হাসপাতাল ও অ্যাম্বুলেন্স রাখা হয়েছে। ৩৫ জন ডাক্তার এবং ৭০ জন স্বাস্থ্যকর্মী সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। র্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য ছাড়াও মুজাহিদ কমিটির ৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবক, ৪ হাজার মাদ্রাসার ছাত্র সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। এ বছরও দেশের বিভিন্নস্থানসহ বিশ্বের ২০টি দেশের লাখ লাখ মুসল্লি¬ এ মাহফিলে অংশগ্রহণ করছেন।