নোয়াখালীতে শুক্রবার রাতে ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ আঘাত হানে। এতে ঘর চাপা পড়ে সুবর্ণচর উপজেলায় মো. ইসমাইল নামে দুই বছরের এক শিশু নিহত হয়। ইসমাইল চর ওয়াপদা ইউনিয়নের চর আমিনুল হক গ্রামের আবদুর রহমানের ছেলে। শুক্রবার রাত ও শনিবার সকালে ঝড়ে নোয়াখালী সদর, সুবর্ণচর ও কোম্পানিগঞ্জ উপজেলায় অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় সাত শতাধিক কাঁচা-পাকা ঘর-বাড়ি। ভেঙ্গে গেছে শত শত গাছপালা।
জেলা প্রশাসক তন্ময় দাস জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ঝড়ে প্রায় এক হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত বারোশ লোকের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া ৬০ হাজার মানুষ শনিবার দুপুরে বাড়ি ফিরে গেছেন।
সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু ওয়াদুদ জানান, ওয়াপদা, মোহম্মদপুর, চরর্ক্লাক, চরজুবলী ও চর জব্বার ইউনিয়নে আড়াই শতাধিক কাঁচা বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আহত হয়েছেন ৪০ জন। অসংখ্য গাছপালা ভেঙ্গে পড়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এডভোকেট শিহাব উদ্দিন শাহিন জানান, ধর্মপুর ও নোয়াখালী ইউনিয়নের গাজীরখেয়া, চরদরবেশ ও চরশুল্লকিয়ায় চারশত কাঁচা বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝড়ে কবলে পড়ে আহত ২০ জনকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশংকাজনক।
কোম্পানিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফয়সাল আহম্মেদ জানান, ঝড়ে কোম্পানিগঞ্জে অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ির ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আরও পড়ুন: নতুন বর-বৌ নিয়ে বরযাত্রীরা সাইক্লোন সেল্টারে
দুপুরে নোয়াখালী-৪ আসনের এমপি একরামুল করিম চৌধুরী ও জেলা প্রশাসক তন্ময় দাস সদর ও সুবর্ণচরের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার গুলোকে ঘরবাড়ি নির্মাণসহ সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এ সময় এমপি ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করতে দলের নেতা কর্মীদের নির্দেশ দেন।
ইত্তেফাক/অনি
