সঠিক আই মেকআপ আপনার সাজে আনতে পারে ভিন্ন মাত্রা। পোশাকের সঙ্গে আই মেকআপের সামঞ্জস্য না থাকলে আপনার পুরো সাজটাই মাটি। আবার এই আই মেকআপের মতোই সমান গুরুত্বপূর্ণ আরও একটি বিষয় নেলপলিশ, পোশাক অনুযায়ী নেলপলিশ বাছাই করা খুব প্রয়োজন। আপনার ঝকঝকে পোশাকের গ্ল্যামারের আড়ালে সামান্য নেলপলিশ কারও নজরে পরবে না এমটি ভাবার কোনো অবকাশ নেই। তাই সাজে পারফেক্ট লুক বজায় রাখতে কিছু আলোচনা নিয়ে আমাদের এই আয়োজন।
সবাই তো আর নিখুঁত চোখ নিয়ে জন্মায় না। চোখের খুঁতগুলোকে ঢাকার জন্যই মেকআপের প্রয়োজন। কী পোশাক পরছেন, কী রকম জায়গায় যাচ্ছেন, সময়টা কখন সকাল না বিকেল, গ্রীষ্ম বর্ষা না শীত সব কিছু মাথায় রেখে তবেই চোখ সাজাতে হবে আপনাকে। অতি সাধারণ দুটি চোখকে সামান্য মেকআপের সাহায্যে অনন্য করে তুলবেন কীভাবে প্রথমে আসা যাক সেই প্রসঙ্গে। গরম পানিতে তুলা ভিজিয়ে মুখটা পরিষ্কার করে নিন। এবার গোলাপজলে তুলা ভিজিয়ে হালকা করে তুলাটি বুলিয়ে নিন মুখে। এরপর সারা মুখে, চোখের উপর, নিচে, গলায় ফাউন্ডেশন লাগান। যাদের চোখের তলায় কালি পড়ে তারা ফাউন্ডেশনের সঙ্গে কনসিলার মিশিয়ে সেটি আঙুলের ডগা দিয়ে চোখের তলায় কালো জায়গায় লাগিয়ে নিন।
তারপর বুলিয়ে দিন পাউডার পাফ। এতে আপনার চোখের নিচের কালো দাগ আর চোখে পড়বে না। যাদের ভ্রূ খুব সরু তারা আইব্রাশ ও পেন্সিল দিয়ে ভ্রূ এঁকে নিন। এবার চোখে কাজল পরুন।
সবার আগে চোখের নিচে কাজল পরুন। আঙুলের ডগা দিয়ে কাজল পরে, তুলা দিয়ে চোখের নিচটা মুছে নিলে কাজলটা বাইরে লেগে যাবে না। আপনার চোখ যদি বসা হয় তাহলে কখনোই গাঢ় রঙের শ্যাডো লাগাবেন না। হালকা রঙের শ্যাডো লাগান। অনেকের চোখের মণি খুব বড় হয়, সেই ক্ষেত্রে তাদের লাগাতে হবে গাঢ় রঙ। এতে চোখ আরও সুন্দর দেখাবে। আপনার সাজটা যদি সকালের হয় তাহলে শ্যাডো না লাগানোই ভালো। আর একান্তই যদি লাগাতে চান তাহলে হালকা কোনো রঙ ব্যবহার করুন। এবার আসা যাক নেলপলিশ প্রসঙ্গে। মেয়েদের অন্যতম প্রধান একটি প্রসাধন সামগ্রী হিসেবে নেলপলিশের আলাদা একটি কদর সব সময়ই ছিল। বিশেষ করে সাজপোশাকের সাথে মানানসই নেলপলিশ যেন সাজের আভিজাত্যকেই ফুটিয়ে তোলে। আমরা আমাদের মুখমণ্ডল ও চুলের যত্ন নিলেও নখের যত্নটি এড়িয়ে যাই, ক্ষুদ্র হওয়ার কারণেই হয়তো।
তবে হাত ও পায়ের সৌন্দর্যের আধার হচ্ছে নখ। নখের যত্ন নিয়মিতভাবেই নেওয়া উচিত। নখের যত্ন ঘরে বসেই নেওয়া যায়। এ জন্য পারলারে দৌড়াদৌড়ি না করলেও হবে। এ জন্য দরকার খুঁটিনাটি কিছু জিনিসের—ছোট একটি বাটি; এমেরি বোর্ড, যেটিকে নখ ঘষার বোর্ডও বলা যায়, যা দেখতে ছোট লম্বা একটি চারকোনা কাঠির মতো; নেল কাটার; অরেঞ্জ স্টিক, নখের ওপরের অংশটি ঘষার জন্য টুথপিকের মতো কাঠি; কিউটিক্যাল কাটার, নখের চারপাশে চামড়া শক্ত সাদা হয়ে যায়, সে অংশকে উঠিয়ে নিতে এটি সহায়তা করবে; তুলা, কটন বাড, নেলপলিশ রিমুভার, নেলপলিশ এবং হাতে ব্যবহারের ক্রিম। প্রথমে নখে লাগানো পুরোনো নেলপলিশ উঠিয়ে ফেলতে হবে। তবে খুব বেশি রিমুভার কখনোই ব্যবহার করা উচিত নয়। এতে নখ শুকিয়ে যায়। এমেরি বোর্ড দিয়ে নখ সুন্দরভাবে ডিম্বাকার করে নিতে হবে। একটু সাবধান। না হলে একেক আঙুলের নখের আকার ও মাপ রকমারিতে পরিণত হতে পারে। একটি বাটির মধ্যে উষ্ণ গরম পানি ঢালুন। এবার ক্ষারবিহীন কোনো একটি শ্যাম্পু মেশান। পাঁচ মিনিট করে হাত ও পা ডুবিয়ে রাখতে হবে। নরম একটি ব্রাশ দিয়ে যত্নের সঙ্গে নখগুলোকে পরিষ্কার করে নিতে হবে। তবে খুব জোরে জোরে চামড়া বা নখের ওপর ঘষামাজা করা সম্পূর্ণ নিষেধ।এরপর অরেঞ্জ স্টিকটির ওপর তুলা জড়িয়ে নিন। এবার কিউটিক্যাল পরিষ্কার করে নিন। এ বিষয়ে ফারজানা শাকিল বলেন, ‘কখনোই ধাতুর তৈরি স্টিক ব্যবহার করা উচিত নয়। এতে ত্বকের ক্ষতি হয়। কিউটিক্যাল শক্ত মনে হলে ক্রিম লাগিয়ে নরম করে নিন। পরিষ্কার করা সহজ হবে। পরিষ্কার করার পরে তোয়ালে দিয়ে ভালোমতো অতিরিক্ত ক্রিম মুছে নিন। শেষ পদক্ষেপ হিসেবে উষ্ণ গরম পানিতে হাত ও পায়ের পাতা ধুয়ে নিন। এ ছাড়াও নখের বেশ কিছু সাজ-সরঞ্জাম রয়েছে যেমন—আলগা নখ, নখে পরার রিং, ছোট ছোট ফুল প্রভৃতি। তবে এখন নখে শুধু নেলপলিশ লাগানোই ফ্যাশন। বাড়তি কিছু সংযোজন না করলেও চলে। উজ্জ্বল ও হালকা শেডগুলোই রং হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে। নেলপলিশ লাগানোর সময় স্বচ্ছ রঙের নেলপলিশ আগে লাগান। এতে নেলপলিশ বেশিদিন থাকবে। লাগানোর সময় অতিরিক্ত নয়, দুই কোটই যথেষ্ট।
মডেল বেনজির
ছবি দীপঙ্কর দীপু
