বিশ্ববিদ্যালয় পরিশীলিত সমাজ গঠনের কেন্দ্রবিন্দু

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:২১
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, সমাজ উন্নয়ন এবং রাজনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. আলাউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, আমাদের শিক্ষার লক্ষ্য জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ার মাধ্যমে দেশের বিশাল জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করা। বিশ্ববিদ্যালয় শুধু পুঁথিগত জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র নয় বরং তা শিক্ষার্থীর মাঝে মানবিক মূল্যবোধ সৃষ্টি, মুক্তবুদ্ধির চর্চা এবং পরিশীলিত সমাজ গঠনের কেন্দ্রবিন্দুও বটে। সোমবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভের (ইউডা) ৩য় সমাবর্তনে সভাপতির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এ কে আজাদ চোধুরী। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. এমাজউদ্দীন আহমেদ, ইউডার প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি প্রফেসর মুজিব খান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। প্রফেসর ড. আলাউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিশ্বায়নের এ যুগে ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তথ্যপ্রযুক্তি ও আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানে সমৃদ্ধ একটি মেধাবী প্রজন্ম তৈরির জন্য বর্তমান সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস সকলের সহযোগিতায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হবে। প্রফেসর ড. এ কে আজাদ চৌধুরী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ জ্ঞানরাজ্যে প্রবেশের ছাড়পত্র মাত্র। এটি শেষ অধ্যায় নয়। তিনি বলেন, জীবনকে উপভোগ করার জন্য প্রতিনিয়তই জ্ঞান আহরণ, জ্ঞানের চর্চা এবং জ্ঞান সৃষ্টিতে মনোনিবেশ করতে হবে। কর্মজীবনের দৃঢ় আত্মবিশ্বাস, সততা, ন্যায়-নিষ্ঠা, কঠোর পরিশ্রম এবং গভীর দেশপ্রেম নিয়ে তোমাদের এগিয়ে যেতে হবে। প্রফেসর মুজিব খান বলেন, আজকের বিশ্ব একদিকে যেমন তীব্র প্রতিযোগিতার অন্যদিকে তেমন ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার। শিক্ষা, আচার- আচরণ এবং অভ্যাসে এই বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গির বিকাশ ঘটাতে হবে। এমাজউদ্দীন আহমেদ বলেন, প্রযুক্তির নিত্য নতুন আবিষ্কার ও প্রয়োগের ফলে মানব সভ্যতার মানচিত্র ভিন্ন রূপ পরিগ্রহ করে। সময়ের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য বিধানের লক্ষ্যে সমাজের চাহিদা বৃদ্ধি পায় হাজারগুণ। সমাজের জীবনঘনিষ্ঠ সমস্যাসমূহের সমাধান, বিশেষ করে বিশ্বায়নের প্রতিযোগিতায় পশ্চাত্পদদের প্রস্তুতি পর্বও অপরিহার্য হয়ে ওঠে। সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ৬ শিক্ষার্থীকে চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড এবং ২৫ শিক্ষার্থীকে মেরিড অ্যাওয়ার্ড দেয়া হয়। চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তরা হলেন-বিবিএ প্রোগামে শামীম আরা, এমবিএ প্রোগামে সুব্রত কুমার দাস ও স্বপ্না, ইংরেজি বিভাগের মেহজাবিন রহমান এবং ফার্মেসি বিভাগের আফিনুর নাহার। ইউডার ৫ টি অনুষদের ১০টি বিভাগের ৪০০৩ জন শিক্ষার্থী স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করে। পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। সমাবর্তন অনুষ্ঠানে মিডিয়া পার্টনার ছিল দৈনিক ইত্তেফাক।