হাটহাজারীতে হেফাজতে ইসলামীর সমাবেশে বক্তারা

সরকার ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:২১
বর্তমান সরকার পবিত্র ইসলাম ও মুসল-মানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে গতকাল সোমবার হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত মহাসমাবেশের বক্তারা এই অভিযোগ করেন। তারা ক্ষমতাসীন সরকারকে নাস্তিক ও মুরতাদদের মদদদাতা হিসেবে আখ্যায়িত করেন। সমাবেশ থেকে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে তাদের গ্রেফতারকৃত নেতা-কর্মীদের আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে মুক্তি দেয়া না হলে পহেলা মার্চ শুক্রবার সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ করা হবে। আগামী এক মাসের মধ্যে বাংলাদেশের প্রতিটি বিভাগীয় শহরে মহাসমাবেশ ও জাতীয় সংসদ অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। মহানবী (সা.) সম্পর্কে কটূক্তি ও সকল ধর্মীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে সংগঠনের নেতা আল্লামা শাহ শফির আহবানে গতকাল বিকালে হাটহাজারী পার্বতী উচ্চ বিদ্যালয় ময়দানে অনুষ্ঠিত মহাসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের নায়েবে আমীর মাওলানা শামসুল আলম। প্রধান অতিথির ভাষণে আল্লামা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী বলেন, নাস্তিকদের পক্ষ অবলম্বন করে বাংলাদেশে জাতীয় সংসদে ধন্যবাদ প্রস্তাব পাশ করে পবিত্র সংসদকে অপবিত্র করা হয়েছে। গত কয়েকদিনে মুসলিম জনতার আন্দোলনে নির্বিচারে গুলি করে ১৯ জন মুসল্লিকে হত্যা করা হয়েছে। মসজিদের খতিবকে শহীদ করা হয়েছে। তিনি এই হত্যাকাণ্ডের জন্য বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে বলে উল্লেখ করে বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজাকারদের হোতা হয়ে বর্তমান সরকারের মন্ত্রিত্ব নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের এজেন্ট হওয়ার নাটক করছেন। বাংলাদেশের মানুষ সকল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে চায়—এ কথা উল্লেখ করে প্রধান অতিথি বলেন, আওয়ামী লীগে থাকা যুদ্ধাপরাধীদেরও বিচার করতে হবে। আজকে দাড়ি আর টুপিকে নিয়ে উপহাস করা হচ্ছে। পাঞ্জাবি-পায়জামা পড়লে রাজাকার বলা হয়। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশের মানুষ কোন দলকে মুক্তিযুদ্ধের এজেন্সি দেয় নাই। সারাদেশে প্রায় দেড় হাজার মিথ্যা মামলা দিয়ে দেড় লাখ আলেম-ওলামাকে আসামি করা হয়েছে। মহাসমাবেশের সভাপতি আগামী আন্দোলনের জন্য পাঁচ দফা কর্মসূচি সংগঠনের নেতা আল্লামা শাহ আহমদ শফির পক্ষে পাঠ করে শোনান। বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অন্যতম যুদ্ধাপরাধী ও মুসল্লিদের হত্যাকারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীরকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। আগামী শুক্রবার দেশের সাড়ে ৪ লাখ মসজিদে নাস্তিক মুসলমানদের পতনের জন্য ফজরের নামাজে বিশেষ দোয়া ‘কুনুতে নাজেলা’ পাঠ করা হবে। আগামী মাসে দেশের সাড়ে ৪ লাখ মসজিদে ৯ লাখ ইমাম-মোয়াজ্জিনকে নিয়ে সমাবেশ করা হবে। পরবর্তী সময়ে দেশের ৪০ লাখ ওলামা-মাশায়েখের মহাসমাবেশ আহবান করা হবে। মহাসমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন নেজামী ইসলাম পার্টির নেতা মুফতি ইজাহারুল ইসলাম চৌধুরী, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ-এর নায়েবে আমীর মাওলানা আবদুল মালেক হালিম, নাজিরহাট মাদ্রাসার মাওলানা নোমান, হাটহাজারী মাদ্রাসার মুফতি জসিম উদ্দিন, ইসলামী ঐক্যজোট চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি মাওলানা মঈনুদ্দিন রুহি, নেজামে ইসলাম পার্টির যুগ্ম মহাসচিব আবদুর রহমান চৌধুরী, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ইসলামী ঐক্য জোটের আহবায়ক মাওলানা হাবিবুল্লাহ প্রমুখ।