সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠনে রাষ্ট্রপতির নির্দেশনা

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:২২
হাইকোর্টের বিচারক বিচারপতি মো. মিজানুর রহমান ভূঁঞার বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠনের আহবান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান। সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলকে লেখা রাষ্ট্রপতির এ সংক্রান্ত নির্দেশনা গতকাল সোমবার আইন মন্ত্রণালয়ে পৌঁছেছে। আইনমন্ত্রী ব্যারিষ্টার শফিক আহমেদ জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতির এই নির্দেশনা এখন প্রধান বিচারপতির কাছে যাবে, তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। অভিযোগ রয়েছে নিহত ব্লগার রাজীবের ইসলাম ও নবী অবমাননা সংক্রান্ত সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন বিচারপতি মো. মিজানুর রহমান ভূঁঞা ১৮ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের খামে করে সহকর্মী বিচারকদের মধ্যে বিলি করেন। এ নিয়ে সংবাদপত্রে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে সংসদ অধিবেশনে ওই বিচারকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি তোলেন সংসদ সদস্যরা। এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আইন মন্ত্রণালয় সুপ্রিম জুডিশিয়াল গঠনে রাষ্ট্রপতির সম্মতি চায়। রাষ্ট্রপতি এ বিষয়ে সম্মতি দিয়ে গতকালই আইন মন্ত্রণালয়ে ফাইলটি ফেরত পাঠান। আইন প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, গতকালই রাষ্ট্রপতির নির্দেশনা সুপ্রিম কোর্টের রেজিষ্ট্রারের কাছে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী দুই কারণে সুপ্রিম কোর্টের বিচারককে তার পদ হতে অপসারণ করা যায়। যদি কোন বিচারক শারীরিক ও মানসিক অসমর্থের কারণে তার পদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে অযোগ্য হয়ে পড়েন অথবা গুরুতর অসদাচরণের জন্য দোষী সাব্যস্ত হন। এ দুটি বিষয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে কোন অভিযোগ আসলে রাষ্ট্রপতি তার তদন্ত ও তদন্তের ফলাফল জানানোর জন্য সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলকে নির্দেশ দিতে পারেন। কাউন্সিল তদন্ত করার পর রাষ্ট্রপতির কাছে যদি এরকম রিপোর্ট দেন যে, বিচারক তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনে অযোগ্য হয়ে পড়েছেন অথবা গুরুতর অসদাচরণের জন্য দোষী হয়েছেন তাহলে রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৯৬ (৬) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ওই বিচারককে তার পদ থেকে অপসারিত করতে পারবেন। ৯৬(৩) অনুচ্ছেদে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের নির্দেশনা রয়েছে। বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি এবং অন্য বিচারকদের মধ্যে পরবর্তীতে যে দু’জন কর্মে প্রবীণ তাদের নিয়ে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠিত হয়। ইতিপূর্বে সাবেক প্রধান বিচারপতি লতিফুর রহমানের আমলে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠিত হয়। ওই কাউন্সিল সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের জন্য অবশ্যই পালনীয় মর্মে একটি আচরণবিধি প্রণয়ন করেন। এর আগে দু’জন বিচারপতির বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ তদন্তে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল বসেছিলো। এদিকে এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ইত্তেফাককে বলেন, বিচারপতি মিজানুর রহমান অন্য বিচারকদের কাছে ব্লগার রাজীব সম্পর্কে বিভিন্ন সংবাদপত্রের প্রতিবেদন বিলি করে গুরুতর অসদাচরণ করেছেন। একজন বিচারক এ ধরনের কাজ করতে পারেন না। তিনি সুপ্রিম কোর্টের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করেছেন। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন বলেন, বিচারকদের জন্য যে আচরণবিধি রয়েছে তার কোন ধারা তিনি লংঘন করেননি। সহকর্মীদের কাছে পত্রিকার কাটিং সরবরাহ করা কোন অসদাচরণ নয়। বিষয়টি অনেকে রাজনৈতিকভাবে দেখছেন। তিনি বলেন, এ ঘটনায় কাউন্সিল গঠন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত। আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বার্থে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে সরকারকে বিরত থাকার জন্য তিনি অনুরোধ জানান।