গত রবিবার মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার গোবিন্ধল গ্রামে ইসলামী ও সমমনা দলের ডাকা হরতালে পুলিশের সাথে সংঘর্ষের মূল কারণ ছিল মাদ্রাসা দখলের অপপ্রচার। কুচক্রী মহলের কারসাজিতে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেয়া হয় ‘আওয়ামী লীগ এবং পুলিশ মাদ্রাসা দখল করতে গোবিন্ধল আসছে। ইসলাম রক্ষার্থে আপনারা শরীক হউন।’ মাইকে ঘোষণা শোনা মাত্র উত্তেজিত হয়ে গ্রামের ধর্মপ্রাণ মানুষ রাস্তায় নেমে পড়ে এবং প্রতিহত করার লক্ষ্যে ঢাকা-সিংগাইর সড়কের গোবিন্ধল বাসস্ট্যান্ডে অবস্থান নেয়। পরে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে ৪ জনের মৃত্যু ঘটে এবং থানার ওসিসহ আহত হন শতাধিক।
জানা গেছে ওই ঘোষণার পর মাদ্রাসার ছাত্রসহ গ্রামের সাধারণ মানুষ এবং আশপাশের এলাকার লোকজন লাঠিসোটা, ধারালো অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে যোগ দেয় হরতালকারীদের সঙ্গে। অস্ত্রধারী হাজার হাজার লোক চারদিক থেকে ঘিরে ধরে নতুন বাজারে অবস্থান নেয়া পুলিশ সদস্যদের। পুলিশের অস্ত্র তখন কেড়ে নিতে চায় এবং থানার ওসিসহ ১৫/২০ জন পুলিশ সদস্যকে ইটপাটকেল দ্বারা আঘাত করে। থানার তিনটি মোটর সাইকেল পুড়িয়ে দেয়। এ সময় পুলিশ টিয়ার সেল, ফাঁকা গুলি করেও তাদের ফেরাতে পারেনি। এক পর্যায়ে হরতালকারীদের হামলায় পুলিশ টিকতে না পেরে দৌড়াতে থাকে থানার দিকে। পেছন থেকে ধাওয়া করতে থাকে পুলিশদের। পুলিশ তখন বাধ্য হয় গুলি ছুড়তে। ওসি (তদন্ত) মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, তখন আমাদের ৬শ গুলি ফুরিয়ে গেলে মানিকগঞ্জ সদর থেকে আরো পুলিশ এবং র্যাব আসলে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে এ্যাকশনে গেলে ওরা পিছু হটে। এ সময় নিহত এবং আহতের ঘটনা ঘটে।
সিংগাইর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুশফিকুর রহমান খান হান্নান বলেন, গোবিন্ধল গ্রামের নেতৃত্বে স্থানীয় ব্যক্তিরা নিজেদের প্রভাব খর্ব হওয়ার ভয়ে কখনই চান না গ্রামের মানুষ আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে উঠুক। যে কারণে এ গ্রামটিতে প্রায় ২৪ হাজার মানুষ বসবাস করলেও আজো কোন হাই স্কুল গড়তে দেয়া হয়নি। অথচ মাদ্রাসা আছে ২৪টি। আধুনিক শিক্ষার তেমন প্রসার না ঘটায় গ্রামের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ আজও ধর্মান্ধ এবং বেশির ভাগই স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াত শিবিরের কর্মী।
এদিকে এ ঘটনায় সিংগাইর থানা পুলিশ ৫০/৬০ নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয়ে প্রায় ৪ হাজার লোককে আসামি করে ২টি মামলা করেছে। দোকানপাট ভাংচুর, মারধর ও লুটপাটের ঘটনায় শতাধিক লোককে আসামি করে আরো ৪টি মামলা করেছে ক্ষতিগ্রস্তরা। এ পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেফতার করে সোমবার ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ। তবে নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও কোন মামলা হয়নি।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান দেওয়ান মাহবুবুর রহমান মিঠু অভিযোগ করে বলেন, পুলিশ ইচ্ছে করেই আমাদের গ্রামে গুলি চালিয়ে নিরীহ লোকদের হত্যা করেছে। আবার পুলিশই বাদী হয়ে মামলা করেছে। আমরা থানায় যেতে পারছি না মামলা করেতে।
মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আলী মিয়া বলেন, পুলিশ ও আওয়ামী লীগ কর্মীরা মাদ্রাসায় হামলা চালাবে এমন মিথ্যে কথা মাইকে প্রচার করে একটি মহল সাধারণ মানুষকে উসকে দিয়েছে। এদের খুঁজে বের করা হবে এবং ভিডিও ফুটেজ দেখেই প্রকৃত দোষীদের গ্রেফতার করা হবে।
