সরকার বন্ড কিনতে বাধ্য করায় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বিপুল টাকা এ খাতে আটকে গেছে। অন্যদিকে সরকারকে দীর্ঘ মেয়াদি ঋণের যোগান দিতে গিয়ে লাভজনক খাতে বিনিয়োগ করতে পারছে না ব্যাংকগুলো।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ব্যাংকিং খাতে ৫২ হাজার কোটি টাকার উদ্বৃত্ত তারল্য বা অলস টাকা রয়েছে। এর মধ্যে ৪০ হাজার কোটি টাকাই সরকারের কোষাগারে আটকে গেছে। অর্থাত্ এ ৪০ হাজার কোটি টাকার সমমূল্যের বিভিন্ন মেয়াদি বন্ড রয়েছে। কিন্তু হাতবদল না হওয়ায় এসব বন্ড এখন ব্যাংকের কাছে কাগুজে মুদ্রা হিসেবে পড়ে রয়েছে। দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে এসব বন্ড বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে বন্ধক রেখে ধার নিচ্ছে। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি কয়েকটি ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা ধার নিয়েছে। এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ব্যাংকগুলোর সুদ গুণতে হচ্ছে সাড়ে ১০ শতাংশ পর্যন্ত। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, বাজেট ঘাটতি মেটাতে ব্যাংকিং খাত থেকে যে পরিমাণ ঋণ নেয়া হচ্ছে তার প্রায় ৮০ ভাগই হচ্ছে দীর্ঘ মেয়াদি। মূল্যস্ফীতি, ব্যাংকের পরিচালন ব্যয় ও আমানত সংগ্রহ করতে ব্যাংকের যে পরিমাণ ব্যয় হচ্ছে, সরকারের ঋণ দিয়ে আয় হচ্ছে অনেক কম। এক হিসেবে প্রতি ১০০ টাকা সরকারের ঋণ দিতে ব্যাংকের বাড়তি যাচ্ছে ৬ টাকা।
ব্যাংকাররা মনে করেন, ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ নেয়ার ধারা অব্যাহত থাকলে আগামীতে দেশের ব্যাংকিং খাত গভীর সংকটের মুখে পড়তে পারে। কেননা তাদের যে পরিমাণ সম্পদ থাকবে তা ক্ষয় হতে থাকলে ভবিষ্যতে বিনিয়োগ সক্ষমতা কমে যাবে। আমানতকারীদের আমানত ফেরত দেয়া কষ্টকর হয়ে পড়বে যা ব্যাংকিং সেক্টরের জন্য ভাল হবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সরকারের কোষাগারে ব্যাংকের এখন ৮০ হাজার কোটি টাকার বিল ও বন্ড রয়েছে। এর মধ্যে ৪০ হাজার কোটি টাকার বিল ও বন্ড আছে উদ্বৃত্ত যা ব্যাংকের হিসেবে নগদ হিসেবে বিবেচনা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসেবে দেখানো হচ্ছে ৫২ হাজার কোটি টাকার উদ্বৃত্ত তারল্য রয়েছে ব্যাংকিং খাতে। এর মধ্যে ৭ হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা রয়েছে। বাকি ৬ হাজার কোটি টাকা রয়েছে ব্যাংকগুলোর নগদ সংরক্ষণ অর্থাত্ সিআরআর’র বিপরীতে অতিরিক্ত মজুদ। বাকি ৪০ হাজার কোটি টাকাই রয়েছে বিভিন্ন মেয়াদি বন্ড। বাকি ৪০ হাজার কোটি টাকাই বিল ও বন্ড, যা সরকারের কোষাগারে আটকে পড়েছে।
কয়েকজন ব্যাংকার জানান, সরকার ব্যাংক থেকে কম সুদে ঋণ নিলেও আমানত সংগ্রহ করে বেশি সুদে। এতে ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে। আবার বন্ড মার্কেট চাঙ্গা না হওয়ায় সরকারি বিল ও বন্ড হাতবদল করা যাচ্ছে না। তাদের মতে, ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ নেয়া যতই বাড়বে ব্যাংকের সংকট ততই ঘনীভূত হবে। এতে ব্যাংকের বিনিয়োগ সক্ষমতা কমে যাবে। ক্ষতিগ্রস্ত হবে বেসরকারি খাত।
