বান্দরবানে শিমের বাম্পার ফলনে কৃষক খুশি

আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:৫১
শিমের বাম্পার ফলনে বান্দরবানে হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে। প্রতিদিন জেলার সবজি ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত সুয়ালক, মাঝেরপাড়া, গোয়ালিখোলা, কদুখোলা, রেইছা, বালাঘাটাসহ বিভিন্নস্থান থেকে ট্রাক-পিকআপে পাইকারি ব্যবসায়ীরা শিম নিয়ে যাচ্ছেন চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে চলতি মৌসুমে পাহাড়ী জেলা বান্দরবানে শিমসহ শীতকালীন সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বান্দরবান জেলায় প্রায় দুইশ ৬০ হেক্টর জমিতে দেশি জাতের শিম চাষ হয়েছে। হেক্টরপ্রতি গড়ে ১১ দশমিক ২ টন শিম উত্পাদিত হয়েছে। যেখানে গতবছর জেলায় দুই হাজার নয়শ টন শিম উত্পাদিত হয়েছিল। স্থানীয় বাজারগুলোতে শিমের চাহিদাও রয়েছে প্রচুর, দামও বেড়েছে গত বছরগুলোর তুলনায় বেশি। স্থানীয় বাজারগুলোতে প্রতিকেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ৩০/৩৫ টাকায়। গোয়ালিখোলার শিমচাষি নূরুল ইসলাম এবং মাঝেরপাড়া থোয়াইচা মং মারমাসহ চাষিরা জানান, শিমের ভালো ফলন হয়েছে এবার, দামও পাচ্ছি। গত কয়েক বছরের তুলনায় শিম বিক্রি করে এবছর আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন কৃষকরা। স্থানীয় বাজারগুলোর চাহিদা মিটিয়ে পাহাড়ের শিম চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্নস্থানে গাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। চাহিদা থাকায় আগামীতে এই অঞ্চলে শিমের চাষ আরো দ্বিগুণ হবে বলে জানান চাষিরা। কৃষি ঋণ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে হয়রানি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তারা। কৃষি বিভাগের মতে, লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও অনেক বেশি শিম উত্পাদিত হয়েছে চলতি মৌসুমে। শিমসহ শীতকালীন সবজি চাষ করে জেলার গোয়ালিখোলা এবং মাঝেরপাড়ায় চাষিদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। এখানকার উত্পাদিত শিম জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্নস্থানে রপ্তানি করা হচ্ছে। লাভজনক শিম চাষ এখন বান্দরবানে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। শীতকালীন সবজির মধ্যে চাষিরা শিম চাষের দিকেই বেশি ঝুঁকছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের শস্য উত্পাদন বিশেষজ্ঞ আলতাফ হোসেন জানান, স্বল্প খরচে শিম চাষ করে চলতি মৌসুমে চাষিরা লাভবান হয়েছেন। শিমসহ সবজি চাষ বাড়াতে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ এবং সহযোগিতাও দেয়া হচ্ছে।