সনাতন চুলায় রান্না করেছেন দীর্ঘদিন। কিন্তু ৬৫ বছর বয়সে হাসনা বেগম আজ নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিয়েছেন। পরিবারের আট সদস্যের রান্নার জন্য তিনি এখন বায়োগ্যাসের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল। শুধু হাসনা বেগমই নন, ময়মনসিংহের ত্রিশালের অনেকেই এখন তিন বেলা রান্নার কাজটি সম্পন্ন করেন নবায়ানযোগ্য জ্বালানি বায়োগ্যাস দ্বারা। হাসনা বলেন, বায়োগ্যাস জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের ফলে হাঁড়ি-পাতিল কালো হয় না। ঘরে ঝুল পড়ে না। রান্না-বান্নার সময় ও শ্রম কম লাগে।
বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) জ্বালানি গবেষণা ও উন্নয়ন ইন্সটিটিউট (আইএফআরডি)-এর গবেষকগণ এদেশের উপযোগী স্থিরডোম ও ভাসমান ডোমের বিভিন্ন মডেল ও সাইজের বায়োগ্যাস প্লান্ট প্রযুক্তির উদ্ভাবন করেছেন। এসব প্লান্টে যে কোন পচনশীল জৈব পদার্থ যেমন- গোবর, হাঁস-মুরগীর বিষ্ঠা, মলমূত্র, আবর্জনা, কচুরিপানা, লতাপাতা, কৃষিজ বর্জ্য ইত্যাদি বাতাসের অনুপস্থিতিতে পচানোর ফলে যে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি গ্যাস উত্পন্ন হয় তাকে বায়োগ্যাস বলা হয়। শুধু বায়োগ্যাসই নয়, সরকারি এ প্রতিষ্ঠানটি উন্নত প্রযুক্তির চুলাও উদ্ভাবন করেছে। বর্তমানে আইএফআরডি পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে প্রায় ১০ কোটি টাকার একটি পাইলট প্রকল্প গ্রহণ করে। এসব প্রকল্প ময়মনসিংহ, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, নওগাঁ, দিনাজপুর, সাতক্ষীরা ও কুমিল্লাতে বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পের অধীনে ২ হাজার ৮০০ টি পারিবারিক বায়োগ্যাস প্লান্ট ও ২৮ হাজার উন্নত চুলা স্থাপনের কাজ করছে।
বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুরোপুরি এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্লান্টের মাধ্যমে প্রতিবছর প্রায় ৪২ হাজার ৫৫০ টন কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমন হ্রাস পাবে। সাশ্রয় হবে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪০০ মণ জ্বালানি (বায়োমাস) ও ৪৯ হাজার ৫২৬ টন জৈব সার উত্পাদিত হবে। যা থেকে প্রতি বছর প্রায় ৩৬ কোটি টাকা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিসিএসআইআর-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আহম্মদ ইসমাইল মোস্তফা ইত্তেফাককে বলেন, এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলে একদিকে যেমন নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে ক্রমবর্ধমান জ্বালানির চাহিদা হ্রাস পাবে অন্যদিকে গ্রীন হাউজ গ্যাস নির্গমন হ্রাসের ফলে জলবায়ু পরিবর্তনরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
প্রকল্প পরিচালক গবেষক মোহাম্মদ শাহ জামাল বলেন, সারাবিশ্বে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের মাধ্যমে বৈশ্বিক উষ্ণতা হ্রাস ও বনজ সম্পদ রক্ষা তথা পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী।
