যোগের মাধ্যমে আপনার শক্তির দিগন্ত প্রসারিত করুন

আপডেট : ০৪ মে ২০১৯, ২১:৩৪

আমরা যখন বলি ‘যোগ’, তখন আপনাদের অনেকেই সম্ভবত দুঃসাধ্য কোনো শারীরিক কসরতের কথা ভেবে বসেন। আমরা কিন্তু সেরকম কিছুকে ‘যোগ’ বলি না ।

যোগ বলতে বোঝায়— একটি নিখুঁত লয়ে চলে আসা। যখন আপনি ‘যোগ’-এ সমর্পিত— আপনার শরীর, মন, আত্মা এবং অস্তিত্ব এক নিখুঁত ঐকতানে একাকার হয়ে যায়। যোগ আপনাকে পরিশোধন করে সূক্ষ্মতার এমন একটি স্তরে নিয়ে যায়, যেখানে আপনার ভেতরের সবকিছুই খুব সুন্দর ভাবে কাজ করে। তখন আপনার ক্ষমতার সেরাটুকু এমনিই বেরিয়ে আসে বা আসবে। আপনি আনন্দে থাকলে, আপনার প্রাণশক্তিও ভালোভাবে কাজ করে। লক্ষ করেছেন কি, আপনি যখন আনন্দে থাকেন, আপনার মধ্যে তখন অফুরন্ত প্রাণশক্তি থাকে। এমনকী তখন কিছু না খেলে বা না ঘুমোলেও আপনি সাবলীলভাবে কাজ চালিয়ে যেতে পারেন। অর্থাত্ স্রেফ সামান্য একটু আনন্দই শক্তি ও কর্মক্ষমতার সীমাবদ্ধতা থেকে আপনাকে মুক্তি দিতে পারে।

যোগ হলো মানুষের ভেতরের প্রাণশক্তিকে এমনভাবে সক্রিয় করে তোলার বিজ্ঞান যা আপনার শরীর, মন ও আবেগকে সর্বোচ্চ স্তরে উন্নীত করে। আপনার শরীর ও মন যখন সেই প্রশান্তি ও সেই পরম সুখের মধ্যে থাকে, তখন অসংখ্য মানুষ যে সমস্ত কারণে কষ্ট পাচ্ছে, আপনি সেগুলো থেকে নিজেকে সহজেই মুক্ত রাখতে পারেন বা পারবেন।   

যোগের আরও অনেক দিক বা মাত্রা রয়েছে। প্রাণশক্তি পূর্ণমাত্রায় সক্রিয় করা গেলে আপনার কাজকর্মেও এক ভিন্ন ধারার প্রকাশ ঘটে। এই যে এখন আপনি এখানে বসে আছেন, নিজেকে আপনি একজন ব্যক্তি হিসেবে ভাবছেন— আপনার কিন্তু নানা রকমের পরিচয় রয়েছে। কিন্তু আপনি যাকে ‘আমি’ বলে মনে করেন, তা হলো আসলে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ শক্তি।

আধুনিক বিজ্ঞানের মতে, পুরো অস্তিত্বই হলো শুধু শক্তি, আলাদা আলাদাভাবে যা নিজেকে প্রকাশ করছে। তা-ই যদি হয়, তবে আপনি নিজেও ক্ষুদ্র একটি শক্তিই, যা শুধু একটু বিশেষভাবে কাজ করছে। বিজ্ঞানের ধারণাটুকু মানতে হলে এই যে শক্তিকে আপনি ‘আমি’ বলছেন, সেই একই শক্তি এখানে থাকা একটি পাথরও হতে পারে, কিছুটা কাদা হয়েও পড়ে থাকতে পারে, গাছ হয়ে মাথা তুলতে পারে, কুকুর হয়ে ডাকতে পারে কিংবা আপনার মতোই এখানে বসে থাকতেও পারে। সবই সেই একই শক্তি, শুধু সক্ষমতার আলাদা আলাদা স্তরে কাজ করে চলেছে তারা।

যদিও সব মানুষ একই প্রাণশক্তি দিয়ে গড়া, তবুও আমাদের কাজকর্মের সক্ষমতার স্তর এক নয়। আপনারা যাকে ক্ষমতা বা দক্ষতা বলেন, যাকে বলেন আপনার সামর্থ্য বা সৃজনশীলতা, আসলে তা আপনার প্রাণশক্তির কাজ করারই এক বিশেষ ধরন। তাই আপনার প্রাণশক্তিকে যদি সামান্যও আয়ত্তে আনতে পারেন, দেখবেন, যা আপনি জীবনেও সম্ভব বলে ভাবেননি, কত সহজ ও স্বাভাবিকভাবেই তা করতে পারছেন। যারাই যোগের অনুশীলন শুরু করেছেন, এ অভিজ্ঞতা তাদের সকলেরই হয়েছে। এ এক অন্তর্লোকের প্রযুক্তি, যা দিয়ে পরিস্থিতিকে যেমন ইচ্ছা তেমনভাবে তৈরি করে নেওয়া যায়।  

শরীরের এই প্রাণশক্তিকে কীভাবে উন্নত সম্ভাবনার কাজে ব্যবহার করা যায়, তা নিয়েই একটা গোটা প্রযুক্তি রয়েছে। প্রতিটি মানুষেরই তা খুঁজে দেখা ও জানা উচিত। নইলে জীবন অনেকটাই সীমিত হয়ে যায়। হয়ে দাঁড়ায় আকস্মিক কিছু ঘটনার সমষ্টি মাত্র। তখন আপনি যতটুকু সুযোগ পান, শুধুমাত্র সেটুকুই করেন। অথচ একবার আপনার অন্তরের প্রাণশক্তিকে সক্রিয় করা গেলে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি ক্ষেত্রেও আপনার সক্ষমতার বিকাশ ঘটে। ‘যোগ’ হলো জীবনকে চূড়ান্তভাবে প্রকাশ করার এক উপায়।

n সৌজন্যে :ঈশা ফাউন্ডেশন