রাঙ্গামাটিতে স্ট্রবেরি চাষে নতুন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। রাঙ্গামাটি শহরের নতুন পুলিশ লাইন সুখী নীলগঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকায় জেলা পুলিশের তত্ত্বাবধানে সুস্বাদু স্ট্রবেরির পরীক্ষামূলক চাষে সফলতা আসায় পার্বত্য অঞ্চলে স্ট্রবেরি চাষে অনেকে উদ্বুদ্ধ হবেন বলে মনে করছেন স্থানীয় কৃষিবিদরা। অন্যান্য ফলের পাশাপাশি এবার স্ট্রবেরি চাষে সফল হয়েছে রাঙ্গামাটি পুলিশ বিভাগ। স্ট্রবেরি চাষের সম্ভাবনাকে ব্যাপকভাবে কাজে লাগানোর জন্য আগামীতে সুখী নীলগঞ্জ এলাকায় বড় আকারে বাগান করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন রাঙ্গামাটি সদরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আশরাফুজ্জামান।
তিনি বলেন, পাহাড়ে স্ট্রবেরি চাষের সম্ভাবনাকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিতে উদ্যোগী হচ্ছে রাঙ্গামাটি পুলিশ বিভাগ। পুলিশ বিভাগের সিনিয়র অফিসাররা বলেন, স্ট্রবেরি চাষের সম্ভাবনাকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে তা রপ্তানি করা সম্ভব। তাছাড়া এখানে অন্যান্য নতুন নতুন ফলের উত্পাদনের জন্যও নেয়া হচ্ছে বিভিন্ন উদ্যোগ। রাঙ্গামাটি কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের পরামর্শে ও পুলিশ বিভাগের সুষ্ঠু তত্ত্বাবধানের কারণে সুখী-নীলগঞ্জ এলাকায় ২৫০ গাছের চারা দিয়ে স্ট্রবেরির পরীক্ষামূলক চাষ শুরু হয়। এতে স্ট্রবেরির ফলন ভাল হওয়ায় কৃষিবিদরা মনে করছেন পার্বত্য অঞ্চলের আবহাওয়া স্ট্রবেরি চাষের জন্য যথেষ্ট উপযুক্ত। এ বিষয়ে রাঙ্গামাটি সদরের উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মোঃ হারুনুর রশীদ ভুঁইয়া বলেন, পুলিশ সুপারের পরামর্শক্রমে সুখী নীলগঞ্জ এলাকায় স্ট্রবেরির ২৫০টি চারা লাগিয়ে পরীক্ষামূলক চাষ করা হয়, এতে আশানুরূপ ফল পাওয়া গেছে। যে ফলন পাওয়া গেছে তা অবাক করার মতো, ব্যাপক হারে এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো গেলে রাঙ্গামাটিতে স্ট্রবেরির চাষ অনেক দূর এগিয়ে নেয়া সম্ভব বলে তিনি জানান।
রাঙ্গামাটির তত্কালীন পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবীরের উদ্যোগে সুখী নীলগঞ্জ এলাকায় বিশাল এলাকা জুড়ে এখানে গড়ে তোলা হয় বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ, বনজ, ওষুধিসহ বিভিন্ন বাগান। পুলিশ বিভাগের সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টায় হাঁটি হাঁটি করে সুখী নীলগঞ্জ এখন সবুজের সমারোহে ভরপুর। রাঙ্গামাটি পুলিশ বিভাগের ৩৩ একর জায়গাজুড়ে গড়ে উঠা মিশ্র বিশাল এই বাগানের সফলতা দেখে অনেকে তা দেখতে সুখী নীলগঞ্জে যাচ্ছেন, তাদের পরামর্শ নিচ্ছেন। এলাকাটি দেখতে যাচ্ছেন পর্যটকরাও।
