টেলিফোনে পাঠকের মতামত

নতুন প্রজন্মের আন্দোলন :প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ

আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:১১
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নতুন প্রজন্ম আন্দোলন সম্পর্কে অত্যন্ত যৌক্তিক একটি মন্তব্য করেছেন। এক্ষেত্রে আমার মতামত হয়তো নিতান্ত গৌণ হতে পারে। গণআন্দোলনের গণদাবি ছিল রাজাকারদের ফাঁসি এবং তা ছিলো সরকার ও বিচার বিভাগের কাছে। আন্দোলনের উদ্দেশ্য ভিন্নখাতে না যাওয়ার জন্য এবং দেশের আইন শৃঙ্খলা রক্ষার খাতিরে জনদুর্ভোগ কমার জন্য প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। আমার বিশ্লেষিত মতামত যদি দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, দুর্নীতি, মাদকের বিরুদ্ধে আওয়াজ ওঠে তাহলে হয়তো শাহবাগের আন্দোলন স্থায়ীরূপ লাভ করে অন্য কোনরকম ঘটনা ঘটে যাওয়া মোটেও অস্বাভাবিক নয়। যদি এমন হতো দেশের প্রয়োজনীয় ও যুক্তিসঙ্গত দাবিগুলো নিয়ে নিঃস্বার্থ নির্দলীয়ভাবে কেউ আন্দোলনের নেতৃত্বে এগিয়ে আসতো তাহলে আন্দোলন থেকে দেশ কিছু পেতো। সাধারণ মানুষ কিছুটা হলেও বুঝতো মানুষের মাঝে আজো দেশপ্রেম আছে। মো. কাদিউল ইসলাম সহকারী শিক্ষক, আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ, মতিঝিল, ঢাকা ষড়যন্ত্র ষড়যন্ত্র ষড়যন্ত্র— সেই মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র আর এই স্বাধীন বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, গভীর ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে ঐ স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি জামায়াত-শিবির। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে জনগণের ভোটে নির্বাচিত ঐতিহ্যবাহী গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে জনগণের উদ্দেশ্যে উন্নয়নের জন্য কাজ করছে। সেইসাথে আটক রাজাকারদের বিচার প্রক্রিয়ার যখন ত্বরান্বিত করছে তখন বিরোধী দল বিএনপি জামায়াতকে উসকে দিয়ে সারা দেশে অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি করছে, গভীর ষড়যন্ত্র করছে বলে জনগণ প্রধানমন্ত্রীর সাথে ঐকমত্য পোষণ করছে। ষড়যন্ত্রকারী ধ্বংসাত্মক দেশবিরোধী বিএনপি, জামায়াত জনগণ বর্জন করেছিল। শান্তি প্রিয় জনগণ কখনও সাম্প্রদায়িক শক্তিকে দেখতে চাইছে না। ষড়যন্ত্রকারী যুদ্ধাপরাধীরা যতই ষড়যন্ত্র করুক জনগণ প্রতিহত করবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়। ফারুক আহমেদ বাগমারা, রাজশাহী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে পরামর্শ দিয়েছেন সেটার সাথে আমার দ্বিমত রয়েছে। এই আন্দোলনের স্থানকে পরিবর্তন না করে এখান থেকে ইস্তফা দিয়ে দেওয়াই ভালো। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই। তবে এককভাবে নয়। দলবল নির্বিশেষে বিচার প্রক্রিয়া করতে হবে। আমরাও চাই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার । মো. মনির হোসেন দুলাল লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী আন্দোলনের সূত্রপাত হয় মহত্ উদ্দেশ্য নিয়ে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় কিছু কিছু মহল ও ব্যক্তি তা অন্যখাতে নেয়ার চেষ্টা করে। ফলে মূল উদ্দেশ্য থেকে যায় পেছনে। তাই আমার অনুরোধ প্রধানমন্ত্রী তার পিতার মত একক সিদ্ধান্তে এর সুফল ঘরে তুলে নেবেন। এম মতিউর রহমান ৫/এ, আমিনাবাদ কলোনী, ৬৫/৫৭ সিদ্ধেশ্বরী রোড, ঢাকা ১২১৭ আমাদের দেশটা নানা ঢংয়ে রাজনীতিতে যে যায় মতে চালাছে। একদিন দেখা যাবে যে, শুভঙ্করের ফাঁকি। ফলে ১৬ কোটি জনগণের শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা ঘোলা জলে ডুবে যাবে। ফওজিয়া মুন্নী পল্লবী, মিরপুর, ঢাকা ১২১৬ অন্যায়ের বিচার চাইলে মানুষ নাস্তিক হয়ে যায় না। নব প্রজন্মের প্রতিবাদের দাবি দেশে ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সকল সুস্থ মানুষেরই কাম্য। নব প্রজন্মের দাবি উদার রাজনীতি প্রতিষ্ঠা হোক। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কঠোর হস্তে দুর্নীতি, সন্ত্রাস, অন্যায় দমন করতে পারে। বিচার বিভাগই প্রধানমন্ত্রীর সকল ইচ্ছা পূরণ করতে পারে। নতুন প্রজন্ম মেষপাল। তার ভেতর যদি হিংস বাঘ লুকিয়ে থাকে তাহলে নিরস্ত্র জনগণ কিভাবে প্রতিবাদ করবে বা আন্দোলন করবে। প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রীপরিষদ শিশু আইন প্রতিষ্ঠা করেছেন। আইনটি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করলে নবপ্রজন্মের নিরাপত্তার শক্তি বাড়বে। সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবের জন্য নবপ্রজন্মকে গঠন করতে হবে। কথায় আছে ‘ভণ্ড না শোনে ধর্মের কাহিনি’। বাংলাদেশের কুচক্রী মহল ভণ্ডামিতে পারদর্শী বলেই দেশের স্বাধীনতা অর্জনের পরেও নবপ্রজন্মকে শাহবাগে প্রতিবাদী মঞ্চ করতে হয়েছে। আশা এলিজাবেত গোমেজ লক্ষ্মীবাজার, ঢাকা ১১০০ বর্তমানে শাহবাগ চত্বরের আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী যাতে দায়িত্ব বজায় রেখে কৌশলের সঙ্গে সহিংসতা প্রতিরোধ করার দক্ষতা দেখাতে পারে সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। মো. হানিফ মিয়া, ধানমন্ডি, ঢাকা রাজনৈতিক সংঘর্ষে অস্থিরতায় দেশের অর্থনীতি বিপন্ন হয়ে পড়ছে। আমরা চাই সবকিছুর শেষ ভালো। মুন্সী মোহাম্মদ ওয়াহিদ উল্লাহ মিরপুর ১, ঢাকা ১২১৬ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে মন্তব্যটি করেছেন তার সঙ্গে আমরা একমত। কারণ এই গণজাগরণ ভাঙার জন্যে জামায়াত ও কিছু মহল ষড়যন্ত্র করছে। যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির এই গণজাগরণের একমাত্র উদ্দেশ্য, অন্য কোন উদ্দেশ্য তাদের নেই। শিবির কর্মীরা ধর্মের নামে অপবাদ দিয়ে এই ঘটনাগুলো ঘটাচ্ছে যাতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না হয়। মো. খায়রুল ইসলাম, ঘাটাইল, টাঙ্গাইল আমরা আর কোন কথা বুঝি না, একটাই কথা বুঝি- রাজাকারের ফাঁসি চাই। এদেশে রাজাকার যেন না থাকে সেটা দেখতে চাই। রাজিয়া খাতুন ২৫ আবুল খায়রাত রোড, তারা মসজিদ, ঢাকা শাহবাগে তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনকে নিয়ে যে ষড়যন্ত্র করছে তার সাথে একমত পোষণ করছি। তবে আন্দোলন যেভাবে চলছে সেটা যেন কোন কুচক্রী মহলে না চলে যায় সে বিষয়ে আন্দোলনকারীদের খেয়াল রাখতে হবে। পারভীন সুলতানা আরামপুর, ঝিনাইদহ নতুন প্রজন্মের আন্দোলন, প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শের সাথে একমত পোষণ করছি। শাহবাগের এই আন্দোলনকে জাগ্রত রাখতে ও সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষার জন্য সে বিষয়ে শাহবাগের আন্দোলনকারীদের কোনক্রমেই ভুলে গেলে চলবে না। শিশির পিলখানা, ঢাকা শাহবাগের তরুণ প্রজন্মের চলমান এই আন্দোলনকারীদের অবশ্যই তাদের নিরাপত্তার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। অন্যদিকে জনগণকে কোনরকম অসুবিধায় না ফেলে তাদের সুবিধার্থে কী করা যায় সেটা ভাবতে হবে। মেজবাহ উদ্দিন সেলিম শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত। শাহবাগে নতুন প্রজন্মের আন্দোলন সত্যি এক ইতিহাস রচনা করেছে। এই গণজাগরণ সবাইকে নতুন করে জানতে শিখিয়েছে। গত ৫ ফেব্রুয়ারি শাহবাগ চত্বরে যে আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল আজ মার্চ প্রায় ১ মাস হতে চলেছে এ আন্দোলনকে নানা মহল নানাভাবে প্রভাবিত করছেই। তাই আন্দোলনকারীদের সজাগ থাকতে হবে ও পাশাপাশি জনগণের কষ্টের কথা ভাবতে হবে। আমরা চাই তরুণ প্রজন্মের শাহবাগের এই আন্দোলন বাস্তবে রূপায়িত হোক। এস কে মোহাম্মদ রমিজ উদ্দিন শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে সব রাজনৈতিক দল এবং সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠন সংঘাতের বদলে সমঝোতার বিষয়ে যদি তরুণ প্রজন্ম তৈরি করতে পারে তাহলে হবে সবচেয়ে মূল্যবান বিষয় সেটা। মো. মোজাহারুল ইসলাম সাভার, ঢাকা নতুন প্রজন্ম নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন তার সাথে আমি একমত। কোন উস্কানি বা আবেগের বশবর্তী হয়ে তরুণ-প্রজন্মের বক্তব্য বা মন্তব্য দেয়া ঠিক হবে না; যাতে সামগ্রিক পরিস্থিতিকে আরো উস্কে দিতে পারে। এ বিষয়ে সবাইকে খেয়াল রাখার জন্য তিনি নির্দেশনা দেন। তবে সবকিছু যাতে তাড়াতাড়ি সমাধান হয় সেদিকেও সবার নজর দেয়া দরকার। আবদুল মালেক মিয়া মিরপুর ১, ঢাকা ১২১৬ শাহবাগ আন্দোলনের তরুণ প্রজন্ম শাণিত কণ্ঠে বলছে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে। যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবি জানানো হচ্ছে। তবে এ আন্দোলনের মাধ্যমে যাতে সুষ্ঠুভাবে সমাধান হয় সেটা আমরা আশা করছি। কাউসার আকন্দ মতিঝিল, ঢাকা আমার অভিমত নতুন প্রজন্মের আন্দোলন ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দিতে হবে কেন? অসত্ উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য বর্তমান এই আন্দোলনের বিষবৃক্ষ রোপণে যারা সহায়তা করেছে তাদেরকেও বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিলেই তো সব লেঠা চুকে যায়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে কুচক্রী মহলের কথা বলেছেন সেই কুচক্রী মহল সরকারি, পাবলিক, বিরোধী সকল দলেই বিদ্যমান। এমন ইঙ্গিত যদি তিনি দিয়ে থাকেন তবে তার জন্য আমাদের সকলের হূদয় নিংড়ানো ভালোবাসা থাকবে। আর নতুন প্রজন্মের কাছে আমাদের অনুরোধ প্রতিহিংসামূলক এবং অসত্ রাজনৈতিকদের দুই প্রধান নেত্রীকে শাহবাগ চত্বরে চায়ের দাওয়াত দিয়ে নিয়ে এসে মিলিয়ে দেওয়া। নতুন প্রজন্ম যদি এ অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারে তবে এটিও হবে তাদের আরেকটি মহত্ কাজ। তাই শাহবাগ চত্বরে আরেকটি স্লোগান হোক— “দুই নেত্রী আসো— দেশকে ভালোবাস, নইলে বুঝবে ঠেলা, আমরা আর নই একলা”। মো. লুত্ফর রহমান এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা শাহবাগসহ সারা দেশে গণজাগরণে মঞ্চে দেশের তরুণ প্রজন্মের কথা জানিয়েছেন সেটার সাথে আমি একমত। তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যা বলেছেন যে নতুন প্রজন্মের আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য কুচক্রিমহল নানাভাবে ষড়যন্ত্র করছে। সুতরাং আন্দোলনকারীদের সেদিকে সদা সতর্ক থাকতে হবে। মাসুম আহাম্মদ যাত্রাবাড়ি, ঢাকা ১৩৬২ শাহবাগে প্রজন্ম চত্বরে তরুণদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া অভূতপূর্ব গণজাগরণ সবাইকে উজ্জীবিত করেছে। তাদের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করছি। তবে এই আন্দোলন থেকে যাতে কোন রকম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয় সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। জাহাঙ্গীর খান বাবু সিরাজদিখান, মুন্সীগঞ্জ শাহবাগের তরুণ প্রজন্মের যে আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে সেটার সাথে সম্মতি প্রকাশ করছি। তবে এই আন্দোলনকে বেগবান করতে হবে। ফারুক মালিবাগ, ঢাকা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে সরকার বদ্ধপরিকর। যত প্রতিকূলতাই আসুক না কেন এ বিচার সম্পন্নে তিনি জাতির কাছে অঙ্গীকারবদ্ধ। এটার সাথে আমরাও একমত। তবে সাধারণ মানুষের যাতে কোন রকম দুর্ভোগ পোহাতে না হয় সেদিকে নজর দিতে হবে। মুজিব, উত্তরা, ঢাকা প্রথমবারের নতুন প্রজন্মের গণজাগরণ আর বর্তমান গণআন্দোলন আসলে কিন্তু ভিন্নরূপ ধারণ করছে। দিন দিন এর স্থায়িত্ব বৃদ্ধিও পাচ্ছে। ফলে অতীতের মতো আমাদের দেশে এই সুন্দর শান্তিপ্রিয় মানুষকে দাবি দাওয়ার কথা বলে উস্কানি দেওয়া হচ্ছে। কেননা সাধারণ মানুষ মসজিদ, মন্দির তথা উপাসনাগারে যেতে ভয় পাচ্ছে। কারণ আন্দোলন মানেই একটা বড় ধরনের প্রতিবাদ। ন্যায় ও অন্যায়ের পথ বেছে নেওয়া। এ ক্ষেত্রে বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বলছি উনি এর দ্রুত সমাধানের জন্য একটা বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। তা-না হলে কুচক্রী মহল তো এ আন্দোলনকে দীর্ঘায়িত করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাবে। ফলে দেশের সম্পদ এবং জনগণের জীবন বিনষ্ট হবে বলে। আন্দোলনকারীদের হাতে তো আর কোন আধুনিক অস্ত্র-শস্ত্র নেই যে, শত্রুদের আক্রমণ প্রতিহত করতে পারবে। কাজেই এখনও সময় আছে এদেশকে গৃহযুদ্ধের হাত থেকে রক্ষা করার সুব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। আলহাজ মো. হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী (হিফজু) হাউজিং স্টেট, রাজশাহী ৬২০২ নতুন প্রজন্মের আন্দোলনকারীদের কাছে অভিমত হচ্ছে এ আন্দোলনকে প্রকৃত চালিকাশক্তিতে যথাযথভাবে অনুধাবন করতে হবে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ সবকিছুই দরকার। সৈয়দা নাসরিন সুলতানা স্যানা সাইড, নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র নতুন প্রজন্মের আন্দোলনকে চলমান রাখার স্বার্থে আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তা, পাশাপাশি জনগণকে কষ্ট না দিয়ে আন্দোলনের বিষয়ে চিন্তা করার একটি ক্ষেত্র রচনা হয়েছে বলে আমি মনে করি। তাই আমরা পরামর্শ, ঐ অবস্থাসমূহের আলোকে রাজধানী ঢাকার পল্টন ময়দানে (আউটার স্টেডিয়াম) এবং বাংলাদেশের প্রতি জেলা সদরে স্টেডিয়ামগুলোতে বর্তমান প্রজন্মের চত্বর আন্দোলন আয়োজন এবং চালু রাখা যেতে পারে। একইসাথে পল্টন ময়দান এবং জেলাসদর স্টেডিয়ামগুলোতে আর্চ-ওয়ে গেট নির্মাণের মাধ্যমে আন্দোলনকারী এবং অংশগ্রহণে ইচ্ছুক জনগণের নিরাপত্তার বিধান করা যেতে পারে। এতে করে নব প্রজন্মের আন্দোলনও চলবে এবং তাতে করে জনগণের কষ্ট ও দুর্ভোগ লাঘব হবে বলে আমি মনে করি। নাছির উদ্দিন সিদ্দিকী বাড়ি ৩৬৩, খন্দকার রোড, জুরাইন মাজার শরীফ এলাকা, শ্যাম থানা, ঢাকা ১২০৪ মানবতা বিরোধীদের সর্বোচ্চ সাজার জন্যই এই আন্দোলন। এক্ষেত্রে আন্দোলন শব্দটির একটু ব্যাখ্যা করি। বিগত ৪২ বছরে এ নামে কী দেখেছি? জ্বালাও, পোড়াও, ভাংচুর, মানুষ হত্যা, সম্পদের ক্ষতিসাধন, অফিসগামী মানুষকে অপমান, মানুষকে ভয় দেখিয়ে ঘরে বসে থাকতে বাধ্য করা ইত্যাদি। এতোদিন এগুলোই ছিল বাংলাদেশের চিত্র। কিন্তু প্রজন্ম চত্বর দেখিয়েছে কত পিছিয়ে রয়েছে আমাদের রাজনৈতিক নেতারা। এখনও টকশোতে দেখি সেই নেতারা সূক্ষ্মভাবে শাহবাগের আন্দোলনে বিভিন্ন ত্রুটি ধরার কাজে ব্যস্ত। লজ্জা, লজ্জা, লজ্জা, নিজের পুরো শরীরের গন্ধ— তা না বুঝে মুখে রুমাল দিয়ে ভাবছেন এবং দোষারোপ করছেন এই গন্ধ অন্যের। তারাই আবার জাতির নেতা। পালাক্রমে দেশের পরিচালক। পরিশেষে বলতে চাই রাজনীতি ভালো মানুষের হাতে আসুক। বীজ ভালো হলে চারা ভালো হবেই। হায়দার খিলগাও, তালতলা, ঢাকা তরুণদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শকে অবশ্যই সাধুবাদ জানাই। কারণ প্রকৃতপক্ষে আমাদের সমাজের তরুণরাই শক্তি, তরুণরাই জাতির ভবিষ্যত্। তরুণদের চলমান এ আন্দোলনে যেটুকু সফলতা তার অধিকাংশ এনে দিয়েছে আমাদের সাংবাদিক সমাজ আর মিডিয়া। আমাদের মনে রাখতে হবে শাহবাগের আন্দোলনকারীরা যেন কোনক্রমেই কোন মিডিয়া বা মিডিয়া ব্যক্তিত্বের বিরাগী না হন। হ্যাঁ, তরুণদের এ আন্দোলন অনির্দিষ্টকাল চলতে পারে না। তাই যদি যুদ্ধাপরাধী রাজাকারদের ফাঁসি কার্যকর করার পরেই আন্দোলন শেষ করতে হয় তবে অবশ্যই এখনই দেশে কতজন যুদ্ধাপরাধী বা রাজাকার আছে তা বের করে স্পষ্ট করতে হবে। এ নিয়ে যেন ভবিষ্যতে আর কোন বিভ্রান্তি সৃষ্টি না হয়। আমার মতে তরুণ প্রজন্মের আরও দাবি থাকা উচিত— পদ্মা সেতু, হলমার্ক, ডেসটিনি-২০০০, শেয়ারবাজার, রেলের কালোবিড়ালসহ সকল কেলেঙ্কারির হোতাদেরও এ সাথেই বিচার হওয়া উচিত। বিরোধী দলের মতে সরকারি দলেও যুদ্ধাপরাধী আছে। তাই তাদের বিচারও একসাথেই শেষ করতে হবে। কারণ আগামী নির্বাচনে বিরোধী দল/ অন্য দল সরকার গঠন করে নতুন করে শাহবাগ আন্দোলনের মতো অন্যরূপ আন্দোলন সৃষ্টি করে প্রতিশোধ নিতে যেন না পারে সে সুযোগের ইতি এখনই টানতে হবে। এ মুহূর্তে যা দরকার তা হলো শাহবাগ আন্দোলনকারীরা যেন কোন রাজপথ বন্ধ না করেন। বাস বা জনসাধারণের পথ বন্ধ থাকলে রাজধানী ঢাকাবাসীর কী নিদারুণ কষ্টে পড়তে হয় তা কেবল ভুক্তভোগীরাই হাড়ে হাড়ে টের পেয়ে থাকেন। অতএব আন্দোলন হওয়া উচিত এমন স্থানে যাতে সাধারণ জনগণের কষ্ট বা ক্ষতি না হয়। এম এ সাত্তার খান নানুপুর, চাঁদপুর প্রধানমন্ত্রীর উপলব্ধি এবং পরামর্শ সঠিক। কোনক্রমেই এই আন্দোলনকে ভিন্নমুখি অবস্থানে নেয়া যাবে না। মূলত প্রজন্মের দাবি জনগণের দাবিতে আজ রূপান্তরিত হয়েছে। যে যত কথাই বলুক এ আন্দোলন একচুল পরিমাণও যুদ্ধাপরাধীর বিচার এবং রাজাকারের ফাঁসির বিকল্প কিছুই হতে পারে না। তবে এক্ষেত্রে একটি ব্যত্যয় ঘটে যখন বিষয়টি আইনের মাধ্যমে বিচারকের কাছে যায়। এখানে বিচারকই একমাত্র নিয়ন্ত্রক। সুতরাং বিচারকের বিচার তার দায়িত্বের উপর বর্তায়। আমরা সুস্থ এবং ন্যায়নীতির স্বার্থে বিচারকের উপর নির্ভর করতে চাই। তবে আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণের দাবিও প্রকাশ করা সম্ভব। ওয়াহিদ মুরাদ স্বরূপকাঠি, পিরোজপুর। প্রধানমন্ত্রী যে কথাগুলো বলছেন তা সঠিক। কারণ যতই দিন যাচ্ছে ততই আন্দোলন নিয়ে নানান কথা শোনা যাচ্ছে। তারা তাদের আন্দোলনের বিরুদ্ধে হরতাল করেছে, শহিদ মিনার ভেঙেছে। তাই এই আন্দোলনটা এখন সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে দেয়া উচিত। এমনকি দেশে যে অনিয়ম চলছে এর বিরুদ্ধেও তরুণরা সোচ্চার হবে এই আমরা বিশ্বাস। ফুজায়েল আহমেদ বড়লেখা, মৌলবীবাজার নতুন প্রজন্মের এই আন্দোলনকে সাধুবাদ জানাই। আমাদের দেশের সোনার ছেলেরা এই আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত আমি তাদের কল্যাণ কামনা করি। নতুন প্রজম্মের বন্ধুদের আলোকিত শাহবাগ শুভেচ্ছা। তোমরা এগিয়ে যাও। আমরা আছি তোমাদের সঙ্গে। ডা. মো. হাসনাত আনোয়ার ধানমন্ডি, ঢাকা শাহবাগের নতুন প্রজন্ম যা করছে আমরা মুক্তিযোদ্ধারা তা পারিনি। আমি এক কথাই বলবো ৩০ লাখ শহীদের বিনিময়ে এই দেশে স্বাধীন করেছি। আমরা রাজাকারের চোখ রাঙানি আর দেখতে চাই না। প্রয়োজনে ৭১-এর যুদ্ধ আমরা আবার করবো, প্রস্তুত আছি। সৈয়দ হায়দার আলী, মহাখালী, ঢাকা প্রজন্ম চত্বর তথা শাহবাগে তরুণদের সূচনাকৃত আন্দোলন কালপরিক্রমায় ধীরে-ধীরে সারা বাংলাদেশে যেভাবে অহিংস আন্দোলনের অভূতপূর্ব রূপ নিয়ে ছড়িয়ে পড়েছে তা এক কথায় অনন্য। মহান স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে চিহ্নিত রাজাকার ও স্বাধীনতা বিরোধীচক্রের বিরুদ্ধে সুদীর্ঘ ৪২ বছর পর নব প্রজন্ম তথা দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্ম যেভাবে ফুঁসে উঠেছে তাকে সময়ের উপযুক্ত দাবি হিসাবে আখ্যায়িত করা যায়। সেই দাবি নিয়ে চারণ কবির মত স্থান থেকে স্থানান্তরে আয়োজকরা ঘুরে বেড়ানোর পদক্ষেপ নিয়েছে। শাহবাগ থেকে প্রথমবারের মত অন্যত্র আনুষ্ঠানিক আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটাতে গিয়ে প্রথমে রায়ের বাজারের বদ্ধভূমিতে এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে মিরপুরের গোল চক্করে যে সমাবেশ করা হয়েছে তাতে বয়স-দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সর্বস্তরের জনগণের যেভাবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে উপস্থিতি ও সমর্থন দেখা গেছে তাতে একথা নিঃসন্দেহে বলা যায়— নব প্রজন্মের দাবি বাংলার মানুষের একান্তই প্রাণের দাবি। এর বিরুদ্ধাচরণ করে নব্য রাজাকার হওয়ার ঝুঁকি নিতে এখন অনেকেই সাহস পাচ্ছে না। এ আন্দোলনের অন্তর্নিহিত মর্ম উপলব্ধি করে ইতিমধ্যেই কবি কবিতা রচনা করেছেন, গীতিকার গান বেঁধেছেন, নাট্যকার নাটক রচনা করেছেন, শিল্পী গান গেয়েছেন এবং সেটা অব্যাহত গতিতে চলছে। ফলে আতঙ্কিত হয়ে ইতিমধ্যেই চিহ্নিত রাজাকারদের দোসর, মতাদর্শী ও তাদের আদর্শের তথাকথিত সৈনিক ও ভাতাভুক্ত ক্যাডাররা নতুন প্রজন্মের আন্দোলন পরিচালনাকারী নেতা, সংগঠক, পৃষ্ঠপোষক ও নিবেদিতপ্রাণ কর্মীদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় ও ব্যক্তি চরিত্রকে জড়িয়ে নানা মিথ্যা ও চরম কুত্সা রটাতে শুরু করেছে। এমনকি প্রাণনাশের হুমকি ও ক্ষেত্রবিশেষে প্রাণসংহার পর্যন্ত করে যাচ্ছে এবং তাদের ব্লগে আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসাবে আপত্তির স্ট্যান্ড দিয়ে যাচ্ছে। অপরদিকে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের সরলতার সুযোগ নিয়ে পবিত্র জুমার নামাজের জমায়েতকে কেন্দ্র করে আল্লাহ ও রসুল (সা) এর নামে স্লোগান দিয়ে তাদের সাথে বিক্ষোভ মিছিল করার জন্য মুসল্লিদের বাধ্য করা হচ্ছে। তাদের এই ভণ্ডামির বিরুদ্ধে ধর্মপ্রাণ ওলামা-মাশায়েকগণ ধীরে-ধীরে মুখ খুলতে শুরু করেছেন এবং গণজাগরণ মঞ্চের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করছেন। মূলত ধর্মকে ব্যবহার করে নিজেদের হীনস্বার্থ চরিতার্থ করা প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীর চিরাচরিত নিয়ম ও অতি পুরানো হাতিয়ার। ফলে অতীতেও বাঙালিরা এদের কাছে মাথা নত করেনি, কাজেই বর্তমান ও ভবিষ্যত্ প্রজন্মও তাদের কাছে মাথা নত করবে না। নতুন প্রজন্মের এই আন্দোলনের প্রতি বর্তমান ক্ষমতাসীন দল ও সরকারের প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহানূভূতি ও সমর্থন প্রণিধানযোগ্য। নতুন প্রজন্মের এই আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করা এবং সংশ্লিষ্টদের প্রাণ হরণের জন্য ইতিমধ্যে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কুচক্রী মহল খুবই তত্পর হয়ে উঠেছে। ফলে সরকারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়ে সজাগ থাকা আশু কর্তব্য। তাছাড়া প্রজন্ম চত্বর তথা শাহবাগ মূলত নাগরিক জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ স্থান। দেশের সর্বোচ্চ চিকিত্সা বিশ্ববিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয়, শিশুপার্ক, জাতীয় কৃষ্টি ও সভ্যতা রক্ষার স্থান জাতীয় যাদুঘর, জ্ঞান চর্চার কেন্দ্রীয় তীর্থক্ষেত্র কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগার এবং শহরের মধ্যেকার যোগাযোগের প্রাণকেন্দ্র এই শাহবাগ। ফলে এখান থেকে সুবিধাজনক স্থানে এই আন্দোলনের মঞ্চ সরিয়ে নিয়ে জনস্বার্থে খুবই জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলেই সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। অপরদিকে এই আন্দোলনকে দেশব্যাপী চালিয়ে যাওয়া নিয়ে প্রধানমন্ত্রী যে চিন্তা-ভাবনা করার কথা বলেছেন তাকে দলীয় রাজনৈতিক ফায়দা লোটার প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত হিসাবে মনে করলে তাকে খুব একটা দোষ দেয়া যায় কি? ভূঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী চৌমুহনী হাজীপুর, বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী আমাদেরকে প্রথমে ধরে নিতে হবে, ‘নতুন প্রজন্ম’ কোনো ব্যক্তি, দল বা কোন দলপতিদের পৈতৃক সম্পদ নয়। নতুন প্রজন্ম ষোল কোটি মানুষের সম্পদ, আশার আলো, বুড়ো খোকাদের পাপ মুক্তির আলোর দিশা। নতুনের এই তারুণ্য শক্তি খুবই স্পর্শকাতর বিষয়। কাজেই তাদের এই আন্দোলন কোন বিশেষ দলের কাছে বেচা বিক্রি যেন না হয়। কোন দলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে গেলেই, শাহবাগের আন্দোলন যে জ্যোতি আর দ্যুতি নিয়ে পূর্বদিগন্তে অরুণাভ হয়ে উঠেছে, তা তিমিরাচ্ছন্ন হতে পারে, কাজেই নতুন প্রজন্মের আন্দোলন পূত ও পবিত্রভাবে এগুতে পারে, সে বিষয়ে সবাইকে বিশেষ দৃষ্টি রাখতে হবে। অতীত ইতিহাস বলে, বিভিন্ন সময়ে আন্দোলনে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে নানান ষড়যন্ত্রে আন্দোলনের গতিকে পরিবর্তন করে দলপতিরা ব্যবহার করেছে। আমরা আশংকিত হচ্ছি, আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তার জন্য নিজেদের সতর্ক হয়ে চলার প্রধানমন্ত্রীর উপদেশ দেয়াতে। তবে কি আন্দোলনকারীদের বিপক্ষে শত্রু সৃষ্টি হয়েছে? তবে কি এই আন্দোলন ব্যাপক জনগোষ্ঠীর আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে? পাশাপাশি সরকার সব দল ও মতের আন্দোলনকে গুরুত্ব দিয়ে তাদের দাবি-দাওয়া বাস্তবায়নে কোন একটা বিশেষ স্থান নির্বাচন করে দেন এবং সেখান থেকে দাবি আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তা ও খাদ্য পানীয় সরবরাহ করার মহতি উদ্যোগ নেন, তাহলে জনদুর্ভোগ কমতে এবং জান-মালের ক্ষয়ক্ষতি হবে না। মুরাদ হোসেন মধুখালী, ঝিকরগাছা, যশোর নতুন প্রজন্মের আন্দোলন সম্পর্কে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তিনটি বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন— প্রথমটি হলো- আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য কুচক্রীমহলে ষড়যন্ত্র, দ্বিতীয়টি হলো— আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তা, তৃতীয়টি হলো- জনদুর্ভোগ। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বিনয়ের সাথে বলছি- সরকার মহানবী (সা) সম্পর্কে কটূক্তির প্রতি কোন ঘৃণা বা বিদ্বেষ না দেখিয়ে কেন তা প্রচার করা হলো সে বিষয়ের প্রতি বেশি ঘৃণা বিদ্বেষ প্রকাশ করেছেন। সরকার কি বলতে চায় বিষয়টি লুকিয়ে রাখলে ভালো হতো? অবশ্য এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। নতুবা এসব কুকর্ম চলতেই থাকবে। সুস্থ মস্তিষ্কের সবাই তাতে একমত হবেন। দ্বিতীয় মন্তব্যটি হলো— আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তা। আমি আবারও বিনয়ের সাথে বলছি— আপনি ওদের নিরাপত্তার ব্যাপারে চিন্তিত হবেন না। প্রশাসন এবং ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া আছে ওদের পাশে। গোটা শাহবাগ এলাকা সিসি টিভি ক্যামেরা এবং র্যাব পুলিশ দিয়ে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে রেখেছে তাদেরকে এবং তাদের মিছিলও ছাত্রলীগ হরতালবিরোধী মিছিলের মত পুলিশ পাহারায় হয়। সেখানে ছুড়তে হয় না কোন রাবার বুলেট ও পিপার স্প্রে। তৃতীয় বিষয়টি হলো— মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অনেক পরে হলেও বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন এজন্য ধন্যবাদ। শাহবাগ একটি ব্যস্ত এলাকা। বড় দুটি হাসপাতাল সেখানে অবস্থিত। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গার তিনটি রাস্তা বন্ধ থাকলে অবশ্যই জনদুর্ভোগ কী পরিমাণ বাড়বে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই আন্দোলনটিকে রাস্তা থেকে একটু সরিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্থানান্তরিত করলে ঢাকা শহরবাসীরা খুবই উপকৃত হবে। ডা. মর্জিনা আক্তার বারিধারা পাইল্স কিউর সেন্টার, গুলশান, ঢাকা হতে পারে বিএনপিকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রশ্নে তাদের ইতিবাচক অবস্থান স্পষ্ট করা, অন্যদিকে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে বিএনপির নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের দাবি পূরণ করা— এ দুই বিষয়ে বড় দুই দলের মধ্যে সমঝোতা হলে পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হবে বলে আমাদের ও দেশবাসীর বিশ্বাস। বর্তমানে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রশ্নে দেশব্যাপী যে গণজাগরণ সৃষ্টি হয়েছে তাতে বিএনপি দুর্বল হয়ে পড়েছে এটা নিতান্তই ভ্রান্তি বিলাস। আমরা কি কেউ ভাবতে পেরেছিলাম শাহবাগের আন্দোলনকেও বির্তকিত করে ফেলা সম্ভব? অথচ বাস্তবে সেটাই ঘটেছে। ক্ষুদ্র হলেও সমাজের একটি শ্রেণি ইসলাম অবমাননার দায়ে শাহবাগ চত্বরের আন্দোলনকে বাঁকা চোখে দেখছে। এ দেশের রাজনীতি কখন, কীভাবে, কোন্ দিকে মোড় নেবে তা আগাম বুঝতে পারা কঠিন। বিএনপি রাজনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং তা আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না— এমন সরল অংক করা ঠিক নয়। সরকারের জন্য এখন সবচেয়ে কার্যকর কৌশল হতে পারে বিএনপিকে আস্থায় নিয়ে পথ চলা আর তা করতে হলে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের দাবিটি মেনে নেয়া। দেলোয়ার হোসেন দেলু নিউ খানপুর, নারায়ণগঞ্জ প্রজন্মের এই আন্দোলনকে ষড়যন্ত্রকারী মহল ভিন্নখাতে প্রবাহিত করছে। এই ষড়যন্ত্রের পেছনে একটি শক্তিশালী কুচক্রিমহল সর্বশক্তি নিয়ে প্রকাশ্যে মাঠে নেমেছে। এবং দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছে। প্রজন্ম আন্দোলন এখন গণজাগরণ আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। তাই যথেষ্ট সতকর্তা এবং নিরাপত্তার মধ্যে প্রজম্ম আন্দোলনকে ‘৭১-এর যুদ্ধের মতো এগুতে হবে। নইলে ধ্বংসযজ্ঞের সম্মুখে পড়তে হবে। প্রজম্ম আন্দোলন শাহবাগভিত্তিক না করে সারা দেশব্যাপী করতে হবে। যাতে আগ্রাসী শক্তি দেশের গণতন্ত্র ও শাসনতন্ত্রকে ফিরিয়ে নিতে না পারে। পাশাপাশি জনগণের ভোগান্তি ও কষ্ট কমাতে হরতাল ও নৈরাজ্য বর্জন করতে হবে। শাহ মো. হেলাল উদ্দিন হিরু কালিহাতি, টাঙ্গাইল যে উদ্দেশ্যে ও দাবিতে প্রজন্ম চত্বরের এই আন্দোলনে দেশের জনসাধারণ একাত্মতা প্রকাশ করেছেন, বাংলাদেশ সরকারও তাদের দাবির সঙ্গে একমত। সুতরাং আন্দোলকারীদের দাবিসমূহ নীতিগতভাবে মেনে নিয়ে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারেন। এবং আন্দোলনকারীদের আন্দোলন প্রত্যাহারের জন্য অনুরোধ করতে পারেন, যাতে জনগণের কষ্ট লাঘব হতে পারে। ডা. খায়রুদ্দিন বরকত জহিরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল, বাজিতপুর, কিশোরগঞ্জ জনগণকে কষ্ট দিয়ে যে আন্দোলন হচ্ছে তা যদি অন্য কোথাও হয় তাহলে ভালো হতো। সোলায়মান ৪৬/১ কাজী আলাউদ্দিন রোড, ঢাকা শাহবাগে নতুন প্রজন্মের আন্দোলনকারীদের প্রতি আহ্বান— দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হওয়া দরকার। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের যাতায়াতের দুর্ভোগের কথা মাথায় রাখতে হবে ও আন্দোলনের স্থানটি অন্যত্র স্থান করা যায় কিনা সেটার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। লাড্লা, পিলখানা, ঢাকা নতুন প্রজন্মের আন্দোলন প্রথম অবস্থায় ঠিক ছিল। কিন্তু দিন দিন এই আন্দোলন অন্য দিকে যাচ্ছে। আমরা সেটা আশা করছি না। তবে আন্দোলন ভিন্নখাতে প্রবাহিত হবে সেটা ভিন্ন ভিন্ন বিষয় নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। হোসেন আরা এনায়েতগঞ্জ লেন ঢাকা