বোরো চাষিদের সেচের জন্য ডিজেলে ভর্তুকি জরুরি

আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:১৪
দেশের কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় এবার সরকার হাত-পা গুটিয়ে বসে আছে। জ্বালানি ভর্তুকির ব্যাপারে এখনও কোন সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি। কৃষকের লোকসান কমাতে সরকার ডিজেলে ভর্তুকি দেয়ার কথা বলেছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন সিদ্ধান্তে না আসায় কৃষকের ভর্তুকির বিষয়টি এখন অনিশ্চয়তার দিকে যাচ্ছে। একটি দেশের অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি হলো কৃষক। সে কৃষকরা সবসময়ই থেকে যায় উপেক্ষিত। তাতে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল হতে পারে না। প্রতিবছরই কৃষক ফসল ফলিয়ে লোকসানের বোঝা বহন করে। গত দু’বছরে কৃষকের সেচ চালিত পাম্পের জন্য ডিজেলের ভর্তুকি না দেয়ায় তারা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছে। কিন্তু তাতে করেও দেশের খাদ্যের মূল্য কমেনি। তাই কৃষকের স্বার্থ সরকারকে অবশ্যই দেখতে হবে। ২০১০ সালে ৯১ লাখ ৬১ হাজার ৫৯৪ জন বোরো চাষিকে মোট ৭৪৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা ভর্তুকি দিয়েছে সরকার। তাছাড়া এক কোটি ৮২ লাখ কৃষি পরিবারকে কৃষি উপকরণ দিয়ে সহযোগিতা করেছিল। তখন ডিজেলের দামও ছিল কম। তখন ডিজেলের মূল্য ছিল ৪৬ টাকা। বর্তমানে তা ৬৮ টাকায় ঠেকেছে। তখন বাজার মূল্য ছিল ভালো। ভর্তুকি এবং বাজার মূল্য পেয়ে কৃষক ফসল ফলিয়ে লাভের মুখ দেখতে পেত। কিন্তু কার পরামর্শে কৃষকের ভর্তুকি সরকার উঠিয়ে দিল তা কারো বোধগম্য হচ্ছে না। কৃষক ভালো উত্পাদন করতে পারলে বাজেট থেকে টাকা বরাদ্দ নিয়ে বিদেশ থেকে খাদ্য আমদানি করতে হয় না। এ বিষয়টি কেন সরকার মাথায় রাখছে না। সবচেয়ে বড় কথা— কৃষকের ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে সবার আগে। তাহলে দেশের মানুষ কম মূল্যে খাদ্য-শস্য পাবে। অর্থনীতি হবে আরো গতিশীল। হাজী মো. মজনু খান তারাব, রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ