গাইবান্ধা সদরের দক্ষিণ ধানঘরা গ্রামের কৃষক আব্দুর রাজ্জাক মিয়া আমন মৌসুমে তার আড়াই বিঘা জমির স্বল্প মেয়াদী ব্রি-৫৬ ধান কার্তিক মাসে কাটার পর জমি ফেলে না রেখে গত অগ্রহায়ণ মাসে সরিষার বীজ বপন করেন। গত বৃহস্পতিবার সেই জমির সরিষা কাটা হয়। ১৩ মণ সরিষা ফলেছে তার এই জমিতে। ওই জমিতে আবার এখন মুগ ডাল চাষ করবেন। বৈশাখ মাসে সেই ডাল ঘরে তোলার পর লাগাবেন পারিজা ধান। সেই ধান কেটে আবারো রোপণ করবেন স্বল্প মেয়াদী ব্রি-৫৬ ধান।
একই গ্রামের কৃষক রঞ্জু মিয়া জানান, শুধু আ: রাজ্জাক নয় এ গ্রামের ৩৮ জন কৃষক বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, আরডিআরএস বাংলাদেশ ও ঝুমকা বাংলাদেশ এর নিবিড় তত্ত্বাবধানে এখন ৫০ বিঘা জমিতে বছরে ২ ফসলের স্থলে এভাবে চার ফসল ফলাচ্ছেন।
কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, এক বিঘা জমিতে উন্নত জাতের বারি সরিষা-১৪ মাত্র ১ কেজি বীজের প্রয়োজন হয়। বীজ বপন থেকে কর্তন সময় লাগে ৭০ থেকে ৮০ দিন। বিঘা প্রতি ৫ থেকে ৬ মণ সরিষা উত্পাদন হয়। প্রতি মণ সরিষা দাম ১৮ শত টাকা। যা ওই জমির উত্পাদিত মোট ধানের বর্তমান মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি।
আরডিআরএস বাংলাদেশ এর সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ছাইফুল ইসলাম জানান, গত ২০১১ সালের নভেম্বর মাস থেকে বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, আরডিআরএস বাংলাদেশ ও ঝুমকা বাংলাদেশ যৌথভাবে গাইবান্ধা জেলায় বছরে এক জমিতে ৪টি ফসল ফলানোর নিমিত্তে স্বল্প মেয়াদী ব্রি-৫৬, ব্রি-৫৭, বিইউ ১ ধান, সরিষা, মুগ ডাল ও পারিজা ধান চাষ সমপ্রসারণ করার চেষ্টা করছে। বর্তমানে জেলায় ৯০ বিঘা জমিতে কৃষক চার ফসল উত্পাদন করছেন। এজন্য কৃষকদেরকে আধুনিক চাষ পদ্ধতি, বীজের পরিমাণ, জমি তৈরি, পানি নিষ্কাশন, সারের পরিমাণ, ডলোচুন প্রয়োগে বীজ বপন পদ্ধতি ও পোকা মাকড় দমন ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। এছাড়া তাদেরকে বীজ, সারসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীও প্রদান করা হয়েছে।
আরডিআরএস বাংলাদেশ গাইবান্ধার কর্মসূচি ব্যবস্থাপক (মাঠ সমন্বয়) পোরসিয়া রহমান জানান, এই কার্যক্রম একদিকে যেমন মঙ্গার সময় কৃষকদের বাড়তি কাজের ও বাড়তি আয়ের যোগান দিচ্ছে। শুধু তাই নয় বছরে এক ফসলের স্থলে চার ফসল উত্পাদন করে কৃষক লাভবানও হচ্ছেন। তিনি আরো জানান, এছাড়া সরিষা চাষে জমির জৈব সারের চাহিদা পূর্ণ হয়।
একারণে শস্য নিবিড়তায় একই জমিতে বছরে ৪টি ফসল উত্পাদনে কৃষকদের মাঝে সরিষা চাষ ব্যাপক আকারে সমপ্রসারিত করার জন্য গত বৃহস্পতিবার গাইবান্ধা সদর উপজেলার দক্ষিণ ধানঘড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে স্বল্প মেয়াদী উন্নতজাতের বারি সরিষা-১৪ কর্তন উপলক্ষে কৃষক মাঠ দিবসের আয়োজন করা হয়। পোরসিয়া রহমান সভাপতিত্বে মাঠ দিবসের আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক, জেলা কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মীর আব্দুর রাজ্জাক, আরডিআরএস বাংলাদেশ রংপুরের কৃষি ও পরিবেশ ইউনিটের সমন্বয়কারি মামুনুর রশিদ, সিনিয়র কৃষি কর্মকর্তা অনুপ কুমার ঘোষ, কৃষক জাহিদুল ইসলাম, রঞ্জু মিয়া প্রমুখ। এর আগে ওই গ্রামের জাহিদুল ইসলামের সরিষা আনুষ্ঠানিকভাবে কর্তন করেন অতিথিরা।
