টিপস

কাজ ও বিশ্রামে প্রশান্তি আনতে

আপডেট : ০১ মার্চ ২০১৩, ১৮:০৫
কাজ যেমনই হোক তা মানুষের জীবনের অনেক বড় একটা স্থান জুড়ে আছে। তবে তার মানে এই নয় যে, অতিরিক্ত কাজ করা বাধ্যতামূলক। যেসব মানুষ প্রয়োজনের বেশি কাজ করে, তারা তাদের স্বাধীন সময়টুকু ঠিকমতো ব্যবহার করতে পারে না। তাদের মধ্যে ত্যাগ স্বীকারের প্রবণতা ধীরে ধীরে কমতে থাকে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যাপারটি পরিবর্তন করা উচিত। আমরা মনে করি পরিবর্তনের কথা চিন্তা করা আর পরিবর্তন করা দুটি ভিন্ন বিষয়। কিন্তু আসলে ব্যাপারটা তা না। সেই ব্যাপারে অর্থাত্ কাজ ও বিশ্রামের মাঝে সমতা আনার জন্য আমাদের আজকের এই আয়োজন। আশা করি আলোচনাটি আপনাদের কাজে লাগবে। নিজের লক্ষ্য সম্পর্কে সচেতনতা :কিছু মানুষ এমন থাকেন, যারা জানেন না যে তারা যে কাজ করছেন, তা করার কারণ কী। কিসের আশায় তারা এতো পরিশ্রম করছেন। তখনই প্রশ্ন জাগে, আপনি কি আপনার পছন্দের পথ বেছে নিয়েছেন? যদি এর উত্তর ‘না’ হয়ে থাকে, তবে প্রশ্ন হলো কী করতে চান এবং ভেবেছেন কি, তা কিভাবে করবেন? ৮০০০ জনের উপর একটা জরিপ চালিয়ে দেখা গেছে, সেসব মানুষেরা খুব সুখী, যারা প্রত্যহ যে কাজ করে, তা তাদের পছন্দানুযায়ী বেছে নেওয়া। কথাটি সত্যি, মানুষ যা করে তাতে যদি আনন্দ পায়, তবে কাজে উন্নতি হয় এবং সেই সাথে মনও থাকে প্রফুল্ল। আমরা সবসময় সুখের পিছনে ছুটছি। কাজের মধ্যে নিজেকে আবদ্ধ করে রাখছি। গবেষকরা মনে করেন, আমাদের জীবনের এই শত ব্যস্ততার মাঝে কিছু সময় নিজের জন্য রাখা উচিত। সুখের পেছনে ছুটতে গিয়ে আসল জীবনকে ভুলে যাওয়াটা বোকামি মাত্র। এজন্য আমাদের উচিত নিজেদের জন্য সময় বের করা। যেমন—সিডিউল করা যেতে পারে, নিজের পরিবার ও বন্ধুদের জন্য সময় বের করার। অথবা, কাজের ফাঁকে কিছুটা সময় বের করে পরিবার, বন্ধুদের সাথে অন্তত ফোনে হলেও যোগাযোগ রাখা। কিংবা কোথাও ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করা যেতে পারে। আর সেটাকে অবহেলা না করে অন্যান্য কাজের মতো এটা নিয়ে গুরুত্বের সাথে ভাবলে ব্যপারটা সহজ হয়ে যায়। প্রত্যক্ষবত্ স্মরণ করা :এমনটা করা যেতে পারে যে, প্রিয় মানুষের ছবি মানিব্যাগে রাখা অথবা টেবিলে ফটো ফ্রেমে বন্দি করে রাখা। এই সূক্ষ্ম কাজগুলো আমাদের মনের ইন্দ্রিয়কে শত ব্যস্ততার মাঝেও কিছু মুহূর্তের জন্য বিশ্রাম দিতে পারে। সাময়িকী পড়ার অভ্যাস : দিনের শেষে কিছু সময় বের করে সাময়িকী পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে তা মানসিক সতেজতা ধরে রাখতে অনেক কার্যকর ভূমিকা পালন করে। এতে প্রত্যহ সব কাজ সফলতার সাথে শেষ করার একটা অনন্দ কাজ করে। আর মন ভালো থাকলে পরিবার ও বন্ধুদের সাথে মন খুলে মেশাও সহজ হয়ে যায়। আর সেই সাথে তা কাজে লাগে আমাদের ভবিষ্যত নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে। কারও সাহায্য নেওয়া :অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কাজের চাপ আমাদের জীবন-মরণের হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। তাই যদি কেউ খুব কঠিন সময় পার করে আর একা যদি পরিস্থিতি মোকাবিলা করা তার পক্ষে সম্ভব না হয়, তবে অন্য কারও সাথে ব্যাপারটা শেয়ার করা উচিত। একইভাবে এই সমস্যার সমাধান বই পড়েও করা সম্ভব। অর্থাত্ মূল কথা হলো, অতিরিক্ত কাজের চাপে নিজেকে পিষ্ট হতে না দিয়ে নিজের জন্য কিছুটা বিশ্রাম মুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে নেওয়া গেলে জীবনটাকে আরো সহজভাবে ও আনন্দের সাথে উপভোগ করা যায়।