বিশ্বজুড়ে শিক্ষিত বেকারদের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ার কারণে চাকরি পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তা এখন সব শিক্ষার্থীই করে থাকে। পড়ালেখা করতে গিয়ে অজানা এক আশঙ্কা সবার মনে ভর করে—ডিগ্রি নিয়ে চাকরি পাব তো? সার্টিফিকেট বগলে নিয়ে ঘুরে বেড়াতে হবে না তো? তবে একটু ভেবে-চিন্তে ভালো বিষয় নিয়ে লেখাপড়া করলে এ ধরনের প্রশ্নবোধক দুশ্চিন্তা থেকে রেহাই পাওয়া যায়। এ জন্য বাংলাদেশ নয়, পুরো বিশ্বজুড়ে চাহিদা রয়েছে এমন পেশায় আসতে যুগোপযোগী ডিগ্রি নিয়ে পড়ালেখা করতে হবে। আর বর্তমান সময়ে তরুণরা দ্রুত ক্যারিয়ার গড়তে পছন্দের কাতারে রাখছে প্রফেশনাল অ্যাকাউন্টিংকে।
বিশ্বমানের এই কোর্সের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে সিএটি, এফআইএ, এসিসিএ। এইচএসসি, এসএসসি, ও-লেভেল করে মাত্র সাড়ে তিন বছরে এসিসিএ করা যায়। অন্যদিকে তিন বছরে অ্যাকাউন্টিংয়ে অনার্স সার্টিফিকেট পাওয়া যায়। যে ডিগ্রি সম্পন্ন করে বাংলাদেশসহ পুরো বিশ্বে বিশেষ করে বহুজাতিক কোম্পানি, কর্পোরেট অফিসে উচ্চ বেতনে বিশেষ করে চিফ ফাইন্যান্স অফিসার, অডিটর, অ্যাকাউন্টিং পার্টনার, ফাইন্যান্স ডিরেক্টর, সিনিয়র ইন্টারনেল অডিটর, বিজনেস অ্যাডভাইসর পদে দ্রুত চাকরি হয়ে যায়। দ্য অ্যাসোসিয়েশন অব চার্টার্ড সার্টিফাইড অ্যাকাউন্টেন্টস, সার্টিফাইড অ্যাকাউন্টিং টেকনিশিয়ান, ফাউন্ডেশন ইন অ্যাকাউন্টেন্সি সবই প্রফেশনাল কোর্স। এটি জাতিসংঘ স্বীকৃত এবং ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব অ্যাকাউন্টেন্টসের মেম্বার। বর্তমানে এর এক লাখ চল্লিশ হাজার মেম্বার এবং চার লাখ চার হাজার শিক্ষার্থীকে ৮৩টি এসিসিএ-এর নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ১৭০টি দেশে ফাইন্যান্স এবং অ্যাকাউন্টিংয়ের উপর সম্মানজনক ক্যারিয়ার গঠনে সহযোগিতা করে যাচ্ছে। এইচএসসির পর সরাসরি এসিসিএ কোর্সে ভর্তি হওয়া যায়। আবার এসএসসি শেষ করে এফআইএ করেও এই কোর্সে ভর্তি হওয়া যায়। অন্যদিকে এফআইএ শেষ করে সিএটি সম্পন্ন করে এসিসিএ কোর্স সম্পন্ন করা যায়। এসএসসি পাস শিক্ষার্থীদের এফআইএ সম্পন্ন করতে বেশ ক’টি বিষয় পড়তে হবে। এগুলো হচ্ছে রেকর্ডিং ফাইন্যান্সিয়াল ট্রানজেকশন, মেনটেনিং ফাইন্যান্সিয়াল রেকর্ড, অ্যাকাউন্টেন্ট ইন বিজনেস, ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন, মেনটেনেন্ট কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট, ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টিং, ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্টিং প্রভৃতি। আর এফআইএ শেষে সিএটি করতে আরও দুটি সাবজেক্ট সম্পন্ন করতে হবে। এ দুটি হচ্ছে ফাউন্ডেশন ইন ট্যাক্সেশন এবং ফাউন্ডেশন ইন ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট। এ নিয়ে আরও কথা বলতে পারেন ৮১৪১৬০১, ০১৭২০৫৫৩২৭৬ এই নম্বরগুলোতে।
এর পরীক্ষা পদ্ধতি যথেষ্ট সহজ। বছরে জুন ও ডিসেম্বরে দুইবার ব্রিটিশ কাউন্সিলে এক সাথে একটি থেকে চারটি বিষয়ে পরীক্ষা দেওয়া যায়। তবে কম্পিউটার বেজড পরীক্ষা বছরের যেকোনো সময় যেকোনো দিন হতে পারে। যদি কেউ একটি বিষয়ে অনুত্তীর্ণ হয় তবে শুধু ওই বিষয়ে পরীক্ষা দিয়ে পাস করতে পারে। এসিসিএ বিষয়ে ১০০ নম্বরে পরীক্ষার্থী ৫০ পেলেই পাস করে। এই নিয়ে আরও জানতে যোগাযোগ করতে পারেন এই ঠিকানায় বাড়ি-৫১, রোড-১০/এ, ধানমন্ডি, ঢাকা।
চাহিদার কারণে এই কোর্স শেখানোর নামে এ দেশে অসংখ্য কেন্দ্র গজিয়ে উঠেছে। ফলে প্রয়োজনীয় সুবিধা না থাকায় ভুঁইফোড় প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে শিক্ষার্থীরা এক ধরনের প্রতারণার শিকার হয়। বাংলাদেশে এ ডিগ্রি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চার্টার্ড ইউনিভার্সিটি কলেজ অন্যতম। সম্পূর্ণ পেশাদারিত্বের মাধ্যমে এই কোর্সটি পরিচালনার জন্যে তাদের রয়েছে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা। এদের রয়েছে এসিসিএ কর্তৃক গোল্ড অ্যাপ্রুভাল।
এ ছাড়া কম্পিউটার বেজড এক্সাম (সিবিই) ব্যাচের পরীক্ষা প্রতিদিন এদের নিজস্ব ক্যাম্পাসে দেওয়া যাচ্ছে। এদের রয়েছে একাধিক ক্যাম্পাস এবং অভিজ্ঞ শিক্ষকমণ্ডলী। এখানে শিক্ষার্থীরা স্কলারশিপ সুবিধাও পেয়ে থাকে। সিইউসি কর্তৃক পরিচালিত হচ্ছে প্রাইম ইউনিভার্সিটির ধানমন্ডি ক্যাম্পাস যেখানে চার্টার্ড ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা ভর্তির সুযোগসহ পেয়ে থাকে বিশেষ সুবিধা। তাই বিশ্বমানের ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে করতে পারেন সিএ, এসিসিএ, এফআইএ কোর্সগুলো।
