বিতর্কের প্রতি তার ভালোলাগার কাহিনীটা অন্যরকম। ছেলেবেলা থেকেই বিতর্কের প্রতি আকর্ষণ ছিল! স্কুলপর্যায়েই অনেকগুলো পুরস্কার পেয়ে যান তিনি। জাতীয় পর্যায়েও অনেক অর্জন রয়েছে তার, এগুলোও বিতর্ককে ঘিরে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজিতে পড়াশোনাটা শেষ করেছেন। জাতীয় ডিবেট ফেডারেশনের কো-চেয়ারম্যান তিনি। বিতর্কের সাথে পথচলা এই তরুণ আমিমুল এহসান ইমরান তাই আমাদের আজকের আয়োজনে, তাকে নিয়ে লিখেছেন সাজেদুল ইসলাম শুভ্র
ইমরানের বিতর্ক করা শুরু হয় ৭ম শ্রেণী থেকে। বিতর্কের পাশাপাশি তখন আবৃত্তি ও উপস্থিত বক্তব্য প্রতিযোগিতায় নিয়মিত অংশগ্রহণ ছিল। শিক্ষকরা তাই খুব পছন্দ করতেন সেই সময় থেকেই। খুবই দুষ্ট প্রকৃতির ছিলেন যদিও। খেলাধুলার প্রতি ছিল চরম আগ্রহ। মজার বিষয় হচ্ছে এতকিছুর পরেও তিনি কিন্তু পড়াশোনাটা ঠিক রেখেছেন, ফলাফল ছিল খুবই ভালো। তার এযাবত্ পুরস্কারের একটা ছোট্ট তালিকা শুনিয়ে দেওয়া যাক আপনাদের—৯ম শ্রেণীতে থাকতে স্কুল পর্যায়ের আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় ১ম (বিভাগীয় পর্যায়ে), স্কুলে ৭ম থেকে ১০ শ্রেণী পর্যন্ত প্রত্যেকটি উপস্থিত বক্তৃতায় ১ম এবং জাতীয় পর্যায়ে ২ বার শ্রেষ্ঠ, হাইজাম্পে ৮ম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত স্কুল ও কলেজের বার্ষিক ক্রীড়ায় ১ম স্থান অর্জন, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত বারোয়ারি বিতর্ক এবং উপস্থিত বক্তৃতায় ২৭ বার ১ম স্থান এবং ৬ বার ২য় স্থান অর্জন, আন্তঃকলেজ ও আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বাংলা সংসদীয় বিতর্কে ৬ বার শিরোপা জয়ী দলের সদস্য। এ ছাড়া ২০০৮ সালে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় WUDC বিতর্কে ১ম বারের মতো চবিকে শিরোপা জিতিয়েছেন। এই তার অর্জনের সামান্য ফিরিস্তি। এর বাইরেও কিন্তু সংগঠক হিসেবে কাজ করেছেন অনেক জায়গাতেই। এনডিএফ-এর কো-চেয়ারম্যান ইমরান ছিলেন বিবর্তন বিতর্ক ধারা (চট্টগ্রাম)-র সভাপতি। বেস্ট অর্গানাইজার হিসেবে ৪ বার জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন বির্তক প্রোগ্রামে পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। এ ছাড়াও যুক্ত রয়েছেন রোটারেক্ট ক্লাব অব চিটাগং ইউনিভার্সিটি, ক্লাব ফর হিউমেনিটি, বিএনসিসি, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সাথে। ‘ইংরেজিতে পড়ার বিষয়ে একটি মজার গল্প আছে। একই সাথে চান্স পেয়েছিলাম কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ইংরেজি বিভাগে। তখন চবি-তে চলছিল আন্তঃবিভাগ বিতর্ক প্রতিযোগিতা। ওই প্রতিযোগিতায় কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগ প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায় নেয় অন্যদিকে ইংরেজি বিভাগ হয় চ্যাম্পিয়ন। এই ঘটনাটি সরাসরি আমাকে ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হতে অনুপ্রাণিত করে।’ এভাবেই নিজের পড়াশোনার কথা জানালেন তিনি। ক্রিয়েটিভ হতে কী লাগে? এমন কথার উত্তরে ইমরান বলেন, ‘আগ্রহ আর সংকল্পসহ কিছু করলে সেখান থেকে সৃজনশীল কিছু বের হতে বাধ্য। কেউ যদি অন্যকে হুবহু নকল না করে নিজের নিজস্ব সত্তাকে জানার চেষ্টা করে এবং সেই অনুযায়ী কাজ করে তবে সে আপনাআপনি সমাজে ভিন্নভাবে উপস্থাপিত হয়ে যাবে। ইমরানের পরিবারে বাবা-মা এবং এক ছোট ভাই আছে। ছোট ভাই নর্দান ইউনিভার্সিটিতে আইন বিষয়ে পড়ছেন। মো. শামছুল হক চাকরি থেকে অবসরে, মা কানিজ ফাতেমা গৃহিণী। সরকারি মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়, চট্টগ্রাম থেকে এসএসসি দেওয়ার পর ভর্তি হন সরকারি বিজ্ঞান কলেজ, ঢাকাতে। এর পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। ব্যক্তি স্বার্থের উর্ধ্বে উঠে দেশ ও জাতির বৃৃহত্তর কল্যাণে কাজ করে যেতে চান তিনি।
ইমরান মনে করেন প্রতিটা মানুষই সম্ভাবনাময়। প্রত্যেকের মাঝেই সৃজনশীলতা আছে। নিজেকে তাই বুঝতে চেষ্টা করতে হবে, যেটা করছি সেটা মন থেকে করতে হবে। আর সেই পথে নিজেকে ধরে রাখতে হবে। তিনি আরও মনে করেন, সবকিছু থেকেই শেখা যায়। যদি অনেক বেশি দেখা, শোনা, আর পড়া যায়, নিজেকেই নিজে ছাপিয়ে যাওয়া যায়। আর সবকিছুই করতে হবে নিজের জীবনচরিত ঠিক রেখে। সবশেষে তিনি জোর গলায় বললেন, তারুণ্যই পারে সবকিছু বদলে দিতে, সেই পরিবর্তনটা আসছে আমাদের মাঝে। ছোটবেলা থেকেই স্বাধীনচেতা স্বভাবের হওয়ায় কোনো কিছুই তাকে শৃঙ্খলিত করতে পারেনি। পড়াশোনাকে কখনই চাপ হিসেবে গ্রহণ করেন না বরং পড়ার মধ্যে আনন্দ খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করেন। ইমরানের অন্য ভাইবোনেরাও তাদের স্ব স্ব ক্ষেত্রে মেধার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। ইমরানদের হাত ধরেই আমরা অনেকদূর এগিয়ে যাব, সেই বিশ্বাস হূদয়ে।
