‘তোমার উচিত তোমাব বাবা-মায়ের জ্ঞানের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো, কেননা তাদের যুগে তো আর ইন্টারনেট বা গুগল ছিল না!’ আধুনিক সময়ের তথ্যপ্রযুক্তির উত্কর্ষ আর তথ্যের সহজলভ্যতার বিষয়টি বুঝাতে অনেকেই ঠাট্টাচ্ছলে এ কথাটি বলে থাকেন। কিন্তু এই সময়ে এসে মা-বাবার চাইতে যেকোনো পরামর্শের জন্য ইন্টারনেটই যে শিশুদের বেশি পছন্দ সেটি উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক গবেষণায়। যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন প্রচারমাধ্যমের কাজ পর্যবেক্ষণ করে এমন একটি সংগঠন অফকমের গবেষকরা প্রায় দেড় হাজারের মতো প্রবীণ ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের শিশুদের উপর পরিচালিত জরিপের ফল বিশে¬ষণ করে দাবি করেছেন, দাদা-দাদী বা নানা-নানীর মতো বয়োজ্যেষ্ঠদের চাইতে যেকোনো সমস্যায় ইন্টারনেটের উপদেশই এখন শিশুদের বেশি পছন্দ। এমনকি এ ধরনের ক্ষেত্রে প্রবীণদের কাছে পরামর্শ চাইবার প্রবণতাও অধিকাংশ শিশুর মাঝে নেই। তারা বরং ইন্টারনেট থেকে এসব তথ্য পেতেই বেশি আগ্রহী। আর বিশ্বাসযোগ্যতার দিক থেকেও এদের অনেকের কাছেই ইন্টারনেটে পাওয়া তথ্যের অবস্থান কিছুটা উপরে। গবেষণা জরিপে দেখা যায়, এ সময়ের শিশুরা সাধারণত ল্যাপটপ, ট্যাবলেট কম্পিউটার বা স্মার্টফোনে তাদের প্রয়োজনীয় সকল তথ্যের অনুসন্ধান করে এবং এজন্য তাদের পছন্দের শীর্ষে থাকে গুগল, উইকিপিডিয়া বা ইউটিউবের মতো ওয়েবসাইটগুলো। মজার বিষয় হলো, জরিপে অংশ নেওয়া শিশুদের প্রতি চারজনের যে একজন দাদা-দাদীর মতো প্রবীণ কারও সাহায্য চায় তারাও কাপড় ধোয়া, রান্না করা বা বোতাম সেলানোর মতো গৃহস্থালী কাজে প্রবীণদের পরামর্শ চায়। অথচ যাদের প্রতি শিশুদের এই ঔদাসীন্য সেই প্রবীণ ব্যক্তিদের শতকরা ৯৬ শতাংশই তাদের শৈশবে যেকোনো সমস্যায় দ্বারস্থ হতেন বয়োজ্যেষ্ঠদের। যদিও গবেষকরা মনে করছেন, শিশুদের এই প্রযুক্তি নির্ভরতার কারণ স্রেফ প্রবীণদের প্রতি তাদের আস্থার অভাব নয়, বরং প্রযুক্তির বিকাশ আর সহজলভ্যতাও শিশুদের এমন আচরণের পেছনে অনেকাংশে ভূমিকা রাখছে।
