অগণতান্ত্রিক রাজনীতি চর্চা
সহিংসতার মূল কারণ
একটি দেশকে উন্নতির চূড়ায় পৌঁছে দেয়ার প্রথম শর্ত হল স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ। আজ ’৫২, ’৬২, ’৬৬, ’৬৯, ’৭১— সবই সম্মিলিত সংগ্রামের ফসল। বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে সত্তর-আশির দশকের দেশ কাঁপানো ছাত্রনেতারা। যারা এমন বাংলাদেশ দেখার জন্য কখনোই প্রস্তুত ছিলেন না। মুক্তিযোদ্ধাদের উপহার দেয়া সোনার বাংলা আজ সহিংস বাংলদেশ। তাদের অসামান্য অবদানের ফসল এই চির সবুজের দেশে সহিংসতা চরম আকার ধারণ করেছে। আমরা আজ ভুলতে বসেছি গণতান্ত্রিক রাজনীতি চর্চা। বিরোধী দল যেমন শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা রাখতে চরম ব্যর্থ, তেমনি সরকার বিরোধীদলের উপর অযথা দমন-নিপীড়ন চালিয়ে অগণতান্ত্রিক আচরণ করেছে। বিরোধীদল সংসদের সকল কার্যদিবসে অংশ নেয়নি। এমনকি তাদের প্রধান ইস্যু তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার দাবিতে একদিনও সংসদে না গিয়ে এবং সংসদে সবচেয়ে কম কার্যদিবসে উপস্থিত থেকে চরম অগণতান্ত্রিকতা দেখিয়েছে। শক্তিশালী বিরোধীদল হিসেবে ১৮ দলীয় জোট মোটেই ভূমিকা রাখতে পারেনি। সালাম, বরকত, রফিকের এই দেশে আমরা তরুণসমাজ প্রত্যাশা করি দেশের মঙ্গলের জন্য গণতান্ত্রিক ভবিষ্যত্ আলোকময় করতে সরকার বিরোধী জোটের প্রতি গণতান্ত্রিক আচরণ করে সফল সরকার হিসেবে মেয়াদকাল শেষ করবে। অন্যদিকে বিরোধী জোট সরকারকে স্বচ্ছতার সাথে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারসহ জাতীয় ইস্যুতে সাহায্য করবে। আসুন যার যার অবস্থান থেকে দেশকে এ চরম সংকট থেকে মুক্ত করে শান্তি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেই।
আশিকুজ্জামান
ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, ২য় বর্ষ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
বাংলাদেশে উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভবিষ্যত্ অন্ধকার
বাংলাদেশের রাজনীতিতে দলের কর্মী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে দলীয় বিশেষ কোন নিয়ম না থাকায় নানাবিধ সহিংস মনোভাবাপন্ন লোকের অনুপ্রবেশ ঘটে দলের মধ্যে। ফলে সুবিধাবাদী চক্র রাজনৈতিক ফায়দা নিতে ব্যস্ত থাকায় দেশের উন্নয়ন ব্যাহত হয় এবং সমগ্র দেশ দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে। ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর ভিতরে উদার রাজনীতির অভাব সবচেয়ে বেশি। উইকিলিকস বাংলাদেশ নামে মার্কিন দূতাবাস থেকে পাওয়া তথ্য থেকে জানা যায় জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারী জেনারেল ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক মার্কিন দূতাবাসে বলেন যে, যদি ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ হয় তবে জামায়াত তুরস্কের মডেল অনুসরণ করবে। অর্থাত্ আধুনিক গণতান্ত্রিক দলের মত গঠন পদ্ধতি থাকবে কিন্তু ন্যায় সমাজ প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করবে। বাস্তবে তার কোন প্রতিফলন দেখা যায়নি। আজ বাংলাদেশে যখন যুদ্ধাপরাধীর বিচার নিয়ে যুবসমাজ আন্দোলনরত তখন শুধুমাত্র কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে এ আন্দোলন সীমাবদ্ধ থাকলেই হবে না— এ আন্দোলনের আলো ছড়িয়ে দিতে হবে যাবতীয় রাজনৈতিক অনাচার, দুর্নীতি, অগণতান্ত্রিক পদ্ধতির বিরুদ্ধে। উল্লেখিত বিষয়গুলোকে যদি নিশ্চিত করা যায় তবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে উদারপন্থি রাজনীতির উপস্থিতি নিশ্চিত হবে বলে আশা করা যায়।
রুমান হোসাইন রোমান
লোক প্রশাসন বিভাগ,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ।
নিজের স্বার্থে রাজনীতি
নয়, জনগণের স্বার্থে
রাজনীতি করতে হবে
আমাদের এই দেশ বাংলাদেশ যা অন্য দেশের তুলনায় ধনী দেশে পরিণত হয়নি। তাই আমাদের দেশের অর্থ সম্পদের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। হরতাল, হাঙ্গামা, হত্যা, গুম, মারামারি, কাটাকাটি নিয়ে যেভাবে দেশ মেতে উঠেছে তাতে বাংলাদেশের জনগণ নিরাপদ অবস্থায় আছে বলে মনে হয় না। সকলেই আজ চিন্তার মুখে পড়েছে কখন না জীবনটা চলে যায়। তাই সকল রাজনৈতিক দলকেই বলবো- নিজেদের দিকে না চেয়ে জনগণের দিকে তাকিয়ে রাজনীতি করুন, তাহলে দু’দলের জন্য মঙ্গল এবং জনগণের ভাল হবে। তা না হলে জনগণের যেমন ভালবাসা মন থেকে উঠে যাবে, তেমন ঐ রাজনৈতিক দলের জনপ্রিয়তাও কমে যাবে। তা হলে দু’দিক দিয়েই সে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই বলবো- নিজের স্বার্থে রাজনীতি নয়, জনগণের স্বার্থে রাজনীতি করলে সেটাই টিকে থাকবে। তাই দু’পক্ষ হিংসা ভুলে কাজ করবে মিলেমিশে। এই চিন্তা মাথায় রেখে রাজনীতি করলে জনগণই লাভবান হবে। তাহলে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার যে মিশন নিয়েছেন সরকার তা কানায় কানায় পূর্ণ হবে। তাই বলবো- মিলেমিশে করি কাজ হারি-জিতি নাহি লাজ। এটা তো গুণীজনরা আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন কিন্তু আজ দেশের কি অবস্থা হচ্ছে তা একটু ভালভাবে খেয়াল করা উচিত নয় কি? তাই রাজনৈতিক সকল দলকে বলবো- জমিনের বুকে যত মানুষ আমরা বসবাস করছি কেউতো সারাজীবন থাকতে আসিনি। একদিন তো চলে যেতে হবে, তাই পরকালের চিন্তা করে হলেও হিংসা ভুলে দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে দেশের জন্য কাজ করুন। আপনাদের মনে যে উদারতা আছে সেটাই প্রমাণ করুন জনগণকে ভালবেসে। তাহলে মনে হয় আল্লাহর রহমতে আগামী নির্বাচনে গণতান্ত্রিক উদার মনের মনোভাব প্রকাশ পাবে বলে মনে হয়।
মো. মোশারফ হোসেন সোহাগ,
বাংলাদেশ ওপেন ইউনিভার্সিটি, ষোলশহর ফরেস্ট অফিস, বাঁশবাগান, চট্টগ্রাম।
জনগণের স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলোকে সমন্বিতভাবে আলোচনায় বসতে হবে
আমরা সবাই জানি যে, এ সকল তিরস্কারমূলক কথা কারো জন্যই মঙ্গলজনক নয়, না সরকারি দলের, না বিরোধীদলের, না আপামর জনগণের। আমাদের দেশের প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দল গতানুগতিকভাবে তারা যদি নিজেদের কাজের ভাল দিক মানুষের কাছে প্রকাশ করার জন্য বেপরোয়া না হয়ে এবং অন্য দলসমূহের ত্রুটি নির্ণয়ে ব্যস্ত না হয়ে রাজনৈতিক প্রত্যেকটি দল সরাসরি আলোচনা সভার আয়োজন করে কিভাবে আমাদের দেশকে একটি আদর্শ গণতান্ত্রিক দেশ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করা যায় সে সকল বিষয়সমূহ নির্ধারণ করে পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করে যায় তাহলে অবশ্যই আমরা আশা করতে পারি, আগামী কিছুদিনের মধ্যেই আমরা একটি উন্নত ও সমৃদ্ধশালী দেশ হিসাবে পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশকে দেখতে পাব। আর এজন্য বিশেষ করে আমাদের দেশের প্রধান নেত্রীদের উচিত একত্রে বসে সমঝোতায় এসে একটি সুন্দর নির্বাচন দেশের মানুষকে উপহার দেয়া। আর নয় সংঘাত, হানাহানি, হরতাল, হত্যাযজ্ঞ। আমরা কিছুদিন আগে লক্ষ্য করেছি, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের আগে ও পরে বারাক ওবামা ও মিট রমনিদের ব্যবহার। আমার মনে হয় তাদের কাছ থেকে আমাদের গণতান্ত্রিক বিষয়সমূহ শেখা উচিত। আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলের প্রধানসমূহের নিকট আমার আকুল আবেদন- আপনারা আলাদা আলাদাভাবে সাংঘর্ষিক কোন কর্মকাণ্ডে লিপ্ত না হয়ে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় এসে একটি কাম্য ও সুন্দর নির্বাচন আমাদের দেশের জনগণকে উপহার দেবেন।
মো. তরিকুল ইসলাম (সোহাগ)
বি.বি.এস অনার্স (হিসাববিজ্ঞান)
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর।
