কক্সবাজারে চকরিয়া উপজেলার কোনাখালী-বদরখালী সড়কটির আটটি অংশের বেশির ভাগ মাতামুহুরী নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ১৫ ফুট প্রস্থের সড়ক এখন পাঁচটি স্থানে তিন ফুট হয়ে গেছে। এসব স্থান হেঁটে পার হওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। এছাড়া পুরো সড়কে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় গত দুই বছর ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সড়কটি দিয়ে চলাচলকারী কোনাখালী, ঢেমুশিয়া ও বদরখালী ইউনিয়নের লোকজন।
বদরখালী ইউনিয়নের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ মিজান বলেন, ‘বেহাল সড়কের কারণে বড় যানবাহন চলছে না দীর্ঘ দুই বছর ধরে। প্রতিদিন আট কিলোমিটার সড়ক হেঁটে বিদ্যালয়ে যেতে হয়। আমার মতো আরো অনেকেই নিয়মিত এ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।’
ঢেমুশিয়া ইউনিয়নের ছয়কুড়িটিক্কা এলাকার ইউপি সদস্য মোহাব্বত আলী বলেন, ‘কোনাখালী-বদরখালী সড়কটি অন্তত নয় বছর ধরে সংস্কার করা হচ্ছে না। এতে শিক্ষার্থীরা যেমন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে, তেমনি জনসাধারণও নিত্যদুর্ভোগের শিকার হচ্ছে।’
কোনাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দিদারুল হক সিকদার বলেন, ‘কোনাখালী-বদরখালী সড়কটি মূলত পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্মিত মাতামুহুরী নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ। মানুষের যাতায়াত ও যানবাহন চলাচলের সুবিধার্থে এ বাঁধটি সড়ক হিসেবে ব্যবহারের জন্য ২০০৪ ও ২০০৯ সালে দুই দফায় সড়কটিতে কার্পেটিং ও ঢালাইয়ের কাজ করে গাড়ি চলাচল উপযোগী করে দেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। বন্যায় মাতামুহুরী নদীর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের ধাক্কায় সড়ক কাম বেড়িবাঁধটি চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’
এ প্রসঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ড, কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার চিরিংগা শাখা কর্মকর্তা (এসও) তারেক বিন ছগির বলেন, ‘সড়কটি দেখভাল করে এলজিইডি। এখন সড়কটি সংস্কার বা মেরামত করবে এলজিইডি-ই। ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজ করার সুযোগ আছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে আমরা সড়কটি নদীর ভাঙন থেকে রক্ষা করতে পারবো।’
অপরদিকে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) চকরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী কমল কান্তি পাল বলেন, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ড ব্লক বসিয়ে অন্তত ৫০০ মিটার অংশ কাজ করে না দিলে এলজিইডির পক্ষে কোনো প্রকল্প গ্রহণ করা সম্ভব নয়।’
কক্সবাজার জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও কোনাখালী এলাকার বাসিন্দা আসমা উল হোসনা বলেন, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ড ও এলজিইডির রশি টানাটানিতে সড়কটি মেরামত হচ্ছে না।’
চকরিয়া উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ফজলুল করিম সাঈদী বলেন, ‘আশা করি টেকসই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে নদী ভাঙনের কবল থেকে সড়কটি রক্ষা করতে পারবো।’
