‘আর একটি গুলি চললে পরিণাম হবে ভয়াবহ’
মঙ্গলবার বিএনপির সকাল-সন্ধ্যা হরতাল
আজ সারাদেশে প্রতিবাদ মিছিল
দেশজুড়ে গত কয়েকদিনের সহিংসতায় অসংখ্য প্রাণনাশের ঘটনাকে ‘পৈশাচিক গণহত্যা’ হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন বিরোধী দলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘এই মুহূর্তে এ গণহত্যা বন্ধ করুন, আর একটি গুলিও যেন চালানো না হয়। চালালে এর পরিণাম হবে ভয়াবহ।’ তিনি অনতিবিলম্বে ‘রক্তপিপাসু খুনি’ সরকারের পদত্যাগ দাবি করে বলেন, দেশ আজ ভয়াবহ সংকটে। এমন ভয়ঙ্কর অবস্থা স্বাধীনতার পর আর কখনো সৃষ্টি হয়নি। গোটা জাতিকে আজ বিভক্ত করে ফেলা হয়েছে। ফ্যাসিবাদের নগ্ন থাবায় দেশে রক্ত ঝরছে, প্রাণ যাচ্ছে শান্তিপ্রিয় নিরস্ত্র নাগরিকদের। তিনি এই সংকটের মুহূর্তে দেশবাসীর প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, রাজপথে নামুন, আসুন দেশ বাঁচাই, মানুষ বাঁচাই।
জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায়কে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতায় ৩৯ জন নিহত হওয়াসহ দেশের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গতকাল শুক্রবার এক জনাকীর্ণ সাংবাদিক সম্মেলনে খালেদা জিয়া এই আহবান জানান। চিকিত্সা শেষে সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফেরার পরদিন বিএনপি চেয়ারপারসন তার গুলশান কার্যালয়ে এই জরুরি সাংবাদিক সম্মেলন করেন। এ সময় তিনি গত কয়েকদিনে ভয়াবহ সংঘাতে যারা জীবন দিয়েছেন তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন ও তাদের স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
প্রসঙ্গত, খালেদা জিয়ার এই সাংবাদিক সন্মেলনে কোন প্রশ্নোত্তর পর্ব ছিলো না। লিখিত বক্তব্য পাঠ শেষ হওয়ার পর পরই সাংবাদিকরা প্রশ্ন করতে চাইলে তিনি তাদের থামিয়ে দিয়ে কক্ষ ত্যাগ করেন।
সাংবাদিক সম্মেলন থেকে খালেদা জিয়া আগামী ৫ মার্চ মঙ্গলবার সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল এবং সরকারি ‘সন্ত্রাস ও গণহত্যা’র প্রতিবাদে আজ শনিবার সারাদেশে কালো ব্যাজ ধারণ করে প্রতিবাদ মিছিলের কর্মসূচির ঘোষণা দেন। তিনি জানান, কেন্দ্রীয়ভাবে আজ বিকাল ৩টায় নয়াপল্টনে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে প্রতিবাদ মিছিল বের করা হবে। এই মিছিলে শরিক হবার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি সরকার ও প্রশাসনের উদ্দেশে বলেন, জনগণের এসব শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ-বিক্ষোভে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করবেন না। জুলুম-নির্যাতনের পথ বেছে নিলে আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবো।
লিখিত বক্তব্যের শুরুতেই বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, আমি স্তম্ভিত। আমি ক্ষুব্ধ। আমি গভীরভাবে মর্মাহত। নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাবার কোনো ভাষা আমার নেই। আমাদের এই দেশে আবার চলছে পৈশাচিক গণহত্যা। পাখির মতো গুলি করে মানুষ হত্যা চলছে। গণহত্যার পৈশাচিক তাণ্ডবে মেতে উঠেছে সরকার। বৃদ্ধ, শিশু-কিশোর এমনকি কুলবধূরা পর্যন্ত রেহাই পাচ্ছে না তাদের হাত থেকে। মনে হচ্ছে, কোনো ভিনদেশী হানাদারেরা যেন দেশের মানুষের উপর পৈশাচিক হত্যাযজ্ঞে মেতে উঠেছে। কোনো একটি সরকার নিজের দেশের নাগরিকদের উপর এমনভাবে গণহত্যা চালাতে পারে তা আমাদের কল্পনারও অতীত। তিনি বলেন, এ ধরনের গণহত্যার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েই আমরা ১৯৭১ সালে মাতৃভূমিকে স্বাধীন করেছিলাম। সেই স্বাধীন দেশে আবার অন্য কোনো অজুহাতে কখনো কোনো সরকার গণহত্যার পথ বেছে নেবে তা আমরা মেনে নিতে পারি না। এর প্রতিবাদে জনগণকে সোচ্চার হবার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিরোধ সংগ্রামের প্রতি একাত্মতা ঘোষণা করছি। গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই কেবল সরকার সৃষ্ট নৈরাজ্যের হাত থেকে দেশ ও জাতিকে রক্ষা করা সম্ভব বলে আমরা মনে করি। আমরা আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি, রক্তার্জিত গণতন্ত্রকে এভাবে ধ্বংস হতে দিতে পারি না। তাই সব ধর্মমতের এবং পাহাড় ও সমতলবাসী প্রতিটি গণতন্ত্রকামী দেশপ্রেমিক নাগরিকের প্রতি আমার আহ্বান, দল-মত-শ্রেণী-পেশা নির্বিশেষে সকলে মিলে আসুন-দেশ বাঁচাই, মানুষ বাঁচাই। আসুন, ফ্যাসিবাদকে মোকাবিলা করে মহান মুক্তিযুদ্ধের সুবর্ণ ফসল গণতন্ত্রকে রক্ষা করি। জনগণের জানমালের হেফাজত করি। মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে শ্রদ্ধা জানাই। জাতীয় ঐক্য, সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও শান্তি নিশ্চিত করি।
পুলিশ, আধা-সামরিক বাহিনীসহ, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের প্রতি আহ্বান জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, বাংলাদেশের মানুষের টাকায় যে অস্ত্র কেনা হয়, সেই অস্ত্র নির্বিচারে জনগণের উপর ব্যবহার করবেন না। একটি গণবিচ্ছিন্ন ব্যর্থ সরকারের অন্যায় হুকুমে আপনারা গণহত্যাকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হবেন না। বরং জনগণের মৌলিক মানবিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় তাদের পক্ষে দাঁড়ান।
তিনি বলেন, সরকার বর্তমানে ফ্যাসিবাদী কায়দায় বাংলাদেশে ন্যায়বিচারের পরিবেশ সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে। এখানে রাষ্ট্রীয় ও সরকারি নিবর্তনে নিগৃহীত কোনো নাগরিকের ন্যায়বিচার পাওয়ার আর কোনো সুযোগ নেই। মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের বিচারের ক্ষেত্রেও এই কথা সমভাবে প্রযোজ্য। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাইব্যুনালের কোনো বিচারকের পক্ষেই স্বাধীন এবং নিরপেক্ষভাবে বিচারকাজ পরিচালনা কিংবা রায় দেয়া সম্ভব নয়। তাই এই ট্রাইব্যুনালের যে কোনো রায়ই এখন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে থাকবে।
এই প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ট্রাইব্যুনালের একটি রায়ের বিরুদ্ধে যে বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়, সরকার তার সঙ্গেও একাত্মতা ঘোষণা করে। শাহবাগের বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে প্রতিটি অভিযুক্তকে ফাঁসি দেয়ার যে দাবি জানানো হয় প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে তার প্রতি শুধু সমর্থনই ব্যক্ত করেননি, ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের প্রতি বিক্ষোভকারীদের দাবি বিবেচনায় রেখে রায় দেয়ারও আহ্বান জানান। কোনো সভ্য ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এ ধরনের ঘটনা নজিরবিহীন। এসব ঘটনার মাধ্যমে ন্যায়বিচারের সর্বশেষ আশাটুকুও আজ তিরোহিত।
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার সম্পর্কে দলীয় অবস্থান ব্যাখ্যা করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, বারবার পরিষ্কারভাবে বলেছি-মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের বিচার আমরা চাই। সেই বিচার হতে হবে স্বচ্ছ এবং দেশি ও আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে। আমরা বিচারের নামে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের পক্ষপাতি নই। এই বিচার প্রক্রিয়া, ট্রাইব্যুনাল ও আইন নিয়ে শুধু দেশে নয় আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলেও ব্যাপক প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। সে কারণে আমরা বারবার সরকারকে সতর্ক করে বলেছি যে প্রশ্নবিদ্ধ কোনো বিচার জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার বদলে বিভক্তির দিকেই ঠেলে দিবে। এ ব্যাপারে জাতীয় ঐকমত্য গঠন খুবই প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সরকার আমাদের কথায় কান দেয়নি। কারও সঙ্গে কোনো আলাপ-আলোচনাও করেনি। বরং যারা বিচার প্রক্রিয়ার ত্রুটিগুলো দূর করার কথা বলেছে, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার কথা বলেছে, তাদেরকে বিচার-বিরোধী এবং স্বাধীনতা বিরোধী হিসাবে চিহ্নিত করার অপচেষ্টা চালিয়েছে।
সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, অযোগ্যতা, সন্ত্রাস ও নৃসংশতায় তারা নিজেদের অতীত রেকর্ডও এবার ভঙ্গ করেছে। এরা সম্পূর্ণ গণবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ছলে-বলে-কলে-কৌশলে প্রচার মাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করে এরা প্রকৃত জনমতকে আড়াল করতে চাইছে। কিন্তু প্রকৃত অবস্থা তারা নিজেরাও জানে। তাই ক্ষমতায় থেকে নির্বাচনি প্রহসন করে আবার গদিতে বসতে চায়। নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গণদাবি, জাতীয় সংকট এবং তাদের সীমাহীন ব্যর্থতা ও দুর্নীতি থেকে জনগণের দৃষ্টিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অসত্ উদ্দেশে তারা দেশকে চরম অনিশ্চয়তা ও অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। গুম, খুন, সন্ত্রাস, গণহত্যা, হামলা-মামলা ও মিথ্যাচারের আশ্রয় গ্রহণ করেছে এ সরকার।
তিনি বলেন, সরকার বিচার প্রক্রিয়ার উপর চাপ প্রয়োগের উদ্দেশ্যেই ন্যায়বিচারের পরিবেশ ধ্বংস করে দিয়েছে। তারা জনগোষ্ঠীকে বিভক্ত করে এক ভয়ঙ্কর সংঘাত ও সহিংসতার পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। প্রতিটি নাগরিক আজ উত্কণ্ঠিত। সকলের নিরাপত্তা আজ বিপন্ন। এই অনৈক্য ও সংঘাত আমাদের জাতীয় নিরাপত্তাকেও আজ গুরুতর হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টির সমস্ত দায়-দায়িত্ব এই সরকারকেই বহন করতে হবে।
বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, সরকার গোটা জাতিকে আজ বিভক্ত করে ফেলেছে। দেশের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্ম পবিত্র ইসলাম এবং মহান স্বাধীনতাকে আজ পরিকল্পিতভাবে প্রতিপক্ষ বানিয়ে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ যেমন স্বাধীনতা-প্রিয়, তেমনি ধর্মপরায়ণ। ধর্ম কিংবা স্বাধীনতা কোনটির উপর আঘাতই তারা সহ্য করে না। ইসলাম এবং স্বাধীনতায় কোনো বিরোধ নেই। অথচ একটি কুচক্রি মহল মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের নামে পবিত্র ইসলাম, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এবং মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর বিরুদ্ধে নোংরা কুত্সা রটনায় লিপ্ত হয়েছে। এতে স্বাভাবিকভাবেই দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি দারুণভাবে আহত হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, ধর্মপ্রাণ মানুষ এর বিরুদ্ধে যখন শান্তিপূর্ণ পন্থায় প্রতিবাদ জানাবার উদ্যোগ নিয়েছে, অপরাধীদের শনাক্ত করে বিচারের দাবি তুলেছে তখন সরকার তাদের উপর চালিয়েছে নির্মম হত্যাযজ্ঞ। এসব ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষকে স্বাধীনতা বিরোধী, যুদ্ধাপরাধী ও তাদের দোসর হিসাবে চিহ্নিত করে সীমাহীন জুলুম-নির্যাতন চালানো হচ্ছে। সরকারি দলের সন্ত্রাসীরা মসজিদে ঢুকে মুসল্লি, খতিব ও ইমামদের পর্যন্ত হেনস্তা করেছে। প্রতিবাদ মিছিল থেকে কিশোর-তরুণদের ধরে নিয়ে তাদের গায়ে বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি করে হত্যা করেছে। নিজ গৃহে গৃহবধূকে পর্যন্ত গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এসব কাজে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সরকারি দলের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে অংশ নিচ্ছে। সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে এসব হত্যাকাণ্ডে তাদেরকে উত্সাহিত করা হচ্ছে। একটি হত্যার ঘটনারও কোনো তদন্ত, প্রতিকার কিংবা বিচারের উদ্যোগ সরকার নেয়নি।
শাহবাগের আন্দোলনকে ইঙ্গিত করে খালেদা জিয়া বলেন, সরকার একটি গোষ্ঠীকে উস্কানিমূলক ও বেআইনি কর্মকাণ্ড সংঘটনে প্রতিনিয়ত আস্কারা ও সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। তারা প্রতিনিয়ত ঘৃণা, বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে। জাতীয় জীবনে বিভেদ-বিভাজনকে উস্কে দিচ্ছে। স্বাধীন মত প্রকাশের কারণে সম্মানিত নাগরিকদের নাম ধরে হুমকি দিচ্ছে। সরকার-বিরোধী সংবাদপত্র এবং টিভি চ্যানেলগুলো বন্ধ করার হুমকি দিচ্ছে। আমারদেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে বেআইনিভাবে গ্রেফতারের জন্য চাপ সৃষ্টি করছে। ভিন্ন মতাবলম্বীদের ধরে ধরে জবাই করার আওয়াজ তুলছে। বিভিন্ন ব্যাংক, বীমা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাংচুরে উত্সাহিত করছে। এসব তত্পরতার মাধ্যমে আমাদের জনজীবনে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও জাতীয় অর্থনীতিকে যারা নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে সরকার তাদেরকে বাধা দেয়ার পরিবর্তে সার্বিক সহযোগিতা করে যাচ্ছে। সরকারের মন্ত্রীরা তাদের কাছে গিয়ে এসব কর্মকাণ্ডে সমর্থন যোগাচ্ছে।
বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, বিচার প্রক্রিয়ার ওপর বিক্ষোভের চাপ প্রয়োগকে সমর্থন করে, জাতিকে বিভক্ত করে সংঘাতের পথে ঠেলে দিয়ে এবং নিজের দেশের নাগরিকদের ওপর বর্বর হত্যাকাণ্ড চালিয়ে এই সরকার ক্ষমতায় থাকার সকল নৈতিক অধিকার হারিয়েছে। তারা ক্ষমতায় থাকলে দেশ আরো ভয়ঙ্কর বিপর্যয়ের দিকে ধাবিত হবে। সে কারণে আমরা অনতিবিলম্বে এই ‘রক্তপিপাসু খুনি’ সরকারের পদত্যাগ দাবি করছি।
বিএনপি নেত্রী বলেন, জনগণের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার হীন উদ্দেশে সরকার ইতিমধ্যেই পরিকল্পিতভাবে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বাড়ি-ঘরে আক্রমণ চালিয়ে দেশে বিরাজমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ধ্বংসের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। একই উদ্দেশে তারা বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের উপরও হামলা চালিয়েছিল। সরকারকে এমন আত্মঘাতী ষড়যন্ত্র থেকে বিরত হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের যে কোন অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সজাগ থাকার জন্য তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। গণমাধ্যমের উদ্দেশে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, অতীতে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও জনগণের স্বার্থ রক্ষায় আপনারা যেমন সোচ্চার ভূমিকা পালন করেছিলেন, আজ দেশ ও জাতির এই দুঃসময়ে ঠিক সেভাবেই জনগণের প্রকৃত আশা-আকাঙ্খা ও সংগ্রামকে প্রচার ও প্রকাশ করে চলমান গণতান্ত্রিক সংগ্রামে অংশ নিন।
খালেদা জিয়া নিজ দলীয় অবস্থান তুলে ধরে আরও বলেন, আমরা শান্তির পক্ষে। আমরা সংঘাত-সংঘর্ষ-হানাহানির বিপক্ষে। আমরা গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের পক্ষে। দলমত নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পক্ষে আমাদের দৃঢ় অবস্থান। সরকার যে ভয়াবহ অবস্থার দিকে দেশকে ঠেলে দিচ্ছে, গণহত্যায় মেতে উঠেছে, তাতে দেশের দায়িত্বশীল সর্ববৃহত্ রাজনৈতিক দল হিসাবে আমরা নিশ্চুপ দর্শক হয়ে থাকতে পারি না। যে কোনো মূল্যে জাতীয় ঐক্য ও সংহতি বজায় রাখার লক্ষ্যে সরকারের ঘৃণ্য, গণবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সচেতন ও সোচ্চার হবার জন্য তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।
