নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলায় ফসলি জমি থেকে টপসয়েল কেটে নেয়ায় উর্বরতা হারিয়ে যাচ্ছে আউশ, আমন ও বোরোসহ ফসলি জমির। এতে কৃষক ধানের অধিক ফলন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অপরদিকে লাভবান হচ্ছেন ইটভাটার মালিক ও দালাল চক্র। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সৈয়দপুর উপজেলার সবচেয়ে উর্বর জমি হলো কামারপুকুর ইউনিয়নে। অথচ এই ইউনিয়নে গড়ে উঠেছে প্রায় দুই ডজন ইটভাটা। এসব ইটভাটার মালিক আবাদযোগ্য ফসলি জমির টপসয়েল অর্থাত্ উপরিভাগের মাটি কিনে নিয়ে যাচ্ছে পানির দামে। জমির মালিকের অসচেতনতা, দারিদ্র্যতা ও আর্থিক সঙ্কটের সুযোগ নিয়ে ইটভাটার মালিকরা দালাল চক্রের মাধ্যমে জমির উপরিভাগের মাটি স্বল্প দামে কিনে ট্রাক ও ট্রলির মাধ্যমে নিয়ে যাচ্ছে। প্রতিবছর জমির উপরিভাগের মাটি কেটে নেয়ার কারণে অপেক্ষাকৃত নিচু হয়ে যাওয়ায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে বর্ষায় জমিগুলো আবাদের অযোগ্য হয়ে পড়ে।
জানা যায়, প্রতি বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফসলি জমিগুলোর মাটি বিক্রি শুরু হয়। প্রায় ৬ মাস ধরে এসব মাটি কেটে ট্রাক ও ট্রলিসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নিয়ে যায় ইটভাটার মালিকরা। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হোমায়রা মন্ডল জানান, মাটির উপরিভাগের ৮/৯ ইঞ্চির মধ্যে উর্বরা শক্তি থাকে। কিন্তু ওই টপসয়েল ইটভাটায় চলে যাওয়ার কারণে জমির অনেক ক্ষতি হচ্ছে যা এক দুই বছরে সার দিয়ে কোনোভাবে পুষিয়ে নেয়ার সুযোগ নেই। ফসলি জমির মাটি কেটে উঠিয়ে নেয়া রোধে সুনির্দিষ্ট কোনো শক্তিশালী আইন না থাকায় কোন ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না।
