অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেছেন, কৃষিখাতের উন্নয়নের লক্ষ্যে কৃষি, কৃষক ও কৃষি শ্রমিকদের সম্মিলিত উন্নয়ন প্রয়োজন। এই তিনের একটিকে বাদ দিয়ে কৃষি উন্নয়ন সম্ভব নয়। আর কৃষি শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে আইনগত স্বীকৃতি প্রয়োজন।
শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ উন্নয়ন পরিষদ আয়োজিত ‘কৃষি: জলবায়ু পরিবর্তন ও অভিযোজন’ শীর্ষক এই গোলটেবিল বৈঠকে তিনি একথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ। বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আবু এম কামালউদ্দিন। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঢাকা ওয়াসার সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. খন্দকার আজহারুল হক, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন, গবেষক ড. প্রতিমা পাল মজুমদার ও সাংবাদিক কামরুল ইসলাম চৌধুরী।
ড. কাজী খলীকুজ্জমান বলেন, মৌসুমে কৃষকরা ফসলের দাম পান না। আবার ফসলের দাম কমলে ক্রেতারা লাভবান হন। বাজার অর্থনীতির বেড়াজালে পড়ে এমন অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। এক সঙ্গে সকল কৃষক ফসল বিক্রি করেন বলে দাম পান না। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে কৃষকদের মৌসুমী ফসল কিছুদিনের জন্য ধরে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি বলেন, কৃষি শ্রমিকরা এখন ভালো মজুরি পান। প্রায় নয় থেকে দশ কেজি চালের সমান তাদের একদিনের মজুরি। তবে এসব কৃষি শ্রমিকদের আইনগত কোনো স্বীকৃতি নেই। তাই কৃষি শ্রমিকদের অবিলম্বে আইনগত স্বীকৃতি দিতে হবে। খলীকুজ্জমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনে কৃষিখাতে ব্যাপক প্রভাব পড়ছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে শুধু এই একটি খাতকেই আলাদা করে দেখলে হবে না। সামগ্রিকভাবে দেখতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় সকল খাতকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
মূল প্রবন্ধে আবু এম কামালউদ্দিন বলেন, কৃষি খাতই এখনো দেশের অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি। দেশের মোট জিডিপির বিশ শতাংশ আসে কৃষিখাত থেকে। দেশের অর্ধেক কর্মজীবী কৃষিখাতে নিয়োজিত। পানির স্তর কমে যাচ্ছে, বন্যা, পানি স্বল্পতা, লবণাক্ততা, তাপমাত্রা বৃদ্ধি ইত্যাদির জন্য কৃষিখাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এই প্রভাব মোকাবেলায় কাজ করতে হবে।
কৃষিখাতে প্রভাব মোকাবেলায় বীজ সংরক্ষণ ব্যবস্থায় জোর দিতে হবে। পাশাপাশি কৃষি গবেষণা, কৃষকদের প্রশিক্ষণ, কৃষকদের সংগঠিত, বন্যা মোকাবেলা, লবণাক্ততা রোধ ইত্যাদি কার্যক্রম নিতে হবে।
ড. আজহারুল হক বলেন, কৃষিজমি কমে যাচ্ছে। প্রতিবছর এক শতাংশ করে জমি কমছে। তার পরেও প্রতি বছর কৃষিখাতে অবদান বাড়ছে। কৃষকরাই এদেশকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। জলবায়ু পরিবর্তন প্রভাব মোকাবেলার বিষয়ে কৃষকদের সচেতন করতে হবে।
ড. প্রতিমা পাল মজুমদার বলেন, কৃষিখাতে নারীর অবদান বিশাল। তবে নারীর অবদানকে কেউ গুরুত্ব দিতে চাইছেন না। কৃষিখাতে নারীর অবদানের স্বীকৃতি দিতে হবে। নারীদের আরো বেশি করে প্রশিক্ষণ দিতে হবে।
কামরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, কৃষিখাতে এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের জীবন জড়িয়ে রয়েছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তনে কৃষিখাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এই প্রভাব মোকাবেলা করতে না পারলে কৃষিখাতে বিপর্যয় দেখা দেবে।
