রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে বেসামাল হয়ে পড়েছে ভোগ্যপণ্যসহ নিত্যপণ্যের বাজার। চাল, ডাল, পেঁয়াজ, রসুন, মাছ, মাংসসহ প্রতিটি পণ্যের দাম কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। খুচরা ও পাইকারি বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে বলে বিক্রেতারা জানান। পাইকারি বাজারে বিক্রীত পণ্য হরতালের কারণে সরবরাহ করা যাচ্ছে না। বিভিন্ন গুদামে বিক্রীত মাল আটকা পড়েছে। ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের কারণে পরিবহন সংস্থাগুলো ভাড়া নিচ্ছে না।
রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার বিরূপ প্রভাব পড়েছে দেশের অন্যতম পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে। বেচা-কেনা হচ্ছে না। অন্যান্য সময়ের মতো ব্যস্ততম এই বাণিজ্য কেন্দ্রে কোন ভিড় নেই। কোন যানজটও নেই। ব্যবসায়ীরা জানান, ইতিমধ্যে বিক্রীত পণ্য এখনো গুদামে পড়ে রয়েছে। পরিবহন সংকটে সরবরাহ করা যাচ্ছে না। গত কয়েকদিনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কে অসংখ্য পণ্যবাহী ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করা হয়েছে। এমতাবস্থায় ট্রান্সপোর্ট এজেন্সিগুলো ঝুঁকি নিয়ে পণ্য পরিবহনে রাজি হচ্ছে না। এ প্রসঙ্গে খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ছগীর আহমদ ইত্তেফাককে বলেন, ‘মানুষের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে। গুদাম থেকে পণ্য সরবরাহ করা যাচ্ছে না। বন্দর থেকে পণ্য আনা যাচ্ছে না। পরিবহন সংকটে পাইকারি বাজার বেশি সমস্যায় পড়েছে।’
ব্যবসায়ীরা জানান, চালের বাজার গত এক সপ্তাহের মধ্যে বস্তাপ্রতি ২০০ টাকা বেড়েছে। পাইকারি বাজারে চালের সরবরাহ না থাকায় দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ব্যাপারে চাক্তাই চাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ওমর আজম ইত্তেফাককে বলেন, ‘দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে চট্টগ্রামে চাল আসে। হরতালের কারণে পরিবহন সংস্থাগুলো ভাড়া নিচ্ছে না। ফলে চালের সরবরাহ কমে যাওয়ায় দামও বৃদ্ধি পেয়েছে।’ মেসার্স নিউ ইউনিভার্সেল ট্রান্সপোর্ট সিন্ডিকেটের মালিক মো. মফিজুর রহমান জানান, হরতালের কারণে নতুন করে কোন ভাড়া নেয়া হচ্ছে না। খুচরা বাজারে মিনিকেট কেজি ৪০ থেকে ৪২ টাকা, পাইজাম ৪৬ থেকে ৪৮ টাকা, কাটারি আতপ ৭০ টাকা, কাটারি সিদ্ধ ৮০ টাকা, জিরাশাইল ৪৬ টাকা ও বেতি ৩৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে মৌসুমের মধ্যে বিভিন্ন প্রকারের সবজি কেজিতে ১০ থেকে ১২ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
এদিকে পেঁয়াজ, রসুন ও আদার মূল্য কেজিতে ৮ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। গতকাল খাতুনগঞ্জে পাইকারি বাজারে পেঁয়াজ কেজি ৩৫ টাকা, রসুন ১২০ টাকা ও আদা ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে খুচরা বাজারে পাইকারি বাজারের চেয়ে কেজিতে দ্বিগুণ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
