প্রজন্মের ফিটনেস পরামর্শক

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০১৩, ১৯:০৮
সুস্থ শরীরের জন্য ব্যায়ামের বিকল্প নেই। শুধু ওজন কমানো নয়, শরীরকে সুস্থ রাখতে ব্যায়ামের প্রয়োজন। প্রতিদিনের কাজের ফাঁকে নিজের জন্য অন্তত ত্রিশ মিনিট সময় বের করে সেরে নিতে পারেন ব্যায়াম। তরুণ থেকে বৃদ্ধ বয়স পর্যন্ত শরীরকে ফিট আর নিরোগ রাখতে ব্যায়াম করা প্রয়োজন। এর জন্য জিম বা ব্যায়ামগারই হতে পারে আপনার অন্যতম আদর্শ জায়গা। সেখানে দক্ষ ফিটনেস পরামর্শকের মাধ্যমে আপনার শরীরের সুস্থতা নিশ্চিত করতে পারেন, পেশা হিসেবে ফিটনেস পরামর্শক এই প্রজন্মের কাছেও অনেক জনপ্রিয়। তাই এবার এই প্রজন্মের কয়েকজন মেধাবী ফিটনেস পরামর্শকদের নিয়ে আমাদের এই আয়োজন, পুরো আয়োজনটি দেখুন পরের পৃষ্ঠায়। গ্রন্থনা ও সম্পাদনা করেছে রিয়াদ খন্দকার ও সাজেদুল ইসলাম শুভ্র মো স্তা ফি জু র র হ মা ন মা নি ক ফিটনেস পরামর্শক, ফিটনেস ওয়ার্ল্ড তার বড় ভাই বাংলাদেশে প্রথম আধুনিক ফিটনেস সেবা দেওয়ার কাজটা শুরু করেন। এখান থেকেই ফিটনেস সেবা সম্পর্কে জানতে পারা এবং পথ চলার শুরু তার। এরপর ভাইয়ের পথে ধরেই হেঁটেছেন, প্রমাণ করেছেন ফিটনেস কনসালটেন্ট হিসেবেও সফল ক্যারিয়ার গড়া সম্ভব। শুনছেন মোস্তাফিজুর রহমান মানিকের কথা, তিনি ফিটনেস ওয়ার্ল্ডের একজন পরামর্শক। মোস্তাফিজুর রহমান মানিক বলেন, ‘জিমন্যাশিয়ামের আধুনিক রূপটিই হলো জিম। এখানেও প্রয়োজন হয় ফিটনেস ট্রেনিং প্রফেশনালদের। এখানে যোগাসন বা ব্যায়ামের বিশদ প্রশিক্ষণের কোনো স্কোপ নেই। এখানে ব্যায়াম-সহায়ক মেশিনগুলোর ব্যবহার ভালো করে জেনে রাখতে হয়। একজন তিরিশ বছরের বেশি বয়সী মানুষের দেহের বাড়তি ফ্যাট ঝরানোর উপায় যেমন বলে দিতে হয়, তেমনই একজন আঠারো-উনিশ বছর বয়সের ছেলে কীভাবে সিক্স প্যাক তৈরির রাস্তায় হাঁটবে, তা-ও শেখাতে হয় ফিটনেস ইনস্ট্রাক্টরদের। তাই এদের কাজের জায়গাটা বিশাল।’ কেমন যোগ্যতা থাকা উচিত ফিটনেস কনসালটেন্টদের? এ প্রশ্নের উত্তরে মোস্তাফিজুর রহমান মানিক বলেন, ‘ফিটনেস ট্রেনিংয়ের তিনটি প্রধান ধরন রয়েছে। এগুলো হলো—১. গ্রুপ ফিটনেস ইনস্ট্রাক্টর :যারা কোনো গ্রুপকে বা ক্লাবে বা ক্লাসরুমে একেকটি দলকে ফিটনেস প্রশিক্ষণ দেন। ২. এক্সারসাইজ স্পেশালিস্ট :এরা ফিজিশিয়ানের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যায়াম শিখিয়ে থাকেন। সাধারণত বিভিন্ন রোগীরা তাদের রোগ সারানোর জন্য নির্দিষ্ট ব্যায়াম শেখার জন্যই এদের কাছে আসেন। ৩. পার্সোনাল ট্রেনার :এই ধরনের ট্রেনাররা কোনো প্রতিষ্ঠানে ফিটনেস ট্রেনিংয়ের জন্য আসা প্রতিটি মানুষকে আলাদা করে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন। গ্রাহকদের সন্তুষ্টিই এদের কাজের একটি প্রধান শর্ত।’ মানিক আশঙ্কা প্রকাশ করে বললেন, ‘অসুখের পরিমাণ অনেক বেড়ে গেছে। আমাদের দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারের থেকেও এখন অসুস্থ রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির হার বেশি। এরচেয়ে দুঃখজনক আর কিছু নেই। এখন আর সেইদিন নেই যে, চল্লিশ না হলে হার্টের সমস্যা হবে না, বাবা-মা কারও ডায়াবেটিস না থাকলে আমারও হবে না। খুব অল্প বয়সে দেখা যাচ্ছে মানুষজনের ডায়াবেটিস, হাইব্লাড প্রেশার, অতিরিক্ত মেদ, চোখের সমস্যা ইত্যাদি ইত্যাদি! আরও বেশ কিছু ভয়ঙ্কর রোগ আপনার শরীরে খুব সহজে প্রবেশ করতে পারে যদি আপনি আপনার স্বাস্থ্যের প্রতি এখন থেকেই যত্ন না নেন। আর চিকিত্সার পাশাপাশি দরকার ফিটনেস ঠিক রাখা, এ ক্ষেত্রে আপনাকে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করতে পারে ফিটনেস কনসালটেন্ট।’ কাজের সুযোগ সম্পর্কে হেলাল বলেন, ‘এখন ঢাকা শহরে প্রচুর জিম গড়ে উঠেছে। এরমধ্যে বড় বড় জিমেরও অভাব নেই। এসব জিমে শরীর গঠনের প্রায় সব ধরনের শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণই পাওয়া যায়। আবার ফিটনেস ইনস্ট্রাক্টর হতে চাইলেও এসব জিমেই পাওয়া যাবে সুযোগ। তার জন্য এসব জিমে প্রশিক্ষণ নেওয়ার সময়েই তাদের সাথে ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারেন। ভালো একজন ইনস্ট্রাক্টর হয়ে উঠতে পারলে জিমগুলোই আপনাকে ডেকে নেবে। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নিয়ে ফিটনেস ইনস্ট্রাক্টর হতে পারলে কাজের সুযোগ পাওয়া যাবে সব স্থানেই। আর যারা ছোটবেলা থেকেই শরীর নিয়ে চিন্তিত, তাদের জন্য তো এটি হতে পারে পছন্দের এবং স্বপ্নের এক আদর্শ ক্যারিয়ার। কাজেই আর সময় নষ্ট না করে এখনই খুঁজে বের করুন আপনার জন্য উপযোগী জিম আর শুরু করে দিন প্রশিক্ষণ।’ মোস্তাফিজুর রহমান মানিক ডাক নাম :মানিক জন্মতারিখ ও স্থান :১ মার্চ, লক্ষ্মীপুর। মায়ের নাম :জুলেখা রহমান বাবার নাম :ফজলুর রহমান প্রথম স্কুল :সামাদ একাডেমী স্কুল প্রিয় মানুষ :ড. মুহম্মদ ইউনুস প্রিয় উক্তি :সেল্ফ হেল্প ইজ দ্য বেস্ট হেল্প। প্রিয় পোশাক :জিন্স প্যান্ট, টি-শার্ট অবসর কাটে যেভাবে :গান শুনে সাফল্যের সংজ্ঞা :অধ্যবসায়। ---- খ স রু পা র ভে জ রু মি স্বত্বাধিকারী ও পরামর্শক, কমব্যাট জিম শৈশব থেকেই একটা ঝোঁক ছিল স্বাস্থ্য গঠনের প্রতি, যখন বড় হতে থাকলেন সেই ঝোঁকটা আরও পেয়ে বসল। বন্ধুবান্ধবদের নানা সময়ে পরামর্শ দিতেন কীভাবে জিম করবেন তা নিয়ে। এখান থেকেই ভাবতে শুরু করলেন, কীভাবে কর্পোরেট পর্যায়ে পরিণত করা যায় ফিটনেস সেন্টারের পরিধিকে। খসরু পারভেজ রুমির শুরুটা সেভাবেই। ২০০০ সাল থেকেই নিজের প্রতিষ্ঠান থেকে সহায়তা দিয়ে আসছেন সব ধরনের মানুষকে। তিনি জানান, এখন সবাই বুঝতে পেরেছে পড়াশোনা, খাওয়াদাওয়ার মতোই প্রয়োজনীয় একটি কাজ ব্যায়াম। সময়ের সাথে সাথে আস্তে আস্তে ভালো অবস্থানে পৌঁছাচ্ছে ফিটনেস পরামর্শক পেশাটি, মানুষের সচেতনতার সাথে সাথে কাজের সুযোগও বেড়েছে অনেক। ফিটনেস ট্রেনিংয়ের একটা খুব উপকারী দিক হলো এতে নানা রকম ছোটখাটো রোগ বা কোনো দীর্ঘস্থায়ী রোগ অনেকটাই ভালো হয়ে যায়। শুধু তাই নয়, যোগাসনে অনেক ধরনের রোগ হওয়ার আশঙ্কাও কমে যায়। জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এই কাজের পেশাদারদের আয়ের সুযোগও ক্রমশ বেড়েছে। তবে মনে রাখতে হবে যে, এই পেশায় প্রথম থেকেই কিন্তু আশানুরূপ উপার্জন হয় না। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আয় বাড়তে থাকে। যেহেতু ফিটনেস ট্রেনিংয়ের জন্য যারা আগ্রহী হন, তারা প্রায় সবাই অর্থনৈতিক দিক থেকে সচ্ছল বা উন্নত অবস্থা থেকে আসেন। তাই প্রথমদিককার চ্যালেঞ্জটা মোকাবেলা করা তাদের জন্য সহজ হয়। এই পেশায় টাকাপয়সা লোকসান হওয়ার ভয় কম তাই বিনিয়োগকারীকেও হতাশ হতে হয় না। তবে প্রথমেই নিজেকে তৈরি করতে হবে। কোনো একটা ভালো প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যবহারিক ও তাত্ত্বিক দুই ধরনের শিক্ষাতেই নিজেকে শিক্ষিত করতে হবে। ফিটনেসের মনস্তাত্ত্বিক এবং শারীরিক আসপেক্ট সম্বন্ধে ভালো করে জানতে হবে। কোনো বিখ্যাত প্রতিষ্ঠানে ফিটনেস ইনস্ট্রাক্টরের চাকরি পেতে গেলে অনেক বেশি পরিশ্রম করে সেই যোগ্যতা অর্জন করতে হয়। তবে সব স্কুলেই শরীর চর্চার শিক্ষক কম-বেশি নেওয়া হয়। তাই এসব স্কুলেও পেতে পারেন চাকরি, এমনটাই জানালেন খসরু। খসরু বলেন, ‘ফিটনেস প্রশিক্ষণের কাজ করতে গেলে মানুষের শরীর নিয়ে কিছু নির্দিষ্ট পড়াশোনাও করে রাখতে হয়। মানুষের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, শরীরস্থান বা অ্যানাটমি নিয়ে পড়াশোনা না করলে কাজের ক্ষেত্রে সমস্যা হয়। একজন ফিটনেস এক্সপার্টের কাজ হলো, একজন ক্লায়েন্টের জন্য উপযুক্ত ফিটনেস প্রোগ্রাম বানিয়ে দেওয়া। আর এই ফিটনেস প্রোগ্রামের মধ্যে ব্যায়ামের পাশাপাশি উপযুক্ত ডায়েটের আউটলাইনও তৈরি করতে হয় ফিটনেস এক্সপার্টকে। নিয়মিত ব্যায়াম ও ডায়েট অনুসারে খাওয়া-দাওয়া করে চললেই তবে জিম করার পুরোপুরি ফল পাওয়া যায়। তাই ফিটনেস ইনস্ট্রাক্টরকে নিউট্রিশন বা পুষ্টিবিজ্ঞান এবং ডায়েটিক্স নিয়েও বেসিক পড়াশোনা শিখতে হয়। ক্লায়েন্টকে সম্পূর্ণ সুস্থ এবং সুরক্ষিত লাইফস্টাইলের রাস্তা দেখাতে গেলে ইনস্ট্রাক্টরকে একসঙ্গে অনেকগুলো আসপেক্ট মনিটর করেই এগোতে হয়।’ খসরু নিজেও পড়াশোনা করে এসেছেন থাইল্যান্ড থেকে। তার অবসর সময়টা কেটে যায় স্ত্রী তুলি আর সন্তান লিওনের সাথে। একমাত্র সন্তান লিওন পড়ছে ক্লাস থ্রিতে। খসরুর ছেলেবেলা কেটেছে ঢাকাতেই, ম্যাপললিফ ইন্টারন্যশনাল স্কুলে তার পড়শোনার শুরু। তার ভবিষ্যত্ পরিকল্পনাও তার ফিটনেসকে ঘিরে, এটাকে সব শ্রেণী-পেশার মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চান তিনি। কিছুদিন আগেও এখনকার মতো এত জিম ছিল না। ফলে ফলে নির্দেশনার অভাবও ছিল। তবে এখন আবার পরিস্থিতি বদলে গেছে। এখন অনেক জায়গাতেই রয়েছে জিম। আবার কেবল শরীর গঠনই নয়, এখন তার সাথে যোগ ব্যায়াম বা অন্যান্য উপকরণ মিলিয়ে পুরো বিষয়টাই নিয়েছে ভিন্ন ধরনের চেহারা। এই অগ্রযাত্রায় ভূমিকা রাখবেন তিনি, শুভকামনা খসরুর জন্য। খসরু পারভেজ রুমি ডাক নাম :রুমি জন্মতারিখ ও স্থান :৪ জুলাই, ঢাকা। মায়ের নাম :হাজেরা বেগম বাবার নাম :আমির হামজা প্রথম স্কুল :ম্যাপললিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল প্রিয় মানুষ :ম্যাসইয়োমা প্রিয় উক্তি :ইফ ইউ ওয়ান্ট পিস, প্রিপেয়ার ফর ওয়্যার। প্রিয় পোশাক :জিন্স, টি-শার্ট অবসর কাটে যেভাবে :ভ্রমণ সাফল্যের সংজ্ঞা :পরিশ্রম আর অধ্যবসায়। ----- শা মী মা আ ক্তা র তু লি ফিটনেস বিষয়ক পরামর্শক, কমব্যাট জিম কারাতের কথা শুনে শিহরিত হই আমরা, ছন্দের মাধ্যমে নিজের আত্মরক্ষার অভিনব কী এক উপায়! এই কারাতে-তে বাংলাদেশের যে ক’জন মহিলা ব্ল্যাকবেল্ট পাওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন তাদের মধ্যে শামীমা আক্তার তুলির নাম প্রথম সারিতে। তিনি স্বাস্থ্য-সচেতন হবেন, এটাই স্বাভাবিক। তিনি একসময় চাইলেন নিজের চিন্তাভাবনাটা সবার মাঝে ছড়িয়ে দেবেন, সেই ভাবনা থেকেই কাজ শুরু, করছেন এখনও। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর করা শামীমা আক্তার ফিটনেস নিয়ে পড়াশোনা করেছেন অনেক। অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া থেকে আন্তর্জাতিক অনেক বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে তবেই তিনি মানূষের মঝে এই সেবাটা ছড়িয়ে দিতে নেমেছেন। সময়ের সাথে সাথে কাজের সুযোগ বেড়েছে অনেক। শামীমা আক্তার পড়াশোনার পাশাপাশি কাজটা করে গেছেন সমান তালে। কাজ করতে গিয়েই তিনি উপলব্ধি করেছেন, শতভাগ স্বাছন্দ্যের সাথেই এই পেশায় কাজের সুযোগ রয়েছে। সংকীর্ণতার উর্ধ্বে গিয়ে তার পরিবার ও শ্বশুরবাড়ির লোকেরা সমর্থন দিয়েছেন বলেই এই অবস্থানে নিয়ে এসেছেন নিজেকে। আমাদের দেশে মানুষের যেহেতু বাইরে ব্যায়ামের সুযোগ অনেক কম, তা ছাড়া উপযুক্ত পরিবেশও নেই, সেই ভাবনা থেকেই স্বামীর সহায়তায় যাত্রা শুরু করেছিলেন কমব্যাট জিম। এখন অনেকেই তাদের উপর আস্থা রেখেছে, সঠিক জনের জন্য সঠিক ফিটনেস ট্রেনিংটাই একজন পরামর্শকের কাজ, কোনও কোনও ক্ষেত্রে তিনি একজন চিকিত্সকের চেয়েও বেশি উপকার করতে পারেন মানুষের। রোগ হওয়ার আগে থেকেই স্বাস্থ্য ফিট রাখার জন্য কাজ করতে হবে। আর এ জন্য দরকার একজন অভিজ্ঞ কনসালটেন্ট। মাল্টিজিম ব্যবহার ও তার সম্পর্কে কিছু তথ্য জানালেন শামীমা আক্তার, এই সময় সঠিকভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। ব্যায়াম করার সময় ঠিকমতো শ্বাস-প্রশ্বাসের আসা-যাওয়া শরীরকে সুস্থ রাখে। তবে ব্যায়াম চলাকালীন ক্লান্ত হয়ে পড়লে বা নিঃশ্বাস নিতে অসুবিধা হলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যায়াম বন্ধ করে দেওয়াই ভালো। যেহেতু মাল্টিজিমে একাধিক ইকুইপমেন্ট একত্রে সংযোগ থাকে, তাই আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী এসবের সমন্বয় করে নিতে পারেন। আপনি যদি নিয়মিত জিম করে থাকেন এবং বডি টোনিংয়ের জন্য মাল্টিজিম ব্যবহার করেন তাহলে কম ওয়েটস্ট্যাক ব্যবহার করতে হবে। তবে আপনি যদি মাসল বিল্ডআপ করতে চান তাহলে বেশি ওয়েটস্ট্যাক ব্যবহার করতে পারেন। খোলামেলা জায়গায় মাল্টিজিম রাখুন। পরিবারের সবাই যদি মাল্টিজিম ব্যবহার করে তাহলে অবশ্যই অ্যাডজাস্টেবল সিটে ওয়েট দেওয়া মাল্টিজিম কিনুন। একজন অভিজ্ঞ ট্রেনারের সাহায্য নিয়েই সব কাজ করা উচিত, মনে রাখতে হবে, ভুল ব্যায়ামে কিন্তু ক্ষতিও হতে পারে। এই জিনিসগুলো না জেনেই অনেকে কাজ শুরু করে দিচ্ছে, এটা সঠিক নয়। শামীমা আক্তার আরও বলেন, ‘আমাদের দেশে অনেক যন্ত্র থাকলেও সেটি কিন্তু আমরা ঠিকমতো ব্যবহার করতে পারি না। আমাদের উচিত এই জিনিসগুলো সবাইকে জানানোর চেষ্টা করা। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাটাও এটার সাথে একটু যুক্ত করতে হবে।’ পারিবারিক জীবনে শামীমা আক্তার তুলি অনেক সুখী। স্বামী খসরুকে নিয়ে রচিত হয় তার সুখের দিনলিপি, যিনি নিজেও একজন ফিটনেস পরামর্শক। তাদের একমাত্র সন্তান লিওন তার প্রিয় মানুষ। তার সাথেই কেটে যায় তার সারা বেলা। বাকি সময়টা কেটে যায় জিমে স্বাস্থ্যসচেতন নারীদের সাথে। তুলি বললেন, ‘এ সময়ের মানুষেরা অনেক সচেতন তাদের স্বাস্থ্য নিয়ে। সব কিছুর মতোই এটাও দরকারি সেই জ্ঞানটা এসেছে, এটা অনেক দরকারি ছিল। আর ফিটনেসটা যে বিলাসিতা নয় এটাও আমাদের বুঝতে হবে, তাহলেই হয়তো পেশার সাথে সাথে সার্বিক পরিস্থিতিরও উন্নয়ন ঘটবে।’ শামীমা আক্তার তুলি ডাকনাম :তুলি জন্মতারিখ ও স্থান :২০ জুলাই, কুমিল্লা। মায়ের নাম :রওশন আরা বেগম বাবার নাম :মোহাম্মদ সেকেন্দার প্রথম স্কুল :সিলেট সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রিয় মানুষ :আমার ছেলে লিওন প্রিয় উক্তি :ডোন্ট গিভ আপ। প্রিয় পোশাক :সব ধরনের পোশাক। অবসর কাটে যেভাবে :ছেলের সাথে। সাফল্যের সংজ্ঞা :যা করছি, সেটা সবার উপকারে এলেই সফলতা। ----- হে লা ল উ দ্দি ন ফিটনেস পরামর্শক, রতন’স হেলথ ক্লাব হলিউডের সব ছবিতে আর্নল্ড শোয়ার্জনিগার, ভ্যান ড্যাম, জ্যাসন স্ট্যাথামদের মতো নায়কদের শারীরিক গঠনে মুগ্ধ হয় না, এমন ছেলে খুব কমই রয়েছে। আর যাদের অল্প বয়সেই এসব নায়কদের ‘সিক্স প্যাক’ শরীরের ছবি দেখার সৌভাগ্য হয়েছে, তাদের হয়তো ছোটবেলা থেকেই মনের কোণায় ইচ্ছে জন্মে সিক্স প্যাক শরীর তৈরির। এ রকম অনেক ছেলের ঘরে ঢুকলেই পাওয়া যাবে এসব নায়কদের সুঠাম শরীরের ছবি। কিন্তু ছবি টাঙ্গিয়ে আর মনে মনে কল্পনা করলেই কি আর এসব নায়কদের মতো শরীরটা তৈরি করা যায়? যায় না বলেই অনেকেই ছোটবেলা থেকেই জোরসে শুরু করে ব্যায়াম। তবে অনেকেই তা ধরে রাখতে পারে না। আর সে কারণেই কিছুটা শরীর তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত আবার সেই পুরোনো রূপেই ফিরে যেতে হয়। রতন’স হেলথ ক্লাবের ফিটনেস কনসালটেন্ট হেলাল উদ্দিন শুরু করলেন এভাবেই। কথাতেই আভাস রয়েছে ফিটনেসটাকে হেলাফেলা করে দেখার কিছু নেই, দেখতে হবে প্রয়োজন হিসেবে। হেলাল বললেন, ‘ফিটনেস অবশ্যই বিলাসিতা নয়, কিন্তু অধিকাংশরাই এই বিলাসিতাটা করে। কীভাবে? আমার দৃষ্টি ভঙ্গি একটু অন্য রকমের। তোমার আশপাশের মানুষজন কেমন জানি না, কিন্তু আমি বিগত ১০ বছরে এমন অনেক পরিবার, মানুষজন দেখেছি যারা ফিটনেসের জন্য অনেক টাকা খচর করেছে বটে কিন্তু শেষে কোনো লাভই ঘরে তুলতে পারেন না। যেমন, এই মুহূর্তে আমার বারান্দায় দাঁড়ালে দেখা যাবে সামনের বিল্ডিংয়ের দুটি ফ্ল্যাটের বারান্দায় দেখা যাচ্ছে অযত্নতে বস্তা দিয়ে ঢেকে পড়ে আছে দামী দামী ব্যায়াম করার যন্ত্র। একেকটির দাম প্রায় ১০-১২ হাজার টাকা হবে। দক্ষিণের জানালা দিয়ে তাকালে পাশের বাসার ছাদে পড়ে আছে দৌড়াবার মেশিন। ওটার দামও ৮-১০ হাজার হবে। আমার ২-৩ জন আত্মীয়ের বাসার বারান্দায় আর ছাদে পড়ে আছে একটা করে ফিটনেস মেশিন। আমার অফিসের কিছু কলিগের মাঝে খুব ঝোঁক এল ফিট থাকার। ব্যস সাথে সাথে দুটি যন্ত্র কেনা হয়ে গেল। ১-২ মাস চলেছে, তারপর ওগুলো পড়ে আছে স্টোর রুমে। আমার পরিচিত আরেকজন ফিট থাকার জন্য সাইকেলের মতো মেশিনটি কিনে দিতে বলল। আমি তাকে চ্যালেঞ্জ করে বললাম, পৃথিবীর খুব কম মানুষ ব্যায়াম কন্টিনিউ করতে পারে, অনেকে উদ্যমে প্রথমে শুরু করে বটে কিন্তু শেষে মেশিনটি না বিক্রি করা যায় না ফেলে দেওয়া যায়। কিন্তু নাহ্, কথা শুনল না। শেষে দিলাম কিনে। ১ মাস। শেষ। ওর বড় বোন কিনে নিতে চাইল। আমি বললাম, বিক্রির কি দরকার, এমনি এমনি দিয়ে দাও কারণ সেও কন্টিনিউ করতে পারবে না। এই হচ্ছে আমাদের দেশীয় পর্যায়ে ফিটনেসের চিন্তাভাবনা। তবে দিনকে দিন মানুষের ধারণা পাল্টাচ্ছে। তাই কাজের অনেক সুযোগ তৈরি হচ্ছে।’ হেলাল আরও বলেন, ‘শুধু এক্সারসাইজ করলেই তো চলে না, ফিটনেসের জন্য ডায়েটের ব্যাপারটাকে বেশ গুরুত্ব দিতে হয়। আপনি নিজেই পারেন আপনার মোটিভেশন লেভেল গড়ে তুলতে। অনেক সময় মনে হয় জিম থাকলে বোধহয় আপনার বর্তমান অবস্থা হতো না, কখনো কখনো ভাবেন বাসায় ট্রেডমিল থাকলে হতো। কখনো আবার একগাদা ফিটনেসের বই, ভিডিও টেপ কিংবা এক্সারসাইজের জন্য রিদমিক অডিও সিডি কিনে নিয়ে আসেন। কিন্তু শুরু আর করা হয় না। অথচ আপনার চারপাশে এরকম অনেক উপায় ছড়িয়ে আছে। শুধুমাত্র মনোসংযোগ বাড়ানোর মাধ্যমেই আপনি নিজের প্রত্যয়কে একটি সুনির্দিষ্ট অবস্থানে নিয়ে যেতে পারেন।’ পারিবারিক জীবনেও যথেষ্ট সুখী হেলাল উদ্দিন, স্ত্রী নীলুফার ইয়াসমিন আর একমাত্র ছেলে ইয়ামিনকে নিয়ে তার সুখের সংসার। হেলাল উদ্দিন ডাক নাম :হেলাল জন্মতারিখ ও স্থান :৪ অক্টোবর, নরসিংদী। মায়ের নাম :রওশন আরা বেগম বাবার নাম :মনোয়ার হোসেন প্রথম স্কুল :রায়পুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রিয় মানুষ :আমার বাবা-মা প্রিয় উক্তি :সততই সর্বোত্কৃষ্ট পন্থা প্রিয় পোশাক :জিন্স, টিশার্ট অবসর কাটে যেভাবে :টিভি দেখে সাফল্যের সংজ্ঞা :পরিশ্রম।