আর্ট থিয়েটারে কাজ করছেন প্রায় ৫ বছর ধরে। জেমি ওয়েলস্টেইন নামের বিখ্যাত একটি চরিত্র দিয়েই তার অভিনয় জীবনের শুরু। এরপর আর থেমে থাকেননি এগিয়ে চলেছেন সমহিমায়। আজও তিনি এক তরুণ প্রতিভা হিসেবে আলো ছড়িয়ে যাচ্ছেন। তরুণ বয়সেই তার একজন সফল মঞ্চাভিনেতা হয়ে ওঠার পেছনের গল্পটি নিয়ে লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম
ব্রায়ানের জন্ম ব্রিটেনের মসকট শহরে। সেখানেই তার বেড়ে ওঠা। তখন পরিবার বলতে শুধু তার বাবাই ছিল। খুব ছোটবেলাতেই মাকে হারিয়েছিলেন। বাবা ও রায়ান দুজন মিলেই সংসারটা কোনোমতে চালিয়ে নিত। স্কুলে পড়ার সময়েই রায়ানের আগ্রহ জাগে স্টেজ পারফর্মারদের প্রতি। একবার স্কুলের একটি অনুষ্ঠানে দেখেছিলেন ছোট একটি ছেলে মজা করে মূকাভিনয় করছে। এ দেখে তারও ইচ্ছে জাগে অভিনয় করার। সেখান থেকেই শুরু। প্রথমবার যখন স্কুলের অভিনয়ের ক্লাসে গেলেন একটু বেশিই ঘাবড়ে গিয়েছিলেন। সেই একই ভয়টা পেয়েছিলেন প্রথমবার মঞ্চে পা রাখার সময়। কিন্তু সব ভয় ভুলে গেলেন মঞ্চে অভিনয়ের সময়। আর সেসময়ই অন্যসবার সাথে তিনি নিজেও উপলদ্ধি করলেন যে তার ভেতর রয়েছে অভিনয়ের তীব্র ক্ষুধা। শুরু হলো তার পথচলা। মুহূর্তেই সকলের প্রিয় হয়ে উঠলেন তিনি। স্কুল জীবনটা যেন হাওয়ার গাড়িতে ছুটে চলতে লাগল তার। একসময় মঞ্চ অভিনয় থেকে সুযোগ পেয়ে গেলেন টেলিভিশনে অভিনয়ের। এটি ছিল তার জন্য একটি বিশাল সুযোগ। বিখ্যাত মার্কিন টেলিভিশন সিরিয়াল ‘লস্ট’-এ অভিনয়ের সুযোগ পেয়ে যান তিনি। ‘লস্ট’ একটি মার্কিন ড্রামা সিরিজ। একটি বিমান দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের রহস্যময় এক ক্রান্তীয় দ্বীপে আটকে পড়া থেকে এর কাহিনী শুরু হয়েছে। এতে দেখা যায় অস্ট্রেলিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রগামী বিমানটি দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের কোনো এক স্থানে বিধ্বস্ত হয়। প্রতি পর্বেই দুইটি বিষয় একসাথে দেখানো হয়। দ্বীপে আটকে পড়া যাত্রীদের জীবন থাকে একটি অংশজুড়ে, আর অপর অংশে থাকে কোনো একটি চরিত্রের পূর্ব জীবনের (বিমানে উঠার আগের জীবন) ফ্ল্যাশব্যাক। টিভি ইতিহাসের সবচেয়ে জনপ্রিয় টিভি শো হিসেবে এটিকে সবাই একবাক্যেই মেনে নেয়। একটি প্ল্যান ক্র্যাশ করার পর এর বেঁচে যাওয়া যাত্রীরা একটি সুদূর নির্জন দ্বীপে আটকে পড়ে। যেখানে আর কেউ নেই। এরপর এসব মানুষদের প্রতিকূল পরিবেশে বেঁচে থাকার সংগ্রাম, একে ওপরের সাথে অন্তর্দ্বন্দ্ব নিয়ে সিরিয়ালটির এগিয়ে যাওয়া। এককথায় অসাধারণ। আর এই বিখ্যাত সিরিয়ালে অভিনয় করেছেন যারা, তাদের মধ্যে একজন হলেন রায়ান ব্রুক। ১৯৮১ সালের ২৭ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন এই মার্কিন মঞ্চ অভিনেতা। তিনি মূলত তার ক্যারিয়ারের শুরুটি করেন স্টেজে অভিনয়ের মাধ্যমে। ভাগ্যক্রমে সুযোগ পেয়ে যান ‘লস্ট’ সিরিয়ালে। এই সিরিজটি তাকে নিয়ে যায় খ্যাতির তুঙ্গে। তবে টেলিভিশন সিরিজ বাদে তার কিছু বড় বড় কাজ রয়েছে। অর্থাত্ তিনি কাজ করেছেন সিনেমাতেও। তবে কেন্দ্রীয় না হলেও সেখানে তার চরিত্রগুলো ছিল খুব গুরুত্বপূর্ণ। ২০০৫ সালে মুক্তি পায় ‘সান্তাস স্লে’, ২০০৬ সালে মুক্তি পায় ‘দ্য হিলস হ্যাভ আইস’ এবং ২০০৮ সালে মুক্তি পায় ‘বল ডোন্ট লাই’। এরপরও তিনি টেলিভিশনে বেশ কিছু কাজ শুরু করেছেন। ২০০৯ সালে ‘পাবলিক এনিমিজ’ এবং ২০১০ সালে কাজ করেছেন ‘রিমেমবার মি’ নামের সিরিয়ালে। তিনি বেশ কয়েকবার তার অভিনয় দক্ষতার জন্য ম্যাক্সিমের ১০০ জনের তালিকায় উঠে আসেন। ২০০৫ সালে এই তালিকায় তার অবস্থান ছিল ৪৭ নম্বরে। এর ঠিক পরের বছর তিনি আবারও তালিকায় উঠে আসেন। তবে সেবার তিনি ৬৫ নম্বর স্থানে ছিলেন। এরপর ছিল খানিকটা বিরতি। এরপর ২০০৯ সালে আবার তালিকায় আসেন ৬৮ নম্বর হিসেবে। অভিনয়ের তাগিদে রায়ান একবার চলে গিয়েছিলেন মেলবোর্নে। সেখান নতুনভাবে শুরু করেছিলেন তার অভিনয় ক্যারিয়ার। তবে এ ক্ষেত্রে খুব বেশি যুদ্ধ করতে হয়নি তার অন্যান্যদের সাথে। তার অভিনয় দক্ষতার জন্য খুব দ্রুতই উপরে উঠে যেতে পেরেছিলেন তিনি। তিনি ডেভিড ফিসারের সাথে ‘সিক্স ফিট আন্ডার’ নামের একটি সিরিজেও কাজে করেন। এই সিরিজটি এইচবিওতে প্রচার করা হয়। আর এই সিরিজে অভিনয় করার জন্য এ অভিনেতা পেয়েছেন স্ক্রিন অ্যাকটর গিল্ড অ্যাওয়ার্ড। উল্লেখ্য, এ অভিনেতার বাবা একজন কৃষক। খুব ছোটবেলা থেকেই তাকে দারিদ্রতার সাথে লড়াই করতে হয়েছে। সেই সময় থেকেই তার বাবার সাথে সংসারের হাল ধরতে হয় তাকে। পড়াশোনার পাঠ শেষ করতে করতেই তার নেমে পরতে হয় জীবিকার খোঁজে। আর ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নেন অভিনয়। ২০০৪ সালে তার টিভিতে অভিনয়ে আসার পেছনের কাহিনী বলতে গিয়ে তিনি এ কথাগুলো জানান। ১৯৮৯ সালে তিনি স্নাতক সম্পন্ন করেন। এরপর অভিনয়কে নিজের জীবনের ধ্যান-জ্ঞান করে তোলেন। আর অক্লান্ত পরিশ্রম করে আজ তিনি এই অভিনয়ের হাত ধরেই উঠে গেছেন সাফল্যের চূড়ায়। তরুণ প্রজন্মের কাছে এক জনপ্রিয় আইকন হিসেবে পরিচিত তিনি। তরুণ বয়সে এই সম্মান অর্জন অনেকের কাছেই দুর্লভ সাফল্য। তার বাবা আজ গর্বিত তার ছেলেকে নিয়ে। নিজের অতীত জীবনের পাশাপাশি ভবিষ্যত্ স্বপ্নের কথাও তুলে ধরেন, ‘আমি এই অভিনয় নিয়ে আরও সামনে এগিয়ে যেতে চাই। পৌছাতে চাই এমন এইট অবস্থানে, যেখানে আমাকে ছোঁয়া যাবে না।’ তবে একটি বিষয় তিনি পরিষ্কার করে জানিয়ে দেন সবাইকে, আর তা হলো, তিনি কোনোদিন মঞ্চে অভিনয় ছাড়বেন না। এই মঞ্চ দিয়েই তার পথচলা শুরু। এই মঞ্চের মাঝেই তিনি পুরোটা জীবন কাটাতে চান। তাই ক্যামেরার পাশাপাশি মঞ্চকেও তিনি ধরে রাখবেন তার অভিনয় জীবনে।
