হাঁচির কারণে!

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০১৩, ২০:০১
পুলিশের সাথে চোর-পুলিশ খেলাটা বেশ ভালোভাবেই খেলে আসছিলেন পোল্যান্ডের ৪৯ বছর বয়সী নাগরিক ড্যারিয়াস ওলেওস্কি। শিশুদের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একটি সংস্থার বিপুল অংকের পাওনা টাকা পরিশোধ না করায় বেশ কিছুদিন আগেই সমন জারি হয় ওলেওস্কির বিরূদ্ধে। কিন্তু সেই থেকে একটা দীর্ঘ সময় ধরে তাকে হণ্যে হয়ে খুঁজেও কোনো কূল কিনারা করতে পারছিলেন না স্থানীয় পুলিশ সদস্যরা। তবে সামান্য এক হাঁচির কারণেই সম্প্রতি এই দীর্ঘ পলাতক জীবনের অবসান ঘটাতে বাধ্য হন ড্যারিয়াস ওলেওস্কি। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওলেওস্কির সন্ধান করে আসা পোলিশ পুলিশের কাছে সম্প্রতি তার অবস্থান সম্পর্কে কিছু তথ্য হাতে আসে। আর সেই তথ্য অনুযায়ী ওলেওস্কিকে ধরতেই তার বাড়িতে নতুন করে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় পুরো ঘর তন্ন তন্ন করে খুঁজেও যখন ওলেওস্কির টিকিটির সন্ধান মিলছিল না তখনই একটি হাঁচির শব্দে থমকে দাঁড়ান অভিযানে অংশ নেওয়া পুলিশ সদস্যরা। তাদের সন্দেহ হয়, এই বাড়ির খুব কাছ থেকেই হয়তো কেউ একজন হাঁচির শব্দটি করেছেন। এ সময় দ্বিতীয় আরেকটি হাঁচি যেন সৌভাগ্যই বয়ে আনে পুলিশের জন্য। তারা বুঝতে পারেন, বাড়ির যে জায়গাটিতে তারা দাঁড়িয়ে আছেন তার ঠিক নিচ থেকেই আসছে হাঁচির শব্দটি। এ সময় ওলেওস্কির বাড়ির কাঠের মেঝেতে কোনো ফাঁপা সুড়ঙ্গ আছে কি না তার সন্ধান করতে থাকেন তারা। আর কিছুক্ষণের চেষ্টাতেই বেরিয়ে আসে একটি কাঠের টেবিলের সাথে চমত্কার দৃষ্টিবিভ্রম তৈরি করা একটি ফাঁপা জায়গা। এই স্থানের কাঠের মেঝেটি খানিকটা সরাতেই বেরিয়ে আসে একটি ৬ ফুট গভীর গর্ত যেখানে একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের পক্ষে অনায়াসেই লুকিয়ে রাখা সম্ভব ছিল। অবশেষে এই গর্ত থেকেই বের করে আনা হয় বহুদিন ধরে পুলিশের চোখ ফাঁকি দেওয়া ওলেওস্কিকে। এদিকে ওলেওস্কির এই কৌশলী পলায়ন সম্পর্কে সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে স্থানীয় পুলিশের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, আসলে ওলেওস্কি সারাদিন বাড়িতে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ আসছে এমনটা আঁঁচ করতে পারলেই গর্তে লুকিয়ে থাকতেন। ফলে বেশ কয়েকবার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে না পেয়ে পুলিশের মনোযোগ স্বভাবতই অন্যদিকে খোঁজার প্রতি চলে যায় এবং এই সুযোগটাই কাজে লাগান ওলেওস্কি।