সিলেটে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত মহানগর যুবলীগ কর্মী, ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য ও মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক জগেজ্যাতি তালুকদারের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় আখালিয়া কালিবাড়ি ব্রাহ্মণশাসন শ্মশানঘাটে সম্পন্ন হয়। শনিবার রাতে নগরীর আখালিয়া তপোবন এলাকায় সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে জগেজ্যাতি তালুকদার ও জুয়েল আহমদ নামের অপর ছাত্রলীগ নেতাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করা হয়। দু‘জনকে হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত ডাক্তার জগেজ্যাতি তালুকদারকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার জন্য আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ, শিবিরকে দায়ী করছে। তবে জামায়াত শিবির এ দায় অস্বীকার করেছে। হামলায় গুরুতর আহত ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল আহমদ সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রয়েছেন।
গতকাল সকাল ১১টার দিকে ময়না তদন্ত শেষে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ মর্গ থেকে তার মরদেহ আখালিয়া নতুন বাজারস্থ বাসায় নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে এক হূদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মরদেহ নিয়ে আসা হয় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে দলীয় নেতা-কর্মীরা শেষ বিদায় জানান তাকে। এ সময় জগেজ্যাতির মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরীসহ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ সংগঠন। শহীদ মিনার থেকে জগেজ্যাতির মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় আখালিয়া ব্রাহ্মণশাসন শ্মশানঘাটে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি আতাউর রহমান জানান এখন পর্যন্ত মামলা হয়নি। এদিকে জগেজ্যাতি তালুকদার হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ সিলেটে দু‘দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। রবিবার দুপুর ১২টায় নগরীর কোর্ট পয়েন্টে মিছিল পরবর্তী সমাবেশ থেকে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিটি মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান কর্মসূচি ঘোষণা করেন। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সোমবার সকাল ১১টায় জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের উদ্যোগে কালো ব্যাজ ধারণ ও কোর্ট পয়েন্ট থেকে শোক র্যালি। মঙ্গলবার আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ।
