গত ৪ বছরে স্বাস্থ্যবিভাগে সাফল্যের হার বেশি। কিন্তু এত সাফল্যের পরও আমার বড় দুর্বলতা গ্রামাঞ্চলে চিকিত্সকদের রাখতে পারিনি। গতকাল রবিবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ‘স্বাস্থ্য সেবায় আমাদের এগিয়ে চলা’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন উপলক্ষে এক প্রেস ব্রিফিং-এ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাঃ আফম রুহুল হক একথা বলেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ৪ বছরে স্বাস্থ্যখাতে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে, যা অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। কিন্তু তার একটা দুর্বলতা গ্রামাঞ্চলে চিকিত্সকদের রাখতে পারেননি। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে স্বাস্থ্য খাতে আর্থিক বরাদ্দ কমিয়ে নিলেও সেই তুলনায় সাফল্যের হার অনেক বেশি। বর্তমান সরকারের প্রথম সারির সাফল্যের অন্যতম স্বাস্থ্য খাত। বইটিতে স্বাস্থ্য বিভাগের খাতওয়ারি সাফল্যের পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরা হয়।
মৃত্যুর হার অর্ধেকে নেমে এসেছে
বর্তমান সরকারের সময়ে স্বাস্থ্যসেবা গ্রামে পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। এ সময় ১১ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক, জেলা ও উপজেলা আধুনিক চিকিত্সা সেবা সম্প্রসারণ এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হয়। গ্রামাঞ্চলের জটিল রোগসহ যেকোন ধরনের রোগের সুচিকিত্সা সহজভাবে হাতের কাছে পাওয়ায় মৃত্যুর হার কমে আসে। বইটিতে সেই চিত্র তুলে ধরা হয়। ২০০৩ সালে সরকারি হাসপাতালগুলোতে বহির্বিভাগে ৩ কোটি ৭৫ লাখ রোগীকে চিকিত্সা সেবা দেয়া হয়। ভর্তি করা হয় ১৯ লাখ ২০ হাজার এবং ঐ সালে মারা যায় ৫৩ হাজার ৭শ জন রোগী। ২০০৭ সালে বহির্বিভাগে ৬ কোটি ১২ লাখ রোগীকে চিকিত্সা সেবা দেয়া হয়। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৫৩ লাখ ১৯ হাজার ও মারা যায় ১ লাখ ১৬ হাজার ৬শ জন রোগী। ২০১১ সালে বহির্বিভাগে ১১ কোটি ২৫ লাখ রোগীকে চিকিত্সা সেবা দেয়া হয়। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৪৩ লাখ ২৪ হাজার এবং মারা যায় ২৬ হাজার রোগী। এছাড়া বর্তমান সরকারের ৪ বছরে শিশু মৃত্যুহার দুই-তৃতীয়াংশ কমেছে। এর স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১০ সালে জাতিসংঘের ৬৫তম সাধারণ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হন। ২০১১ সালে জাতিসংঘের ৬৬তম সাধারণ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের পক্ষে নারী ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে তথ্য প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে সাফল্য অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ সাউথ সাউথ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। ২০০৯ ও ২০১২ সালে দুইবার বাংলাদেশের পক্ষে টিকাদানের মাধ্যমে শিশুদের মৃত্যুহার কমানোর কর্মসূচিতে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জনের পুরস্কার লাভ করেছেন। ‘আন্তর্জাতিক তামাকমুক্ত দিবস’-এর পুরস্কার গ্রহণ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাঃ আফম রুহুল হক ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টা অধ্যাপক ডাঃ সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড:আতিউর রহমান। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের গড় আয়ু ২০০৫ সালে ছিল ৬৫ বছর যা ২০১১ সালে ৬৯.৭ বছর হয়েছে। নারীদের গড় আয়ু ২০০৫ সালে ছিল ৬৫.৮ বছর যা ২০১১ সালে ৭০.৩ বছরে উন্নীত হয়েছে। একই সময়ে পুরুষদের গড় আয়ু ৬৫.২ বছর থেকে উন্নীত হয়েছে ৬৭.৯ বছরে। এর সাফল্যের পিছনে স্বাস্থ্য সেবার উন্নয়ন বলে তিনি জানান। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য সেবা, পুষ্টি, সংক্রামক ব্যাধি, অসংক্রামক ব্যাধি, স্বাস্থ্যসেবায় অবকাঠামো, নতুন হাসপাতাল ও শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধি, তৃণমূলে স্বাস্থ্য সেবা অবকাঠামোর উন্নয়ন, কমিউনিটি ক্লিনিক, দুর্যোগকালীন স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও চিকিত্সা সেবার মান উন্নয়ন, জনশক্তি, চিকিত্সা শিক্ষায় আসনসংখ্যা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বৃদ্ধি, বেসরকারি চিকিত্সা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধি, বিশেষায়িত ইউনিট সম্প্রসারণ ও বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য প্রশাসন গতিশীলকরণ ও আধুনিক স্বাস্থ্য সেবা, ডিজিটাল স্বাস্থ্য সেবা ও অন্যান্য সেবার কার্যক্রম এখন জনগণের দোরগোড়ায় সফলতার সঙ্গে পৌঁছে দেয়া হয় বলে বইতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া ওষুধ শিল্প উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক চাহিদা বেড়ে যায়। অল্টারনেটিভ মেডিসিন ও বাস্তবায়নাধীন প্রকল্প ও নিয়মনীতি সম্প্রসারণ, বাস্তবায়নে গতিশীল হওয়ায় এত সাফল্য বলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী দাবি করেন।
প্রেসব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য সচিব এমএম নিয়াজউদ্দিন ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাঃ খন্দকার মোঃ সিফায়েত উল্লাহসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
