উত্পাদন বন্ধ থাকলেও বাড়তে থাকে ঋণের সুদ

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০১৩, ২২:২৩
হরতাল ও অবরোধে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন উদ্যোক্তারা। কারণ ওই সময়ে করাখানা বন্ধ থাকায় রফতানি আদেশ ও চাহিদা অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ করা সম্ভব হয় না। তার ওপর ব্যাংক ঋণের সুদ গুণতে হয় কড়ায় গন্ডায়। এমনিতেই গ্যাস-বিদ্যুতের তীব্র সঙ্কটে উদ্যোক্তারা ঠিকভাবে রফতানির অর্ডার সরবরাহ করতে পারেন না। এর ওপর রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে শিল্প-কারখানা বন্ধ থাকলে উত্পাদন বন্ধ হয়ে যায়। তবে ওই সময়ে খরচ বন্ধ না হওয়ায় উদ্যোক্তাদেরকে পড়তে হয় উভয় সঙ্কটে। শিল্প উদ্যোক্তারা বলছেন, মাসের শুরুতে সব শিল্প কারখানাতে শ্রমিকদের বেতন প্রদানের চাপ থাকে। কিন্তু হরতালের কারণে ব্যাংকেও স্বাভাবিক লেনদেন বিঘ্নিত হয়। এমনকি বিভিন্ন ব্যাংকে উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারাও অফিসে অনুপস্থিত থাকেন। গতকাল সরেজমিনে কয়েকটি ব্যাংকের শাখায় গিয়ে দেখা যায়, লেনদেন শুরু হয়েছে বেলা ১১টার পর। কর্মকর্তারাও হরতালের কারণে যথাসময়ে উপস্থিত হতে পারেননি। আবার গ্রাহকদের উপস্থিতিও ছিল কম। দিনশেষে আন্তঃব্যাংক কলমানির হার ছিল ৮ শতাংশ। হরতালে ব্যবসা-বাণিজ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণও বিলম্বিত হয়। অনিশ্চয়তা ও ভীতিকর অবস্থা বিরাজ করে। যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে বিঘ্নিত করে। সঙ্কটে পড়ে আমদানি রফতানির সাথে সংশ্লিষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো। হরতালের কারণে জাহাজে পণ্য পাঠাতে না পারলে বেশি খরচ দিয়ে বিমানে পাঠাতে হয়। এতে খরচ বেশি হওয়ায় অনেক সময় লোকসানও দিতে হয়। তবে বিমানে পণ্য পাঠানো ছাড়া উপায়ও থাকে না। কারণ সঠিক সময়ে পণ্য সরবরাহ করতে না পারলে অর্ডার হারানোর ভয় থাকে। আবার আমদানিকৃত পণ্যও যথাসময়ে খালাস করা যায় না। তাতে আমদানিকারককে ক্ষতিপূরণ গুণতে হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী ঋণ পরিশোধেও হিমশিম খেতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। ঋণের শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী ৬০ দিন উত্তীর্ণ হলে স্পেশাল মেনশন্ড একাউন্ট (এসএমএ) হওয়ার ভয়েও অস্থির রয়েছে ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা। পাশাপাশি হরতালে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ সংকট দেখা দেয়। গত কয়েকদিনের সৃষ্ট রাজনৈতিক উত্তাপ ও হরতাল, সংঘর্ষ ও হতাহতের ঘটনায় আতঙ্কিত সব শ্রেণি-পেশার মানুষ। পণ্য সরবরাহের জন্য পরিবহন সুবিধাও পাওয়া যাচ্ছে না। রাস্তায় ট্রাক চলাচল বন্ধ রেখেছে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো। কোন কোন ক্ষেত্রে রাস্তায় পণ্যবাহী ট্রাকে আগুন দেয়ার ঘটনাও ঘটছে। আজ ও আগামীকালের হরতালের পর পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় সেটাও বিবেচ্য বিষয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে রাস্তা অবরোধ, ট্রেনলাইন উপড়ে ফেলায় রাজধানী ঢাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ সংকট দেখা দেয়ার আশংকা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী। তাতে নগরবাসীকে যেমন বেশি দাম দিতে হবে, তেমনি সংকটও ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে। এসব বিষয় সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।