মানুষ হত্যার প্রতিবাদে নিয়মতান্ত্রিক প্রতিরোধ গড়ে তুলুন :জামায়াত

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০১৩, ২২:২৫
গতকাল জামায়াতে ইসলামীর এক বিবৃতিতে মানুষ হত্যার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে গণ-প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বিবৃতিতে বলেন, কোন জালেম সরকার গুলি চালিয়ে, মানুষ খুন করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেনি, এ সরকারও পারবে না। তিনি ৪৮ ঘণ্টার লাগাতার হরতাল কর্মসূচির প্রথম দিন জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে হরতাল পালন করায় দেশবাসীকে অভিনন্দন এবং আজকের হরতাল সফল করে তোলার আহ্বান জানান। বিবৃতিতে তিনি বলেন, সরকার জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। পুলিশ, র্যাব, বিজিবিকে সম্পূর্ণ দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করছে সরকার। রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে দিয়ে গণহত্যা চালিয়ে সরকার দেশের প্রতিটি জনপদকে রক্তে রঞ্জিত করছে। সরকার ২৮ ফেব্রুয়ারি ৭০ জন, ১ মার্চ ১৪ জন, ২ মার্চ ৭ জন এবং গতকাল ৩ মার্চ ২৩ জনসহ মাত্র ৪ দিনে ১১৪ জন লোককে গুলি করে হত্যা করেছে। কোন সভ্য গণতান্ত্রিক দেশে এভাবে নিরস্ত্র, নিরীহ মানুষ হত্যা করার কোন নজির নেই। সরকার রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এবং পুলিশের পাহারায় শাহবাগে সমাবেশ ঘটিয়ে ফাঁসির দাবি তোলার ব্যবস্থা করেছে। জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আন্দোলনকারীদের দাবি বিবেচনায় নিয়ে ট্রাইব্যুনালের বিচারপতিদের রায় দেয়ার জন্য বলেছেন। এর মাধ্যমে মূলত প্রধানমন্ত্রী বিচারপতিদেরকে ফাঁসির রায় দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ট্রাইব্যুনালের রায়ে তারই প্রতিফলন ঘটেছে। অপরদিকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশিত এ রায়কে প্রত্যাখ্যান করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে জনগণের গড়ে ওঠা আন্দোলন স্তব্ধ করে দেয়ার জন্য পুলিশ বাহিনী দিয়ে সরকার গণহত্যা চালাচ্ছে। প্রতিদিন গুলি চালিয়ে সাধারণ মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করা হচ্ছে। রবিবারও সারা দেশে ২২ জন লোককে হত্যা করা হয়েছে। দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দল, বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবী ও বিশ্বসম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে গণহত্যা বন্ধের জন্য আহ্বান জানানো সত্ত্বেও সরকার গুলি চালানো বন্ধ করেনি। সরকার কার্যত দেশের সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। তিনি বলেন, আমরা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত বাহিনীকে কোন মহল বিশেষকে খুশি করার জন্য দলীয় ক্যাডারের মত ব্যবহূত হয়ে সাধারণ জনতাকে গুলি করে হত্যা করা থেকে বিরত থাকার জন্য বার বার আহ্বান জানিয়ে আসছি। আপনারা রাষ্ট্রের সেবক। জনগণের নিরাপত্তা বিধানের জন্য আপনাদের হাতে বন্দুক দেয়া হয়েছে। দেশের প্রতিটি নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আপনাদের পবিত্র দায়িত্ব। কেউ অন্যায় করলে বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের এখতিয়ার আপনাদের আছে। কারো অপরাধের বিচারের জন্য আদালত আছে। কিন্তু বিচারের জন্য সোপর্দ না করে কাউকে গুলি করে হত্যা করা সম্পূর্ণ আইন বিরোধী কাজ। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। সরকার, পুলিশ, বিজিবি সবাইকেই আইন মেনে চলা উচিত। আইন অমান্য করে পাখি শিকারের মত মানুষ হত্যা জঘন্য অপরাধ। বিবৃতিতে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে গণহত্যার সঠিক চিত্র জনগণের কাছে তুলে ধরার জন্য সংবাদ মাধ্যমসমূহের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। এদিকে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলে হামলা, বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রাণনাশের হুমকি এবং বিএনপির নেতা ও কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমীর মকবুল আহমাদ। তিনি গণহত্যা বন্ধ করে অবিলম্বে পদত্যাগ করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। বেগম খালেদা জিয়ার প্রাণনাশের হুমকি প্রদানকারী ব্লগারকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করার দাবি করেন ও নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল মামলা প্রত্যাহারের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। এছাড়া মন্দির, গীর্জা ও হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ এবং বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে দোষী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমীর মকবুল আহমাদ। বিবৃতিতে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। জামায়াতে ইসলামী সকল ধর্মাবলম্বীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে। কারো ধর্মীয় অধিকারের উপর হস্তক্ষেপকে জামায়াত ঘৃণা করে। মন্দির, গীর্জা, প্যাগোডা অথবা অন্য কোন উপাসনালয়ে হামলা, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগের সাথে যারা সম্পৃক্ত তাদের সাথে জামায়াতে ইসলামীর কোন সম্পর্ক নেই। কোন ভিন্ন ধর্মাবলম্বীর ধর্মীয় ও ব্যক্তিগত অধিকারের উপর হস্তক্ষেপ করতে ইসলাম কঠোরভাবে নিষেধ করেছে। তিনি বলেন, আমাদের আশঙ্কা ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর পৃষ্ঠপোষকতায় হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করে সরকারের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা গণ-আন্দোলন ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। আমি এসব নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের ব্যাপারে সতর্ক থাকার ও তাদেরকে প্রতিহত করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।