একটানা তিন দিনের হরতালের কারণে মিল্ক ভিটা ও ব্র্যাকসহ দুগ্ধ সংগ্রহ প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রয় কার্যক্রম বন্ধ রাখায় ভাঙ্গুড়া উপজেলার খামারীরা তাদের উত্পন্ন দুধ বিক্রি করতে পারছে না। সংরক্ষণও করতে পারছে না। এতে করে তারা আর্থিকভাবে কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। গতকাল রবিবার উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে খামারীদের ভ্যানে ফেরি করে প্রতি লিটার দুধ মাত্র ১০ টাকা দরে বিক্রি করতে দেখা যায়। এই সুযোগে দরিদ্র নারী-পুরুষ লাইন ধরে দুধ সংগ্রহ করে। ভাঙ্গুড়া মিল্ক ভিটার আওতায় বেতুয়ান প্রাথমিক দুগ্ধ উত্পাদনকারী সমবায় সমিতির সভাপতি আল মামুন স্বপন ও হাংড়াগাড়ি সমিতির ম্যানেজার বলেন, হরতাল চলাকালে মিল্ক ভিটা দুধ ক্রয় করবে না বলে জানিয়েছে্। ফলে তারা মহাবিপাকে পড়েছেন। বাধ্য হয়ে তারা ফেরি করে দুধ বিক্রি করছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্র্যাক ও অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোও হরতালের দিন দুধ ক্রয় করছে না। মিল্ক ভিটার ভাঙ্গুড়া কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক ডা. ফরহাদুল আলম ও ব্র্যাকের এরিয়া ম্যানেজার রবিউল ইসলাম জানান, প্রতিদিন যথাক্রমে ২০ হাজার ও ২৫ হাজার লিটারের বেশি তাদের সংরক্ষণ ক্যাপাসিটি না থাকায় হরতালের সময় নিরুপায় হয়েই খামারীদের দুধ ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে। এছাড়া গত কয়েকটি হরতালে তাদের দুধবাহী লরীগুলো মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিবহন ঝুঁকি নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। মিল্ক ভিটা খামারীদের প্রতি লিটার দুধের দাম দেয় ৪১ টাকা। উত্পাদন খরচ বাদে এক লিটারে ৩/৪ টাকার বেশি লাভ হয় না। হরতালে বিক্রি করতে না পারায় প্রতি লিটার দুধে তাদের ৩৭ টাকা লোকসান হচ্ছে। ভাঙ্গুড়ায় মিল্ক ভিটা, ব্র্যাক, আকিজ, প্রাণ ডেইরী, হাব, বারো আউলিয়া প্রভৃতি ক্রয় কেন্দ্র প্রতিদিন দুই বেলায় প্রায় ১ লক্ষ লিটার দুধ ক্রয় করে। এর মধ্যে মিল্ক ভিটা ও ব্র্যাক ৪৫ হাজার লিটার দুধ ক্রয় করে।
