মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন সাজার বিরুদ্ধে আপিল করেছে সরকার। আপিলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পরিবর্তে কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড প্রদানের আবেদন জানানো হয়েছে। গতকাল রবিবার সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আপিল দায়ের করা হয়।
সংশোধিত আইন অনুযায়ী এখন ৬০ দিনের মধ্যে এ আপিল নিষ্পত্তি করতে হবে। আইন সংশোধনের আগে শুধু খালাস আদেশের বিরুদ্ধে সরকার আপিল করতে পারত। পরে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি আইন সংশোধন করে ট্রাইব্যুনালের যে কোন দণ্ডের বিরুদ্ধে সরকারের আপিল দায়েরের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়। এদিকে কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন সাজা বাতিলের আবেদন জানিয়ে আজ সোমবার আপিল দায়ের করতে পারে আসামি পক্ষ।
প্রসঙ্গত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গত ৫ ফেব্রুয়ারি কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল। গতকাল আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় ৪৮৪ পৃষ্ঠার পেপারবুক ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র দাখিল করে এটর্নি জেনারেল কার্যালয়।
পরে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের প্রধান সমন্বয়কারী অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট এমকে রহমান ইত্তেফাককে বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ৫টি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরেও ট্রাইব্যুনাল কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন সাজা দিয়েছে। যুক্তিসংগত কারণ ছাড়াই এ সাজা দেয়া হয়েছে। আমরা মনে করি যেসব সাক্ষ্য প্রমাণ রয়েছে তার উপর ভিত্তি করে ট্রাইব্যুনাল তাকে সর্বোচ্চ সাজা দিতে পারত। কিন্তু তা দেয়া হয়নি। এজন্য সর্বোচ্চ সাজা চেয়ে আমরা আপিল দায়ের করেছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কেরানীগঞ্জের ঘাটার চরে যে গণহত্যা সংঘটিত হয়েছিলো সেই অভিযোগ থেকে কাদের মোল্লাকে খালাস দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। এই খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা হয়েছে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের মমার্থ সামগ্রিকভাবে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল অনুধাবন করতে পারেনি। একারণে ট্রাইব্যুনাল সামগ্রিক বিষয়টি সাধারণ আইনের (ফৌজদারি কার্যবিধি (সিআরপিসি) ও সাক্ষ্য আইন) সঙ্গে মিলিয়ে ফেলেছে। অথচ এই আইনে বলা হয়েছে বিচার কার্যক্রমে সিআরপিসি ও সাক্ষ্য আইন প্রযোজ্য হবে না। এছাড়া বিভিন্ন অভিযোগে কাদের মোল্লাকে একাধিক সাজা দেয়া হলেও ট্রাইব্যুনাল সাজা ভোগের ক্ষেত্রে একক দণ্ড নির্ধারণ করে দিয়ে ভুল করেছে। অথচ একক দণ্ড প্রদানের বিষয়ে আইনে কিছুই বলা হয়নি। তিনি বলেন, আজ সোমবার চেম্বার বিচারপতির আদালতে শুনানির দিন নির্ধারণের জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে।
