ফুডজোন

বে-লিফের বাহারি খাবার

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০১৩, ১৯:৩৭
দশ নম্বর গোলচক্কর থেকে ইনডোর স্টেডিয়ামের দিকে একটু সামনে এগিয়ে যেতেই হাতের বাম পাশে আলোঝলমলে দো-তলা এক রেস্টুরেন্ট। কেউ মজা করে বলতেই পারেন ডুপ্লেক্স রেস্টুরেন্ট। সামনে নারকেল গাছের সারি, তাতেও আলোকসজ্জা করা। ঢুকতেই অন্যরকম একটা পরিবেশ। মিরপুরে এ রকম খাবারের আয়োজন হাতেগোনা। তা ছাড়া পরিবেশটাই অন্যরকম করে দিয়েছে বে-লিফের খাবারকে। অন্দরসজ্জাতেও আধুনিকত্ব। সব মিলিয়ে দারুণ এক খানাপিনা আর আড্ডার সুযোগ পেয়েছে মিরপুরসহ আশপাশের মানুষ, চলছে ছোটখাটো পার্টিও। মিরপুর ৬ নম্বর সেকশনের এ ব্লকের ৫ নম্বর রোডে ভোজনরসিকদের সুস্বাদু ও উন্নত খাবারের প্রতিশ্রুতি নিয়ে দেশের ঐতিহ্যবাহী মুসলিম সুইটসের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান বে-লিফ রেস্টুরেন্টের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। ঘুরে এসে লিখেছেন সাজেদুল ইসলাম শুভ্র, ছবি তুলেছেন দীপঙ্কর দীপু দুতলা ভবনের পুরোটাই রেস্টুরেন্ট, সব মিলিয়ে আড়াই হাজার স্কয়ার ফিটের জায়গাতে দশ-দেড়েক লোক একত্রে বসার ব্যবস্থা। সুবিশাল পরিসরে নান্দনিক সাজে সুসজ্জিত বেলিফ রেস্টুরেন্ট আনন্দমুখর পরিবেশে জমিয়ে আড্ডা ও পরিবার-পরিজন নিয়ে সুস্বাদু খাবার উপভোগের নিশ্চয়তা দিচ্ছে। ঐতিহ্যবাহী মুসলিম সুইটস ও বিরিয়ানি এরই মধ্যে ভোজনবিলাসীদের আস্থা অর্জন করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় মিরপুরে উন্নতমানের ইন্ডিয়ান, চাইনিজ ও বাঙালি খাবারে আপ্যায়নের সুব্যবস্থা রাখছে এই প্রতিষ্ঠান। কথায় কথায় জানালেন বে-লিফ রেস্টুরেন্ট ও মুসলিম সুইটসের চেয়ারম্যান আলহাজ মিজানুর রহমান আক্কাছ। খাদ্য ব্যবসা এক ধরনের সেবা। তাই এর মান সঠিক রেখে ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দিতে এই আয়োজন। তা ছাড়া মিরপুরবাসী যেন ভালো মানের খাবারের জন্য ধানমন্ডি, গুলশান না যাওয়া না লাগে, সে জন্য উন্নত খাবারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। হালকা আলোয় রেস্টুরেন্টটি নিয়েছে এক নান্দনিক রূপ। এখানে ফ্যামিলি বা বন্ধুদের নিয়ে আড্ডায় বসতে পারেন অনায়াসে। একই সঙ্গে খাবারে আনা হয়েছে ভিন্নতা। ইন্ডিয়ান, চাইনিজ ও বাঙালি খাবারের সমন্বয় ঘটানো হয়েছে খাবারগুলোয়। লোভনীয় সব ধরনের আইটেমের খাবার দিয়ে সাজানো হয়েছে মেন্যু কার্ডটি। জানালেন বে-লিফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সরোয়ার হোসেন। বে-লিফের সুন্দর নামটা সম্পর্কে বলছিলেন আরেকজন পরিচালক আলতাফুজ্জামান, সুন্দর এই নামটার চিন্তা মূলত খাবারের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ থেকেই। বে-লিফ বা তেজপাতা খাবারের স্বাদ যেমন বাড়ায়, এই রেস্টুরেন্টও তেমনি ভোক্তাদের সেরা খাবারটা পৌঁছে দিতে অঙ্গীকারবদ্ধ। বে-লিফ রেস্টুরেন্টে খাবারের মধ্যে দুপুরে রয়েছে বাঙালি এবং চাইনিজ দু রকমই, আর রাতে রয়েছে শুধুই চাইনিজ। দামটা রাখা হয়েছে নাগালের মধ্যেই। দেশি খাবারে মধ্যে রয়েছে নানা রকম মাছ আর মাংসের ভিন্ন উপস্থাপন। খাওয়ার পর কেউ আইসক্রিম খেতে চাইলে রয়েছে ইগলুর আইসক্রিম পার্লার। যেহেতু মুসলিম সুইটসেরই একটা অংগ প্রতিষ্ঠান, মিষ্টি থাকবে না তা হতেই পারে না। রয়েছে জিভে জল আনা মিষ্টি আর দই, খেতে পারেন স্পেশাল ফিরনিও। দেশীয়র বাইরে যারা একটু ভিন্ন স্বাদের খাবারের খোঁজ করেন তাদের জন্যও বে-লিফের জুড়ি নেই। রয়েছে চাইনিজ ও থাই নানা খাবারের আয়োজন। প্রথম থেকেই তাদের থাই স্যুপ আলাদা জায়গা করে নিয়েছে সবার কাছে। রাশিয়ান সালাদ আইটেমটাও সব বয়েসীদের ভালো লাগবে। বে-লিফের এই আয়োজনে আপনি চাইলেই করতে পারেন নিজের কোনো পার্টিও। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই কদিন আগেই জানিয়ে দিতে হবে। এর মাঝে থাকবে বুফে খাবারের আয়োজনও। তো আর দেরি কেন? হয়ে যাক তেজপাতা নামধারী এই রেস্টুরেন্টের খাবারের স্বাদ গ্রহণ!