দুই গৃহবধূকে পুড়িয়ে হত্যা

ময়না তদন্ত শেষে দীপিকার লাশ হস্তান্তর আফরোজার দাফন সম্পন্ন

আপডেট : ০৪ মে ২০১৯, ২২:৩৩

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া গৃহবধূ দীপিকা আচার্য্য মনিকার লাশ গতকাল ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে দীপিকার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়েছিল স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এদিকে সাভারে নিহত গৃহবধূ আফরোজার লাশ বাবার বাড়ি মানিকগঞ্জে দাফন করা হয়েছে। খবর আমাদের স্টাফ রিপোর্টার ও সংবাদদাতার।

হাজীগঞ্জ (চাঁদপুর) : গত ৩০ এপ্রিল চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডে বকুলতলা এলাকায় দীপিকার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন। পরে ৯২ শতাংশ পোড়া নিয়ে ৩ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে শুক্রবার ঢামেকের বার্ন ইউনিটে মারা যান তিনি। গতকাল শনিবার ময়না তদন্ত শেষে দীপিকার লাশ   রাজধানীর শাহবাগ থানা পুলিশের কাছে দেওয়া হয়। পরে পুলিশ লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। পরিবার দীপিকার লাশ নরসিংদীর মাধবদীতে বাবার বাড়িতে নিয়ে যায়। গতকাল রাতেই দীপিকার শেষকৃত্য হওয়ার কথা রয়েছে। এ ঘটনায় তার স্বামী বিপুল আচার্য্য, ভাসুর সজল আচার্য্য ও শাশুড়িকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক খলিলুর রহমান জানান, আটককৃতদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন করা হবে। আর মারা যাওয়ার আগে দীপিকার দিয়ে যাওয়া জবানবন্দি হাতে পেলে তদন্ত কাজ শুরু হবে। অভিযুক্ত অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আলমগীর হোসেন রনি গতকাল দীপিকার লাশ ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার কথা নিশ্চিত করেছেন। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার হাজীগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন গৃহবধূর ভাই অরবিন্দ আচার্য্য।

আমাদের স্টাফ রিপোর্টার জানান, সাভারে গৃহবধূ আফরোজা আক্তার হাসিনাকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় স্বামী নূরে আলম গ্রেফতার হলেও পলাতক রয়েছে অন্য আসামিরা। গতকাল শনিবার পৌর এলাকা কর্ণাপাড়ায় নিহত গৃহবধূ আফরোজার শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় তালা ঝুলিয়ে বাড়ির লোকজন পালিয়েছে। এদিকে নিহত গৃহবধূর মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ময়না তদন্তের পর শুক্রবার রাতে মানিকগঞ্জের পুটাইলে বাবার বাড়িতে দাফন করা হয়েছে। আফরোজার মরদেহ তার বাবার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হলে এলাকাবাসী ও আত্মীয়-স্বজনরা লাশ এক নজর দেখতে ভিড় করে। এ সময় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাভার থানার এসআই এনামুল হক জানান, নিহতের স্বামী নূরে আলম, দেবর দেলোয়ার হোসেন, শাশুড়ি, ননদ ও ননদের জামাইকে আসামি করে নিহতের বাবা আ. জলিল হত্যা মামলা করেছেন। পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার বিকালে সাভার পৌর এলাকার কর্ণপাড়া মহল্লায় স্বামীর বাড়িতে অগ্নিদগ্ধ হন গৃহবধূ আফরোজা । এসময় স্থানীয়দের সহায়তায় পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিত্সাধীন অবস্থায় শুক্রবার ভোরে তার মৃত্যু হয়।