বড় চ্যালেঞ্জ হলেও চট্টগ্রাম মহানগরীর সকল বেদখল খাল দখলমুক্ত করা হবেই। নগরীর জনসাধারণকে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে বাঁচাতে সরকার এই প্রকল্প হাতে নিয়েছে। প্রকল্পের শতভাগই সম্পাদন করা হবে। তবে সেই সঙ্গে প্রয়োজন নালা-খালকে প্রাত্যহিক গৃহস্থালি ও বাণিজ্যিক এলাকার বর্জ্যের মাধ্যমে ভরাট থেকে রক্ষায় জনসচেতনতা এবং সকল মহলের আন্তরিক সহযোগিতা।
গতকাল শনিবার সকালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মহানগরীর দামপাড়াস্থ ব্রিগেড কার্যালয়ের মিলনায়তনে প্রকল্পের মহাপরিচালক ও সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজহার সিদ্দিকী পিএসসি এসব কথা বলেন। ‘চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্প’ সংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন তিনি।
এতে কাজের নানা দিকের উপর একটি পাওয়ার পয়েন্ট ভিজুয়াল প্রেজেন্টেশন দেন ভারপ্রাপ্ত প্রকল্প পরিচালক লে. কর্নেল আবু সাদাত মোহাম্মদ তানভীর পিএসসি। আরো বক্তব্য রাখেন- চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল মহিউদ্দিন আহমদ, কেজিডিসিএল-এর ডেপুটি ম্যানেজার ইঞ্জিনিয়ার মির মাহমুদুল হাসান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী মো. আরিফুর রহমান প্রমুখ।
প্রকল্প মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভীর আরো বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরীকে জলাবদ্ধতামুক্ত করার প্রকল্পের একটি অংশ সম্পাদন করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, অপর অংশটি সম্পাদন করছে সিডিএ। সেই সাথে সিটি করপোরেশন, পাউবি, ওয়াসাসহ আরো অনেক সংস্থা প্রকল্পের সমন্বিত কাজের ধারায় যুক্ত। খাল সংস্কারের ক্ষেত্রে ৩৬টি খাল এই প্রকল্পের সাথে যুক্ত। তারপরও আরো ২২টি খালে কাজ করতে হবে। বর্তমানে ১৩টি খালে কাজ চলছে। নগরীর প্রত্যেকটি খালের ডিজিটাল ম্যাপ করা হয়েছে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সিইজিএস-এর মাধ্যমে। প্রতিটি খালের গত ৫০ বছরের পানি প্রবাহের ইতিহাস বের করা হচ্ছে।
তিনি জানান, ২০১৮ সালে মহানগরীর বিভিন্ন খাল ও নালানর্দমা থেকে ১ কোটি ৩২ লক্ষ সিএফটি ময়লা আবর্জনা অপসারণ করা হয়। চলতি বছরের বিগত পাঁচ মাসে অপসারণ করা হয় ৪২ লক্ষ সিএফটি আবর্জনা। তিনি বলেন, জোয়ারের পানি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী ৫টি রেগুলেটর নির্মাণ করছে। ১২টি রেগুলেটর নির্মাণ করবে সিডিএ এবং ২৩টি রেগুলেটর নির্মাণ করবে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
সিডিএ’র প্রধান প্রকৌশলী বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল দখলকারী ভবন ও স্থাপনা ভেঙে ফেলার ক্ষেত্রে কারো মুখের দিকে তাকানো হবে না। দখল খালের জায়গাতো উদ্ধার হবেই, উপরন্তু খালের প্রশস্ততার জন্য কারো নিজস্ব ভূমি প্রয়োজন পড়লে তা যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিয়ে নিয়ে নেওয়া হবে।
সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী বলেন, ১৬টি ব্রিজ-কালভার্টের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। ব্রিজ-কালভার্টের নিচে দিয়ে যাওয়া ইউটিলিটি সার্ভিসের সকল সংযোগ অপসারণ করা হবে। কারণ এগুলো ব্রিজের নিচে পানি চলাচলে বাধা দেয়, এবং বিপুল পরিমাণ আবর্জনা আটকে দিয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করে।
