চট্টগ্রাম বন্দরের স্বাভাবিক কাজ আবার শুরু হয়েছে। গতকাল শনিবার বেলা ৩টা থেকে বন্দরের জেটিসমূহ থেকে ডেলিভারি কাজ শুরু হয়। ঘূর্ণিঝড় ফণীর কারণে চট্টগ্রাম বন্দরে বহির্নোঙরে ব্যাপক জাহাজ জটের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত বহির্নোঙরে অন্তত ৩০টি জাহাজ আটকা পড়েছে। এর মধ্যে ২৪টি কন্টেইনারবাহী এবং ৬টি কার্গোবাহী বাল্ক জাহাজ। আজ রবিবার আরো কয়েকটি জাহাজ বন্দরের জেটিতে আসার জন্য অপেক্ষমাণ তালিকায় সংযোজিত হবে। তিন দিনের জাহাজ জটের কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের কাজ স্বাভাবিক অবস্থায় আসতে তিন সপ্তাহ সময় লাগবে বলে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান।
ঘূর্ণিঝড় ফণীর পূর্বাভাসের কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী সতর্কাবস্থায় ছিলেন বলে জানা যায়। বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল জুলফিকার আজিজসহ সকল বোর্ড সদস্য পরিচালকসহ বিভাগীয় কর্মকর্তাগণ সার্বিক পরিস্থিতির তদারকিতে ছিলেন। বন্দরের পক্ষ থেকে বিশেষ কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছিল। চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) এনামুল করিম জানান, ফণীর তেমন কোনো প্রভাব না পড়ায় সবার মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে বন্দর পূর্বের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। এদিকে ফণীর কারণে জাহাজ চলাচল বন্ধ এবং ডেলিভারি বন্ধ থাকায় বন্দরের জেটিতে প্রায় ৩৩ হাজার কন্টেইনার আটকা পড়েছে। এক্ষেত্রে অন্যান্য সময়ের তুলনায় খালি কন্টেইনারের স্তূপও জমে গেছে। জানা যায়, তিন হাজারের বেশি খালি কন্টেইনার জমে গেছে। যা অন্যান্য স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। তবে বন্দরের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার পর খালি কন্টেইনার চলে যাবে। অন্যদিকে পবিত্র মাহে রমজান শুরু হওয়ায় খাদ্য পণ্যের আমদানি অনেক বেড়ে যাবে।
