হরতালের কারণে সংবাদপত্র যাচ্ছে না ১৫ জেলায়

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০১৩, ২২:৫৩
দেশজুড়ে চলমান হরতালে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি এবার খড়গ নেমেছে সংবাদপত্রের উপর। আক্রান্ত হচ্ছে সংবাদপত্র বহনকারী গাড়ি। দেশের প্রায় ১৫টি জেলার সড়ক-মহাসড়কে হরতাল সমর্থকদের বাধার কারণে পাওয়া যাচ্ছে না সংবাদপত্র। শীর্ষ স্থানীয় কয়েকটি সংবাদপত্রের এজেন্টরা ইত্তেফাককে জানিয়েছেন, রাস্তায় ব্যারিকেড, হকারদের ভয়ভীতি, পত্রিকায় অগ্নিসংযোগ ও মারধরের কারণে বন্ধ রাখা হয়েছে সংবাদপত্র। আবার অনেক জেলায় জামায়াত-শিবিরের হামলার কারণে সংবাদপত্র পৌঁছাচ্ছে বিলম্বে। ফলে বিড়ম্বনায় পড়ছেন সংবাদপত্র পাঠকরা। প্রসঙ্গত, এর আগের রাজনৈতিক দলের আহবান করা সকল হরতালে বিশেষ করে অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার ব্রিগেড, খাবার দোকান, ওষুধের দোকান, হাসপাতাল-ক্লিনিক, লাশবাহী গাড়ি, সংবাদপত্র ও মিডিয়ার যানবাহন আওতামুক্ত ছিল। কিন্তু এবারের জামায়াত-শিবিরের হরতালের চিত্র পুরোপুরি ভিন্ন। প্রতিনিয়ত সংবাদপত্রের উপর করা হচ্ছে আঘাত। সংশ্লিষ্টদের মতে, হরতাল সমর্থকরা বেপরোয়াভাবে সংবাদপত্রকে টার্গেট করছে। সংবাদপত্রবাহী গাড়ি দেখলেই পরিকল্পিতভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে। সংবাদপত্রের পাশাপাশি হরতালের আওতামুক্ত থাকা অ্যাম্বুলেন্সও হামলার শিকার হচ্ছে। ইত্তেফাকের বগুড়ার এজেন্ট শহীদুল ইসলাম বকুল জানান, গত রবিবার বগুড়ার দশমাইল থেকে বনানী পর্যন্ত সড়ক-মহাসড়কে বড় বড় গাছ কেটে ফেলে রাখার কারণে উত্তরের জেলায় কোন সংবাদপত্র যায়নি। হকারদের সাইকেল কেড়ে নিচ্ছে হরতাল সমর্থকরা। অগ্নিসংযোগ করছে সংবাদপত্রে। এমনকি অনেক জায়গায় সংবাদপত্রের হকারকে মারধরও করা হচ্ছে। এ কারণে গত দুই দিন উত্তরের জেলাগুলোয় সংবাদপত্র সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। গত রবিবার সকাল থেকে বগুড়া, রংপুর, দিনাজপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী, গাইবান্ধা, জয়পুরহাট জেলায় কোন জাতীয় দৈনিক পত্রিকাবহনকারী গাড়ি যেতে পারেনি। তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ, পাবনায় কিছু পত্রিকা পাওয়া যাচ্ছে। গত শনিবার থেকে সংবাদপত্র পাওয়া যাচ্ছে না কক্সবাজার, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায়ও। কারণ হিসেবে এজেন্টরা বলছেন, মহাসড়কের শতাধিক পয়েন্টে বড় বড় গাছ কেটে ফেলে রাখায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার ফলে তিনদিন ধরে জেলাগুলোয় সংবাদপত্র যাচ্ছে না। ইত্তেফাকের চট্টগ্রাম অফিসের মো. আব্দুস সাত্তার বলেন, গত শনিবার সংঘাতময় পরিস্থিতির কারণে এবং যান চলাচল না করায় ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে কোন জাতীয় দৈনিক বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার জেলা ও লোহাগাড়া উপজেলায় আসেনি। তিনি আরো জানান, গত রবিবার একটি পত্রিকার গাড়ি লোহাগাড়া দিয়ে কক্সবাজারে যাওয়ার চেষ্টা করলে হরতাল সমর্থকরা ভাংচুর করে। এছাড়াও ওই উপজেলায় বড় বড় গাছের গুঁড়ি দিয়ে সড়ক অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। সড়ক থেকে গুঁড়ি অপসারণ ছাড়া গাড়ি প্রবেশ করানো খুবই কঠিন। বান্দরবান জেলার এজেন্ট জানান, জামায়াত-শিবির কর্মীরা বান্দরবান-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাতকানিয়া এলাকায় গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ করে রেখেছে। যে কারণে বান্দরবানে ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে কোনো জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক আসেনি। পত্রিকা না পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোর বাসিন্দারা। তারা বলেন, এ যাবত্কালের সকল হরতালে পত্রিকা পাওয়া গেছে। কিন্তু এবার কেন, কি কারণে সংবাদপত্র পাওয়া যাচ্ছে না তা বোধগম্য নয়। তবে এ জন্য তারা হরতাল আহবানকারীদের তীব্র সমালোচনা করেন। সমকালের সার্কুলেশন বিভাগের লোকমান হোসেন জানান, উত্তরের জেলাগুলোর পাশাপাশি চট্টগ্রাম বিভাগে কোন পত্রিকা পাঠানো যাচ্ছে না। নানাভাবে সংবাদপত্রের গাড়ির উপর আক্রমণ করা হচ্ছে। ফলে ভীতসন্ত্রস্ত হচ্ছে পত্রিকার এজেন্ট ও হকাররা। ইত্তেফাকের সার্কুলেশন ম্যানেজার দীপক চন্দ্র রায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এর আগের সকল হরতালে সারাদেশে পত্রিকা সরবরাহে কোন সমস্যা হয়নি। কিন্তু এবার কোনভাবেই প্রায় ১৫টি জেলায় সংবাদপত্র পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। উল্লেখ্য, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায়কে কেন্দ্র করে রবি ও সোমবার জামায়াত-শিবির টানা ৪৮ ঘন্টার হরতাল আহবান করে। হরতালের নামে নেতাকর্মীরা সড়কের বিভিন্ন স্থানে গাছের গুঁড়ি ফেলে প্রতিবন্ধকতা তৈরির কারণে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোয় পত্রিকা যাওয়া বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি গণহত্যার প্রতিবাদে মঙ্গলবার হরতাল আহবান করেছে।