পৃথিবীতে হাজার হাজার প্রজাতির প্রাণী আছে। এদের মধ্যে অনেক প্রাণী আছে যারা মানুষের খুব উপকারী, আবার অনেক ধরনের প্রাণী আছে যারা বিষধর। কিন্তু এরা হলো কিছু বিশেষ প্রাণী, যারা তাদের বিষের জন্য পরিচিত ভয়ঙ্কর প্রাণী হিসেবেই। তবে পৃথিবীতে যতো বিষাক্ত প্রাণী আছে তাদের সবার বিষের একমাত্র ব্যবহার হলো শত্রুদের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করা কিংবা খাদ্য সংগ্রহ করা। অকারণে মানুষকে বা অন্য কোন প্রাণীকে আক্রমণ করতে এরা কেউই চায় না। এসো জেনে নিই পৃথিবীর বিষধর দশটি প্রাণীর সম্পর্কে।
শঙ্খচূড় সাপ (King Cobra)
সাপদের মধ্যে সবচে বড়ো হলো অজগর (Python)। কিন্তু বিষাক্ত সাপদের মধ্যে সবচেয়ে বড় হলো- শঙ্খচূড়। গোখরো সাপের (Cobra) সঙ্গে খানিক সাদৃশ্য আছে এদের। তাই এদের রাজ-গোখরো বা King Kobra বলা হয়। ধারণা করতে পারো কতো বড়ো হয়! এরা প্রায় ১৮-২০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। মাটি থেকে প্রায় ৫ ফুট পর্যন্ত উঁচু হয়ে ফণা তুলে দাঁড়াতে পারে। এদের বিষ ধারণক্ষমতাও সবচেয়ে বেশি। যে পরিমাণ বিষ এরা জমা রাখে তাতে মানুষ তো মারা যায়ই, পূর্ণবয়স্ক একটি হাতিও নাকি অক্কা পায় মাত্র ৩ ঘণ্টায়। তবে এরা সাধারণত মানুষের কাছাকাছি আসে না। ফণা তুলে শুধু ভয় দেখাতে চায়। ছোট ছোট নির্বিষ সাপই এদের খাদ্য। এদের সাধারণত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জঙ্গলেই দেখা যায়।
মার্বেল-কোণ শামুক (Marbled Cone Snails)
তোমরা সবাই-ই কম-বেশি কোণ আইসক্রিম পছন্দ করো। কোণ শামুকরা এই কোণ আইসক্রিমের মতো দেখতে। সব কোণ শামুকই বিষাক্ত, তবে এদের মধ্যেও সেরা হলো মার্বেল-কোণ শামুক। এদের খোলসটা দেখলে মনে হয়, মার্বেল পাথর দিয়ে মোজাইক (Mosaic) করা হয়েছে। তাই এদের এমন নাম। এদের দেখা যায় অস্ট্রেলিয়ার উষ্ণ লবণাক্ত সামুদ্রিক জলরাশিতে। এরা দেখতে কিন্তু খুবই সুন্দর। সুন্দর হলে কি হবে! বিষধর প্রাণীদের তালিকায় যে এদের স্থান প্রথম দিকেই।
মারণ কাঁকড়া বিছে (Death Stalker Scorpion)
আমাদের দেশে যে ধরনের কাঁকড়া বিছে পাওয়া যায়, ডেথ-স্টকারও দেখতে অনেকটা সেরকমই। তবে বিষধর হিসেব করলে এরা কিন্তু অনেক ভয়ংকর! সাধারণত আমাদের দেশি কাঁকড়া বিছের কামড়ে কারও মৃত্যু হয় না। সামান্য কিছু জ্বালাপোড়া হয় মাত্র। কিন্তু এই মারণ কাঁকড়া বিছের নামেই তোমরা বুঝতে পারছো, এদের বিষ কতোটা ভয়ঙ্কর হতে পারে। এদের বিষে অসহ্য ও তীব্র ব্যথা হয়, জ্বরও হয়। ফলে প্রাণী অচেতন হয়ে শেষে মারা যায়। এদের পাওয়া যায়, উত্তর আফ্রিকা আর মধ্যপ্রাচ্যের মরু এলাকায়।
পাথুরে মাছ (Stone fish)
দেখতে মোটামুটি চলনসই হলেও হতো। কিন্তু বিষধর ক্ষমতার মতোই এরা দেখতেও মারাত্মক কুিসত। বিষের দিক দিয়ে কিন্তু এরা মোটেই ফেলনা নয়। মাছের মধ্যে এরাই সবচে বিষধর। বিষের আক্রমণে প্রথমেই প্রাণী আকস্কিক আঘাত পায়, এর পর প্যারালাইসিস (Paralysis) হয়ে প্রাণীদেহের কোষগুলোর মৃত্যু ঘটে। শেষে প্রাণীটি মারা যায়।
ব্রাজিলের যাযাবর মাকড়সা (The Brazilian wandering spider)
২০০৭ সালে ‘গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস’ এ জায়গা করে নিয়েছিলো এই মাকড়সা। কারণটা নিশ্চয়ই এতক্ষণে তোমরা অনুমান করে নিতে পেরেছ? এটি হলো পৃথিবীর সবচে বিষধর মাকড়সা। শুধু তাই নয়, মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী মাকড়সাদের মধ্যে এরাই সবচে এগিয়ে। তারচেয়েও ভয়ের ব্যাপার হচ্ছে- এদের যাযাবর স্বভাব। যেকোন জায়গাতেই এরা লুকিয়ে থাকে। নির্দিষ্ট কোন বাসস্থান তৈরি না করে মানুষের আশ-পাশেই ঘুরে বেড়ায়। তাই এদের দিয়ে মানুষ আক্রান্তও হয় বেশি। আমাদের ভাগ্য ভালো— এই ভয়ংকর প্রাণীটা আমাদের দেশে নেই।
