জলবায়ু পরিবর্তন তহবিল ব্যয়ের স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০১৩, ২১:০৯
সংসদ সদস্যরা জলবায়ু পরিবর্তন তহবিলের ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন। তারা বলেছেন, সরকারের সতর্ক অবস্থানের পরও এই তহবিলের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে কাঙ্ক্ষিত ঝুঁকি মোকাবেলা করা সম্ভব হচ্ছে না। এ সংক্রান্ত সকল কাজের সমন্বয়ের জন্য তারা জলবায়ু বিষয়ক একটি সেল গঠনের জন্য সরকারের নিকট দাবি জানান। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনের আইপিডি সম্মেলন কক্ষে মতবিনিময় সভায় সংসদ সদস্যরা এই দাবি জানান। ইনস্টিটিউড অব ইনভায়রনমেন্ট এন্ড ডেভেলপমেন্ট (আইইডি) ও অক্সফাম আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ডেপুটি স্পিকার কর্নেল (অব.) শওকত আলী। প্রফেসর শারমিন্ড নিলোর্মির সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী, সোহরাব আলী সানা, রওশন জাহান সাথী, রুবী রহমান, বেগম শাহীন মনোয়ারা হক ও চেমন আরা বেগম, আইইডি’র প্রকল্প সমন্বয়কারী জ্যোতি চট্টোপাধ্যয়, পবা চেয়ারম্যান আবু নাসের খান এবং অক্সফামের ম্যানেজার মনীষা বিশ্বাস। বিষয় উত্থাপন করেন অক্সফামের কামরুন্নেসা নাজলী ও তাপস রঞ্জন চক্রবর্তী। জলবায়ু তহবিলের ব্যয়ে অনিয়মের কথা তুলে ধরে ডেপুটি স্পিকার বলেন, কিভাবে ব্যয় হচ্ছে তা জনপ্রতিনিধিরা জানেন না। এবিষয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, জনপ্রতিনিধিদের জানানোর কোন বিধান নেই। জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এলাকার জনপ্রতিনিধিদের জানিয়েই উন্নয়ন কাজ করতে হবে। আর দায়িত্ব দেয়া হোক বা না হোক আমরা এই কাজের মনিটরিং করবো। সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, এক সময়ে হয়তো অনেক সংসদ সদস্যের নির্বাচনী এলাকা থাকবে না। কারণ ভোটাররা উদ্বাস্তু হয়ে যাবে। এই আশংকা বিবেচনায় নিয়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করা প্রয়োজন। জলবায়ু পরিবর্তন তহবিলের টাকা সাফারি পার্ক, শিপ ব্রেকিং-এর মতো কাজে ব্যয় করা হচ্ছে। ফলে সরকারের আন্তরিকতা সত্ত্বেও সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হচ্ছে না। সোহরাব আলী সানা বলেন, খুলনার পাইকগাছা ও কয়রা ঘূর্ণিঝড় আইল্যা ও সিডরে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবে খরস্রোতা কপোতাক্ষ নদ ভরাট হয়ে গেছে। শিবসাসহ অন্যান্য নদীও ভরাটের উপক্রম। ফলে বর্ষা মওসুমে বিরাট এলাকা প্লাবিত হওয়ায় প্রতি বছরই রাস্তাঘাট সংস্কার করতে হয়। অথচ জলবায়ু পরিবর্তন তহবিলের বরাদ্দ খুলনার থেকে বেশি পাচ্ছে চট্টগ্রাম। পরিকল্পনা প্রণয়নে আমলা ও বিশেষজ্ঞ নির্ভর না হয়ে জনগণ ও জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো উচিত। সভায় জানানো হয়, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ জয়বায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ে সংসদের আগামী অধিবেশনে একদিন সাধারণ আলোচনা করা হবে।