ফরিদগঞ্জের নারীদের তৈরি জুতা ইউরোপীয়দের পায়ে

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০১৩, ২১:২৫
‘আমার হাতে তৈরি জুতা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যায়, সেখানকার মানুষ আমার হাতের সেলাই করা জুতা পরে। এটা ভাবতেই আমার আনন্দ হয়। জুতা বানিয়ে দূর হয়েছে আমার পরিবারের অভাব অনটন। ছেলে-মেয়ে নিয়ে ভালোই দিন কাটছে আমার।’ কথাগুলো বলেন ফরিদগঞ্জের সাহাপুর গ্রামের তপদার বাড়ির শাহানারা (৪৫)। কৃষক স্বামীর অল্প আয়ে এত দিন যার সংসার চালাতে হিমসিম খেতে হয়েছে, সেই শাহানারার মুখে আজ তৃপ্তির হাসি। শুধু শাহানারা নয়, মীরপুর ও সাহাপুর গ্রামের প্রায় দুই শতাধিক নারী এবং তাদের পরিবার জুতা তৈরি করে তাড়িয়েছে অভাব। তাদের তৈরি জুতা রফতানি হচ্ছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। আর তাদেরকে অনন্য এই সুযোগ করে দিয়েছে সোনালী আঁশ গ্রুপ নামে একটি শিল্প প্রতিষ্ঠান। উপজেলার সাহাপুর ও মীরপুর গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে গেলে এখন সবার চোখেই পড়বে একই দৃশ্য। বাড়ির আঙ্গিনায় একসঙ্গে জুতা সেলাইয়ে ব্যস্ত নারীরা। জুতা তৈরির সঙ্গে যুক্ত আক্তার পাটোয়ারী বলেন, সোনালী আঁশ গ্রুপের কাছ থেকেই মূলত এই জুতা তৈরির কাজটি পায় তারা। সম্পূর্ণ পাটের তৈরি জুতাটির কিছু অংশ ঢাকা থেকে তেরি করে পাঠনো হয় তাদের কাছে। আর মহিলারা বাড়িতে বসে এই কাজটি সম্পূর্ণ করে আবার তাদের কাছে পাঠিয়ে দেয়। এক জোড়া জুতা সেলাই করাসহ সম্পন্ন করলে তাদের দেয়া হয় ৫ টাকা করে। একজন মহিলা দিনে অন্তত ৩০ জোড়া জুতা তেরি করে দিতে পারে। তাদের তৈরি করা জুতাগুলো প্রতি ২/৩ দিন অন্তর পাঠানো হয় ঢাকায়। প্রতিবারেই প্রায় ৪/৫ হাজার জোড়া জুতা তারা ঢাকায় পাঠাতে পারে। পরবর্তীতে সোনালি আঁঁশ গ্রুপ এগুলো রফতানি করে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। তবে এই জুতা তৈরির কাজে প্রথমে গ্রামের কয়েকজনকে কোম্পানি প্রশিক্ষণ দেয়। পরে একে অপরের কাছ থেকে শিখে এখন সবাই এই কাজে পারদর্শী। তিনি আরো জানান, বর্তমানে ফ্রান্সে একটি বড় চালান পাঠানোর জন্য খুব দ্রুত গতিতে কাজ চলছে। এই জন্য দিন রাত মহিলারা জুতা তৈরির কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। মানসম্মত এবং আরামদায়ক হওয়ায় দিন দিন বিদেশে এই জুতার চাহিদা বাড়ছে বলেও তিনি জানান। এই সময় জুতা তৈরিতে ব্যস্ত গ্রামের মরিয়ম (৩৫) ও সালমা (১৮) বলেন, গত কিছু দিন আগেও তাদের সংসার চলতো অনেক কষ্টে। কিন্তু এখন এই জুতা তৈরি করে সবাই সংসারে স্বচ্ছলতা এনেছে। তারা প্রত্যেকেই এখন বাড়িতে বসে মাসে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা রোজগার করছে। বর্তমানে মহিলাদের পাশাপাশি পুরুষরাও এই কাজে নিজেদের যুক্ত করেছেন। অনেক পুরুষই এখন জীবিকার জন্য জুতা তৈরির কাজটি বেছে নিয়েছে বলে তারা জানান।