ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি ও তার সহধর্মিণী শুভ্রা মুখার্জি গতকাল মঙ্গলবার টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কুমুদিনী কমপ্লেক্সে কিছু সময় কাটিয়েছেন। উপভোগ করেন ভারতেশ্বরী হোমসের ছাত্রীদের মনোমুগ্ধকর ডিসপ্লে। ছাত্রীদের উদ্দেশে প্রণব মুখার্জি দিয়েছেন দিক নির্দেশনামূলক ভাষণ। আর ভারতের প্রথম বাঙালি রাষ্ট্রপতিকে এক নজর দেখার জন্য ছিল বিভিন্ন বয়সী মানুষের ভিড়।
দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে প্রণব মুখার্জি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি বিশেষ হেলিকপ্টারযোগে কুমুদিনী কমপ্লেক্সের হেলিপ্যাডে নামেন। এ সময় তাকে অভ্যর্থনা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের নির্বাহী ব্যবস্থাপক রাজিব প্রসাদ সাহা, তার সহধর্মিণী সম্পা সাহা, টাঙ্গাইল-৭ আসনের সংসদ সদস্য একাব্বর হোসেন, টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান খান ফারুক এবং টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মো. আনিছুর রহমান মিঞা।
দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে কুমুদিনী কমপ্লেক্সে প্রণব মুখার্জির আসার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘন্টা পর তিনি এসে পৌঁছান। প্রখর রোদের মাঝেও এই দীর্ঘ সময়টা হাসিমুখে কাটিয়ে দিয়েছে তাকে দেখতে আসা হাজার হাজার মানুষ।
প্রণবের আগমনে কুমুদিনী কমপ্লেক্স সেজেছিল বর্ণিল সাজে। পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে বিভিন্ন রং বেরংয়ের পতাকা, প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন টানানো হয়েছিল। কুমুদিনী কমপ্লেক্সের প্রতিষ্ঠাতা দানবীর রনদা প্রসাদ সাহা, প্রণব মুখার্জি ও শুভ্রা মুখার্জির ছবি সম্বলিত বিশাল বিলবোর্ডও টানানো হয়েছিল।
প্রণব ভারতেশ্বরী হোমসের ছাত্রীদের মনোমুগ্ধকর ডিসপ্লে উপভোগ করেন। পরে তিনি দিক নির্দেশনামূলক সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন কুমুদিনী পরিবারের এবং ভারতেশ্বরী হোমসের ছাত্রীদের উদ্দেশে। হোমস থেকে বের হয়ে রাষ্ট্রপতি ভারত সরকারের আর্থিক সহায়তায় বর্জ্য শোধনাগার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন। কুমুদিনী হাসপাতাল ও লাইব্রেরি মিলনায়তন পরিদর্শন শেষে মধ্যাহ্ন ভোজের পর ৪টা ২০ মিনিটে তিনি মির্জাপুর ত্যাগ করেন।
বজরায় বসে মুগ্ধ হয়ে শুনলেন ‘যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে’
এদিকে কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ও কুমারখালি সংবাদদাতা জানান, বিকাল পৌনে পাঁচটায় প্রণব মুখার্জি হেলিকপ্টারযোগে বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত কুঠিবাড়ির অদূরে আলাউদ্দিন নগরে নির্মিত হেলিপ্যাডে অবতরণ করেন। এসময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ অতিথিদের অভ্যর্থনা জানান। বিকাল ৫টায় শিলাইদহে পৌঁছেই সরাসরি কুঠিবাড়ির ভিতরে প্রবেশ করে তিনি ও তার সফরসঙ্গীরা কুঠিবাড়ি পরিদর্শন করেন। এসময় প্রণব মুখার্জি কুঠিবাড়ির ভিতরে রবীন্দ্রনাথের ব্যবহার্য সামগ্রী ও বিভিন্ন ছবি ঘুরে ঘুরে দেখেন। পরে তিনি বিশ্রাম নেন গীতাঞ্জলি রেস্ট হাউজে। এরপর তিনি কুঠিবাড়ির পশ্চিম পাশে বকুলতলার ঘাটে একটি বকুল ফুলের চারা রোপণ করেন। চারা রোপণ শেষে বকুলতলা সংলগ্ন বজরায় (বড় নৌকা) গিয়ে বসেন তিনি। এসময় স্থানীয় প্রবীণ শিল্পী আতিয়ার রহমানসহ আরো পাঁচ জন শিল্পী বকুলতলার ঘাটে কবির রচিত ‘যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে’ গানটি পরিবেশন করেন। মুগ্ধ হয়ে গানটি শুনেন রাষ্ট্রপতি। দেশীয় ফল ও মিষ্টি দিয়ে আপ্যায়ন করা হয় প্রণবকে। প্রণব মুখার্জি রবীন্দ্রনাথের ২১ ছবি উপহার দেন কুঠিবাড়িকে। এরপর তিনি বিকাল সোয়া পাঁচটায় শিলাইদহ থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা হন।
