খালেদার আচরণ দুর্ভাগ্যজনক গণতান্ত্রিক রীতি বহির্ভূত

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০১৩, ২২:২৪
‘দাওয়াত দিয়ে পরে সাক্ষাত্ করতে না যাওয়াটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। প্রণব মুখার্জির মতো একজন সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাত্ বাতিল রাজনৈতিক রীতির ব্যত্যয়।’ কথাগুলো বললেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর রূপসী বাংলা হোটেলে এক জনাকীর্ণ সাংবাদিক সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন তিনি। ভারতীয় রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির সফরসঙ্গী নয়াদিল্লী থেকে আসা প্রায় ৩০ জন সাংবাদিক ও স্থানীয় মিডিয়া প্রতিনিধিদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন ডা. দীপু মনি। সম্মেলনে প্রণব মুখার্জির সঙ্গে খালেদার সাক্ষাত্ বাতিল, শাহবাগে তরুণ প্রজন্মের আন্দোলন, দেশব্যাপী সাম্প্রতিক সহিংসতা, জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার প্রসঙ্গ, ঢাকা-দিল্লী সম্পর্কসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন দীপু মনি। ভারতীয় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে খালেদার বৈঠক বাতিল সম্পর্কে এক ভারতীয় সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই ঘটনাটা গণতান্ত্রিক প্রত্যাশার বাইরে ঘটেছে। দুর্ভাগ্যজনকও বটে। প্রণব মুখার্জি এই অঞ্চলে একজন সম্মানিত ব্যক্তি। এমনটি ঘটা ঠিক হয়নি। বিরোধীদলীয় নেতার নিজের ও দলের পক্ষে বৈঠকটি বাতিল করা হয়। অবশ্যই গণতান্ত্রিক রীতির ভঙ্গ হয়েছে এতে। আচার-আচরণে যেসব দল সমানভাবে গণতান্ত্রিক নয় তা বোঝা গেছে এতে। ডা. দীপু মনি এ প্রসঙ্গে আরো বলেন, খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে সাক্ষাত্কারের সময় চাওয়া হয় ও সময় নির্ধারিত হয়। তাই তিনি প্রণব মুখার্জির সঙ্গে সাক্ষাত্ করবেন এটাই প্রত্যাশিত ছিল। গণতান্ত্রিক রীতির এই প্রত্যয়ের ফলে দুইটি বড় রাজনৈতিক দলের মধ্যকার তফাত পরিষ্কার হয়ে গেল। এটাও বোঝা গেল, সব দল সমানভাবে গণতান্ত্রিক রীতির চর্চা করে না। আতিথেয়তার যে ঐতিহ্য দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ ধারণ করছে তার ব্যত্যয় ঘটেছে বৈঠক বাতিলের মধ্য দিয়ে। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক খুবই মজবুত ও সুদৃঢ়। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে তার কোন হেরফের হবে না। বিএনপি ভারতীয় হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করে সাক্ষাতের সময় নির্ধারণ করেছিল। প্রণব মুখার্জির সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে ডা. দীপু মনি বলেন, ভারত এ পর্যন্ত যত প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সেগুলো বাস্তবায়নে পুরোপুরি অঙ্গীকারাবদ্ধ। লোকসভার চলতি অধিবেশনে সীমান্ত চুক্তি কার্যকরের লক্ষ্যে সংবিধান সংশোধনী বিল পাস হবে। ভারতীয় বিরোধী দল বিজেপির বিরোধিতা বা আপত্তি সম্পর্কে কোন মন্তব্য করেননি তিনি। চিস্তা চুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিগগিরই এটি হবে বলে আশ্বাস পেয়েছি। যেহেতু সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে আমরা আশ্বাস পেয়েছি তাই আশা করি অনিষ্পন্ন ইস্যুগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি হবে। শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলন সরকার রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. দীপু মনি বলেন, সমাজের সর্বস্তরের মানুষ শাহবাগ আন্দোলনে সমর্থন দিয়েছে। তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশার সঙ্গে সরকার পুরোপুরি একমত। তারা যে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছে সারাবিশ্ব তা দেখছে। রাজনৈতিকভাবে এই আন্দোলনকে ব্যবহারের প্রশ্নই আসে না। জামায়াত-শিবিরের সহিংসতা ও ত্রাস প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তারা রাস্তা, অবকাঠামো ধ্বংস করছে। পুলিশ হত্যা, রেললাইন উপড়ে ফেলা ও ট্রেনে আগুন দিচ্ছে। সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণ চালিয়েছে। তারা যে তাণ্ডব চালাচ্ছে তা কেবল আমাদের ১৯৭১ সালকেই মনে করিয়ে দেয়। একাত্তরেও তারা এমন তাণ্ডব চালাত। জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার যে দাবি উঠেছে তা সরকার সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে। এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের করণীয় আছে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জনগণ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রত্যাখ্যান করেছে। নির্বাচন কমিশন শক্তিশালী করা, নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে সরকার যে কোন সময় সংসদে আলোচনা করতে প্রস্তুত। আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে হবে ও সব দল অংশ নেবে আশা করি। সাংবাদিক সম্মেলনে পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক, মহাপরিচালক (বিহঃপ্রচার) শামীম আহসানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।