কী করে এলো

অবিশ্বাস্য কীর্তি!

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০১৩, ১৯:৪০
অসম্ভবকে সম্ভব করার কৃতিত্ব যারা দেখান ইতিহাসে সবসময়ই তাদের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকে। তবে এর বাইরে দাঁড়িয়ে যারা নিজেরাই জন্ম দেন নতুন ইতিহাসের তাদের সাথে আর কারোই তুলনা চলে না। আর নিজের প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে গেল ক’বছরে এমনই এক ইতিহাস একটু একটু করে লিখেছেন আমেরিকার অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের ৩০ বছর বয়সী জেসিকা কক্স। বিরল শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে দু’হাত ছাড়া জন্ম নিলেও কক্স তার একাগ্রতা আর চেষ্টা দিয়ে এমন অনেক কিছুই অর্জন করেছেন যেটি অনেক সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষের পক্ষেও এ বয়সে অর্জন করা সম্ভব হয় না। এ ধরনের প্রতিবন্ধকতাকে জয় করার জন্য অনেকেই হয়তো পিয়ানো বাজানো বা পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়াটাকেই অনেক বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে গণ্য করেন। কিন্তু কক্স শুধু এইসব প্রয়োজনের কাজেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। বরং সবাইকে অবাক করে দিয়ে অর্জন করে নিয়েছেন বৈমানিকের স্বীকৃতিও। এর আগে স্রেফ পা দিয়ে গাড়ি চালানোর মাধ্যমে লাইসেন্স পেয়েই যেখানে আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন কক্স, সেখানে এই স্বীকৃতির প্রান্তে দাঁড়িয়ে না থেকে ২০০৮ সালেই হাতবিহীন প্রথম বৈমানিক হওয়ার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করেন জেসিকা কক্স। আর সেই সাফল্যকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়ে সম্প্রতি তায়কোয়ান্দোর মতো মার্শাল আর্টের একটি শাখাতেও বে¬ক বেল্ট যোগ্যতা অর্জনের কৃতিত্ব দেখিয়েছেন কক্স। বলা বাহুল্য, জেসিকার এই সাফল্য অসামান্য অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়াতে পারে তার মতো অন্য আরও অনেকের জীবনেই। আর তাই জেসিকার এই অসম্ভবকে সম্ভব করার গল্প সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতেই নির্মিত হচ্ছে তার জীবনীভিত্তিক ডকুমেন্টারি ‘রাইটফুটেড’ যেখানে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে এই মহিয়সী নারীর দৃঢ়প্রতিজ্ঞা আর আত্মবিশ্বাস নিয়ে সবকিছু জয়ের গল্প।