গড়ে তুলুন সাইবার ক্যাফে

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০১৩, ২১:০৭
সময়ের সাথে সাথে প্রযুক্তির ব্যবহার যেমন বাড়ছে, তেমনি আমাদের দেশেও বাড়ছে কম্পিউটার আর ইন্টারনেটের ব্যবহার। তবে ইন্টারনেট সংযোগটা আমাদের দেশে রাজধানী ঢাকাসহ কয়েকটি বড় শহর বাদে বাইরে সহজলভ্য নয়। এমনকি ঢাকা বা বড় বড় শহরগুলোতেও অনেকেরই কম্পিউটার থাকলেও নেই নিজস্ব ইন্টারনেট সংযোগ। তাই বলে যে তাদের ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রয়োজন নেই, তা বলা যাবে না। ইন্টারনেটের প্রয়োজন আছে যাদের কিন্তু নেই নিজস্ব ইন্টারনেট সংযোগ, তাদের প্রয়োজন মিটিয়ে নিজে আয়ের একটি রাস্তা খুঁজে পেতেই সাইবার ক্যাফের যাত্রা শুরু। ২০০০ সালের প্রথম দিকে সারা দেশে ডিজিটাল টেলিফোন ব্যবসা আসার পর থেকেই ব্যাপকভাবে গড়ে উঠতে থাকে সাইবার ক্যাফে। সব শ্রেণির মানুষ যেমন ছাত্র, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, তরুণ, বেকার সবারই কল্যাণে দিনের পর দিন সাইবার ক্যাফে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। সাইবার ক্যাফের ব্যবসার সাধারণত দুই ধরনের হতে পারে—একক ব্যবসা এবং যৌথ ব্যবসা। আপনার সঠিক পরিকল্পনার ব্যবসা আপনাকে অনেক দূর পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারে। তাই আগে ভাবা দরকার ব্যবসা একাকী করবেন, না কোনো অংশীদার নেবেন। তবে এমনও নজির আছে কয়েকজন বন্ধু মিলে একটা সাইবার ক্যাফে খুলেছে। তাদের সঠিক পরিকল্পনার ফলে এখনও তারা ব্যবসায় লাভ করেই চলেছে। যদি এরকম কোন অংশীদার পান যিনি নির্ভেজাল তবে তাকে নিতে পারেন আপনার সঙ্গে। স্থান নির্ধারণ :আপনার সাইবার ক্যাফে বা সাইবার সেন্টারটি গড়ে তুলতে হবে জনাকীর্ণ এলাকায়, যেখানে সব সময় মানুষের, বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের ভিড় থাকে। সেক্ষেত্রে আপনি আপনার সাইবার ক্যাফের স্থান নির্ধারণ করতে পারেন কোন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা মেইন রোডসংলগ্ন এলাকাতে। তবে যেখানেই স্থাপন করুন না কেন, ভেতরের জায়গাটি একটু প্রশস্ত হওয়া প্রয়োজন। সাইবার ক্যাফে সাজাতে সাজসজ্জার শেষ নেই, তাই আপনার সাইবার ক্যাফেটি আপনি আপনার ইচ্ছামতো সাজাতে পারেন। তবে মনে রাখতে হবে আগে দর্শনদারী তারপর গুণবিচারি। সে হিসাবে আপনার সাইবার ক্যাফেটি অবশ্যই সুন্দর ডেকোরেশনের হতে হবে। সেক্ষেত্রে একটু বেশি টাকা খরচ করলেই কম্পিউটারের টেবিলটি হতে পারে সকলের চাইতে আলাদা। সেটিই অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। আবার চেয়ারগুলোও নিতে পারেন ব্যতিক্রম ডিজাইনের। আর ছোট-ছোট দুয়েকটি ফ্লাওয়ার ভাস কিংবা এরকম দুয়েকটি শোপিস আপনার ক্যাফের পরিবেশকে পাল্টে দিতে পারে একদম পুরোপুরি। যা যা লাগবে :সাইবার ক্যাফেতে অনেক ধরনের যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হয়। সাধারণ কম্পিউটার ও ইন্টারনেটের পাশাপাশি কম্পিউটার অ্যাকসেসরিজ হিসেবেও বেশকিছু যন্ত্র প্রয়োজন হবে আপনার। এর মধ্যে রয়েছে স্ক্যানার, প্রিন্টার, সিডি-রাইটার প্রভৃতি। কেমন হবে কম্পিউটার :মাঝারি আকারের সাইবার ক্যাফের জন্য ৮ থেকে ১০টি কম্পিউটারই যথেষ্ট। অনেকে মনে করেন ইন্টারনেটের জন্য দ্রুতগতির এবং হাই কনফিগারেশনের কম্পিউটার দরকার। এই ধারণাটি সঠিক নয়। মোটামুটি কনফিগারেশনের কম্পিউটার হলেই চলবে সাইবার ক্যাফের জন্য। বর্তমান বাজারের প্রেক্ষিতে ডুয়াল কোর প্রসেসর দিয়েই তৈরি করতে পারেন কম্পিউটার। র্যাম থাকতে পারে ১ গিগাবাইট থেকে। ইন্টারনেট সংযোগ :কম্পিউটার যেমনই হোক না কেন, ইন্টারনেট সংযোগের ক্ষেত্রে আপনাকে হতে হবে সচেতন। কেননা, আপনার সাইবার ক্যাফের ব্যবসার মূলমন্ত্রটিই হচ্ছে ইন্টারনেট সংযোগ। এটার উপরই নির্ভর করছে আপনার ব্যবসার ভাগ্য। এর উপর নির্ভর করে ইন্টারনেটের স্পিড। যদি স্পিড বেশি হয় তবে লোকজন বেশি আসবে, আর স্পিড কম হলে লোকজন খুঁজে পাওয়া মুশকিল হয়ে দাঁড়াবে। সেক্ষেত্রে ২৫৬ থেকে ৫১২ কেবিপিএস কিংবা ১ এমবিপিএস ব্যান্ডউইডথের ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ নিতে পারেন। খেয়াল করুন :সাইবার ক্যাফে তো দিয়ে দিলেন। লোকজনও আসছে নিয়মিত। ব্যবসা হচ্ছে ভালোই। কিন্তু হঠাত্ করেই একটি কম্পিউটার আর কাজ করছে না। কী করবেন? কিংবা প্রিন্টার বা স্ক্যানারটাই কাজ করছে না। ভয় পেলে চলবে না। সবচেয়ে ভালো হয় নিজেই টুকিটাকি কম্পিউটার এবং অ্যাকসেসরিজ সার্ভিসিং শিখে নিন। আর এমন জায়গা থেকে কম্পিউটার ও যন্ত্র কিনে নিন, যেখানে সার্ভিসিং পাওয়া যাবে চাওয়া মাত্রই। নেটওয়ার্কিংয়ের কাজও শিখে রাখুন। কাজে লাগবে। আর চাহিদা অনুযায়ী ব্ল্যাংক সিডি, ডিভিডি প্রভৃতিও রাখুন। আবার হেডফোনও রাখতে হবে কিন্তু। আলাদা ‘স্মোকিং জোন’ রাখলেও খারাপ হয় না। টুকটাক এসব দিকে মনোযোগ দিলে সকলের মনোযোগটা আপনার ক্যাফের দিকেই থাকবে।