অন্য তারুণ্য

মেধায় অনন্য

আপডেট : ০৮ মার্চ ২০১৩, ১৫:২৭
উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী শহর নওগাঁতে জন্ম তার, সেখানেই বেড়ে ওঠা। নওগাঁ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থাকাকালীন শিক্ষকদের প্রিয়মুখ ছিলেন তিনি। যেকোনো আয়োজনে ফাল্গুনী মজুমদারকে দরকার সবার আগে। কাছের মানুষদের কাছে সে শান্তা নামেই সমাদৃত। শান্তা যখন স্কুলে পড়েন তখন নিয়মিত চর্চা ছিল গান আর বিতর্কের। সেই সময় থেকেই গান করেছেন বাংলাদেশ বেতারের রাজশাহী কেন্দ্রে, নিয়মিত চর্চাও ছিল তার। সেটা যে এখনও চালিয়ে যাচ্ছেন সমানতালে এতকিছুর মাঝে তার প্রমাণ তিনি এখন ছায়ানট শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। আগ্রহের ক্ষেত্রটা তার রবীন্দ্রসংগীত। সব মিলিয়ে গানের জগতের এক স্বতঃস্ফূর্ত পদচারক তিনি। স্কুল পেরিয়ে চলে আসেন পদ্মপাড় রাজশাহীর নিউ গভর্মেন্ট ডিগ্রি কলেজে। সেখান থেকেই এইচএসসি, সেই অল্প সময়টাতেও যে বসেছিলেন তেমনটা নয়, বিতর্কের সাথে একটা ওঠাবসা ছিল সব সময়ই। কলেজ পেরোনোর পর শান্তা ভর্তির সুযোগ পেয়ে যান শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক টিম তো তার মতো মঞ্চ কাঁপানো বিতার্কিক আর শিল্পী পেয়ে যারপরনাই খুশি। সেই প্রত্যাশা তিনি পূরণ করেছিলেন। ২০১১ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্ক টিমের বিজয়ী দলের দলনেতা ছিলেন তিনি। সময়টা ২০১১ সাল। বিতর্ক আর গানের খাতিরে শান্তাকে ততদিনে অনেকেই চিনে ফেলেছে। কবিতার প্রতি আগ্রহ জন্ম নিল তখন তার। জীবনানন্দ বলেছিলেন, কবিতা আর জীবন সে তো একই জিনিসের দুরকম উত্সারণ। জীবনের অর্থ খুঁজতে গিয়ে কবিতার প্রতি প্রেম, শুরু কবিতা আবৃত্তি, সেটা শখ হোক যাই হোক, হওয়া চাই ঠিকঠাক একদম। তাইতো ২০১১ সালের আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় কবিতা আবৃত্তির দ্বিতীয় সেরার পুরস্কারটা তার হাতেই। শান্তার কাছে জানতে চেয়েছিলাম, এই যে পড়াশোনার পাশাপাশি এতকিছু, কোনো সমস্যা হয় কি না। উত্তরে তিনি বলেন, ‘আসলে সময়টা আমাদের জন্য অনেক। ঠিকমতো ব্যবহার করতে পারলেই হয়। অনেকেই একসাথে অনেক কিছু করছে, কই আমার তো মনে হয় এতে বরং আরও লাভ। আপনি অনেক কিছু আগে থেকেই শিখতে পারছেন, জানতে পারছেন।’ তাই এতকিছুর মাঝে কোনো অসুবিধা হয় বলে মনে করেন না তিনি। আর তিনি নিজেই সেটা প্রমাণ করেছেন। সবকিছুই সম্ভব কথাটা তিনি নিজেও বিশ্বাস করেন, কাজটাও করে যান সেই লক্ষ্যে। ৩২তম বিসিএস পরীক্ষায় কৃষি ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা হিসেবে চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়ে এখন তিনি যোগদানের অপেক্ষায়। ভুল বলা হলো কিছুটা, অপেক্ষায় তো তিনি থাকেন না। এই সময়টাতেই করে ফেলছেন স্নাতকোত্তর। আর তার মনকে ইতোমধ্যেই প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন শান্তা, সুযোগ মতো পিএইচডি ডিগ্রিটা চাই তার। ফাল্গুনী মজুমদার শান্তার বাবা বিষ্ণুপদ মজুমদার বাংলাদেশ রেলওয়ের একজন কর্মকর্তা, কর্মরত রয়েছেন রেলশহর সান্তাহারে। মা চিত্রা মজুমদার আদর্শ একজন গৃহিণী। সুখী দম্পতির তিন কন্যার মাঝে শান্তা প্রথম। অন্যতারুণ্য শান্তার দুই বোনের একজন মোহনা, টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন। ছোটজন শরণ, দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। তারাও তাদের দিদিকে নিয়ে অনেক খুশি, হয়তো তারাও এভাবে আলোকিত করবেন বাবা-মায়ের মুখ। শান্তা সেই পথ ধরেই হেঁটেছেন, আজ তিনি সফলতার দারপ্রান্তে। তার কাছে সাফল্যের সংজ্ঞা জানতে চাইলে জানালেন, সততা ও পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই। তিনি অনেকদূর এগিয়ে যাবেন এই পথ ধরে, শুভকামনা রইল।