অ্যান্ড্রয়েড হলো মোবাইলের জন্য এমন একটি সফটওয়্যারের সম্মিলন ভার্সন যেটাতে অপারেটিং সিস্টেম, মিডলওয়্যার এবং অ্যাপ্লিকেশনগুলো থাকে। গুগল, ইনকর্পোরেটের প্রাথমিক ডেভেলপারদের (অ্যান্ড্রয়েড ইনকর্পোরেট) কিনে নেয় ২০০৫ সালে। অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম মূলত লিনাক্স কার্নেলের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। গুগল এবং অন্যান্য মুক্ত হ্যান্ডসেট অ্যালায়েন্সের সদস্যরা অ্যান্ড্রয়েডের উন্নয়ন এবং বাজারে উন্মুক্ত করা নিয়ন্ত্রণ করে। অ্যান্ড্রয়েড ওপেন সোর্স প্রজেক্টটি (এওএসপি) অ্যান্ড্রয়েডের রক্ষণাবেক্ষণ এবং ভবিষ্যত্ উন্নয়েনের কাজ করে থাকে। বর্তমানে অ্যান্ড্রয়েড হলো বিশ্বের শীর্ষ বিক্রিত স্মার্টফোন অপারেটিং সিস্টেম। অ্যান্ড্রয়েডের অনেক উন্নয়নকারী আছেন যারা এর জন্য বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করে থাকে এতে করে এই অপারেটিং সিস্টেমের জনপ্রিয়তা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। জনপ্রিয়তার আরও একটি কারণ হলো এর মুক্ত বিচরণ। বর্তমানে প্রায় ২০০০০০ সংখ্যক অ্যাপ্লিকেশন রয়েছে অ্যান্ড্রয়েডের বাজারে। অ্যান্ড্রয়েড মার্কেট একটি অ্যাপ্লিকেশন বাজার যেটা গুগল চালায়, যদিও অ্যাপ্লিকেশনগুলো বাইরের কোন থার্ড পার্টি সাইট থেকেও ডাউনলোড করা যায়। উন্নয়নকারীরা প্রাথমিকভাবে জাভা প্রোগ্রামিং ভাষা দিয়ে লিখে থাকে, যেটা গুগল জাভা লাইব্রেরি দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। ওপেন হ্যান্ডসেট অ্যালায়েন্সের শুরুর সাথে সাথে অ্যান্ড্রয়েডের বিতরণ উন্মুক্ত করা হয় ৫ নভেম্বর ২০০৭ সালে যেখানে ৮০টি হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার এবং টেলিকম কোম্পানি ছিল। তাদের সকলের উদ্দেশ্য ছিল মুক্ত আদর্শ মোবাইল প্লাটফর্ম তৈরি করা। গুগল অ্যান্ড্রয়েডের বেশিরভাগ কোড ছাড়ে এপ্যাচি এবং মুক্ত উেসর লাইসেন্সের আওতায়। অ্যান্ড্রয়েডের সফটওয়্যারটি জাভা অ্যাপ্লিকেশনের সমন্বয়ে গঠিত যা জাভার উপর ভিত্তি করে তৈরি করা, এটি ডেলভিক ভার্চুয়াল মেশিনে (জেআইটি কম্পাইলেশন ব্যবহার করে) জাভা কোর লাইব্রেরিতে চলে। লাইব্রেরিটি প্রোগ্রামিং ভাষা সি’তে লেখা যাতে আছে সারফেস ম্যানেজার, ওপেন কোর মিডিয়া ফ্রেমওয়ার্ক, এসকিউলিট রিলেশনাল ডাটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, ওপেনজিএল ইএস ২.০ ৩য় মাত্রার গ্রাফিক্স এপিআই, ওয়েবকিট লেআউট ইঞ্জিন, এসজিএল গ্রাফিক্স ইঞ্জিন, এসএসএল এবং বাইওনিক লিবক। অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমটি (যাতে লিনাক্স কারনেলও আছে) প্রায় ১২ মিলিয়ন কোডিং লাইনের সমন্বয়ে তৈরি যাতে আছে প্রায় ৩ মিলিয়ন এক্সএমএল লাইন, প্রায় ২.৮ মিলিয়ন সি (প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ) লাইন, ২.১ মিলিয়ন জাভা লাইন, ১.৭৫ মিলিয়ন সি++ (প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ) লাইন। ২০০৫ সালের আগস্ট মাসে গুগল অ্যান্ড্রয়েড কিনে নেয় এবং এটাকে এবং এর অধীনস্থদের (এন্ডি রুবিন, রিচ মাইনার এবং ক্রিস হোয়াইট) গুগল ইনকর্পোরেটের সহ-প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। কেনার সময় অ্যান্ড্রয়েড সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি বিস্তারিত, কিন্তু অনেকেই ধারণা করেছিল যে গুগল মোবাইল বাজারে আসতে যাচ্ছে। আর এই সফটওয়্যারটির ডেভেলপমেন্টের জন্য যারা কাজ করছিলেন তারা প্রথমে কাজটি করেছিলেন লুকিয়ে লুকিয়ে। যেহেতু তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত ছিলেন তাই অ্যান্ড্রয়েড প্রতিষ্ঠানটি তার কার্যক্রম চালাত অনেকটা লুকিয়ে। প্রতিষ্ঠান থেকে এটা বলা হতো যে তারা শুধু মোবাইলের একটি সফটওয়্যারের কাজ করছে। ২০০৫ সালের আগস্ট মাসে গুগল অ্যান্ড্রয়েড কিনে নেয় এবং এটাকে এবং এর অধীনস্থদের (এন্ডি রুবিন, রিচ মাইনার এবং ক্রিস হোয়াইট) গুগল ইনকর্পোরেটের সহ-প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। কেনার সময় অ্যান্ড্রয়েড সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি বিস্তারিত, কিন্তু অনেকেই ধারণা করেছিল যে গুগল মোবাইল বাজারে আসতে যাচ্ছে।
গুগলের কার্যক্রম দেখে অনেকেই মনে মনে ভাবতে শুরু করে গুগল মোবাইল যোগাযোগ বাজারে প্রবেশ করবে (২০০৬ সালের ডিসেম্বর থেকে)। বিবিসি এবং ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল উল্লেখ করে গুগল তাদের সার্চ ইঞ্জিন এবং অ্যাপ্লিকেশন মোবাইল ফোনে চালাতে চায় এবং তারা তা করার জন্য কাজ করছে। অনলাইন এবং কাগজে গুজব ছড়াতে থাকে যে গুগল তাদের নিজস্ব ব্যান্ডের হ্যান্ডসেট তৈরি করছে। কেউ কেউ মতামত দেয় যে যেহেতু গুগল কারিগরী দিকগুলোর কথা বলছে সেহেতু এটা মোবাইল ফোনের নমুনা উত্পাদক এবং নেটওয়ার্ক অপারেটরদের দেখাচ্ছে। ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বরে, ইনফরমেশন উইক প্রকাশ করে যে গুগল কিছু মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনকে পেটেন্ট করিয়ে নিয়েছে। ২০০৭ সালের ৫ নভেম্বর, ওপেন হ্যান্ডসেট অ্যালায়েন্স সূচনা করে, যাতে ছিল ব্রডকম কর্পোরেশন, গুগল, এইচটিসি, ইন্টেল, এলজি, মার্ভেল টেকনোলজি গ্রুপ, মটোরোলা, এনভিডিয়া, কোয়ালকম, স্যামসাং ইলেক্ট্রনিকস, প্রিন্ট নেক্সটেল, টি-মোবাইল এবং টেক্সাস ইনস্ট্রুমেন্ট। ওপেন হ্যান্ডসেট অ্যালায়েন্সের উদ্দেশ্য হলো মুক্ত ধরনের মোবাইল হ্যান্ডসেট প্লাটফর্ম তৈরি করা। একই দিনে, ওপেন হ্যান্ডসেট অ্যালায়েন্স তাদের প্রথম পণ্য অ্যান্ড্রয়েড ছাড়ে যা লিনাক্স কারনেল ২.৬-এর উপর ভিত্তি করে তৈরি। ৯ ডিসেম্বর, ২০০৮ সালে, আরও ১৪ নতুন সদস্য যোগ দেয় যাতে ছিল এআরএম হোল্ডিংস, এথিরস কমিউনিকেশনস, আসুসটেক কম্পিউটার ইনকর্পোরেট, জারমিন লিমিটেড, হাওয়াই টেকনোলজিস, প্যাকেটভিডিও, সফটব্যাংক, সনি এরিকসন, তোসিবা কর্পোরেশন এবং ভোডাফোন গ্রুপ। সম্প্রতি নিরাপত্তা বিষয়ক গবেষকরা গুগলের জনপ্রিয় অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমে ত্রুটি খুঁজে পেয়েছেন। তারা দাবি করেছেন, এর মাধ্যমে ফোনের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হ্যাকারদের হাতে চলে যেতে পারে। ক্রাউডস্ট্রাইক নামের নতুন এই সাইবারসিকিউরিটি ফার্মের গবেষকরা জানিয়েছেন, তারা নিজেরাও বের করেছেন কীভাবে এই ত্রুটির সুযোগ নিয়ে আক্রমণ চালিয়ে কোনো ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া যায়।
