বাংলাদেশের বিতর্ক আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সংগঠন ন্যাশনাল ডিবেট ফেডারেশন বাংলাদেশের আয়োজনে গত ২ মার্চ ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় ‘ট্রাস্ট ব্যাংক ৭ম এনডিএফ বিডি জাতীয় বিতর্ক উত্সব ২০১৩’।
সকাল ৯টায় শুরু হয় উত্সব র্যালি। ব্যান্ড পার্টির বাজনা আর উত্সব টি-শার্ট, মুখোশ নিয়ে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ র্যালিকে বর্ণাঢ্য করে তোলে। তাদের আনন্দ ধ্বনিতে মুখরিত হয় ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ ও এর আশপাশের প্রাঙ্গণ। সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে শুরু হয় উত্সবের উদ্বোধনী ও আজীবন সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান। উত্সবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্মানিত প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সংসদ বিষয়ক সচিব মো. মাহফুজুর রহমান। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. আবুল বারাকাত, ন্যাশনাল ডিবেট ফেডারেশন বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এ কে এম শোয়েব, ফাস্ট করপোরেশন প্রাইভেট লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর হাফিজ আহমেদ, উত্সবের প্রধান আহ্বায়ক মুসবাহ আহমেদ মাহদীসহ আরও অনেকে। এবারের উত্সবে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয় প্রখ্যাত লেখক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলামকে। উত্সবে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রকাশিত বিতর্কের অভিধান ‘যুক্তিপত্র’-এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বক্তৃতায় ন্যাশনাল ডিবেট ফেডারেশন বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এ কে এম শোয়েব বলেন, ‘আমরা সামাজিক মানুষ চাই—স্বার্থপর, আত্মকেন্দ্রিক ও বিচ্ছিন্ন মানুষ চাই না। তিনি প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও সারা বাংলাদেশ থেকে আসা বিতর্ক অনুরাগীদের শুভেচ্ছা জানান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পরেই শুরু হয় এনডিএফ বিডি ফরমেটে বিতর্ক। বিতর্কের বিষয় ছিল ‘স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে উঠবে এই প্রজন্মের হাত ধরে’। এ বিতর্কে সরকারি দলের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ছিলেন (ডিরেক্ট ওয়ারিওয়ার্সের) এমএ নাহিয়ান, মন্ত্রী ছিলেন ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজের মেহেজাবিন টোসকা এবং সংসদ সদস্য ছিলেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের মো. শরিফুল ইসলাম। বিরোধী দলীয় নেতা ছিলেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের মো. ইসরাফীল, উপনেতা ছিলেন আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের এসএম তৌহিদুল ইসলাম এবং সংসদ সদস্য ছিলেন ইডেন মহিলা কলেজের আসমা আক্তার বন্যা। উত্সবে অংশগ্রহণকারীদের তারা একটি প্রাণবন্ত বিতর্ক উপহার দেয়।
এর পরে শুরু হয় বিতর্কের কর্মশালা। এই কর্মশালাটি পরিচালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়াউর রহমান হলের জাতীয় টেলিভিশন বিতর্কের চ্যাম্পিয়ন আল-মামুন। বিতর্কের বিভিন্ন বিষয়গুলো এই কর্মশালার মাধ্যমে বিতার্কিকদের কাছে অনেক সহজ হয়ে ওঠে। এই কর্মশালার পর পরই শুরু হয় সংসদীয় বিতর্ক। বিতর্কের বিষয় ছিল ‘এই মুহূর্তে রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ হতে পারে পরিবেশ রক্ষার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।’ এই বিতর্কে সরকারি দলের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ইস্ট-ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির সাবেক বিতার্কিক তানিম আহমেদ, মন্ত্রী হিসেবে ছিলেন সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের ইয়ামিম হামিদ এবং সংসদ সদস্য ছিলেন ইডেন মহিলা কলেজের ফাহিমদা ইয়াসমিন তানিয়া। এই বিতর্কে বিরোধী দলীয় নেতা ছিলেন ইউআইইউ বিশ্ববিদ্যালয়ের আরিফুল হক, উপনেতা ছিলেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের মো. শরিফুল ইসলাম এবং সংসদ সদস্য ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক বিতার্কিক আমিমূল এহসান ইমরান।
এই বিতর্কের পরেই শুরু হয় সংসদীয় বিতর্কের উপর কর্মশালা। ইংরেজি ভাষায় মাল্টািমিডিয়া প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে এই কর্মশালাটি উপস্থাপন করেন শারজা ইয়াসমিন। দুপুরের খাবারের বিরতির পর শুরু হয় আঞ্চলিক বিতর্ক। এই বিতর্কের বিষয় ছিল ‘এই বাংলায় আমরাই সেরা’। বিতর্কে অংশগ্রহণ করেন যথাক্রমে তানিয়া (ঢাকাইয়া), সাঈদ (চাঁটগা), অরূপ (সিলেটি), আকাশ (পাবনা), তামজীদ (বগুড়া), ফয়সাল (বরিশাল), মিঠু (নোয়াখালী)। বিতর্কে অংশগ্রহণকারীরা তাদের নিজ নিজ আঞ্চলিক ভাষায় বিতর্ক করেন। এ সময় পুরো অডিটরিয়াম মুখরিত হয়ে ওঠে করতালিতে। আঞ্চলিক বিতর্কের ফাঁকে অন্য দুটি কক্ষে চলতে থাকে বাংলা ও ইংরেজিতে বারোয়ারী বিতর্ক প্রতিযোগিতা। বাংলায় বারোয়ারি বিতর্কের বিষয় ছিল ‘হে তারুণ্য’। আর ইংরেজিতে Hunger is the best sauce.
এর পরে শুরু হয় রম্য বিতর্ক। বিতর্কের বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছিল ‘সেই তুমি কেন এত অচেনা হলে’। বিষয়ের পক্ষে প্রথম বক্তা ছিলেন ইউল্যাব ইউনিভার্সিটি সম্পর্কে বিতার্কিক আবদুল্লাহ আল তারিফ, দ্বিতীয় বক্তা ছিলেন শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের তনুশ্রী হালদার এবং তৃতীয় বক্তা ছিলেন বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক বিতার্কিক মো. সাঈদ ইবনে মাহবুব এবং বিরোধী দলের ১ম বক্তা ছিলেন ইউআইইউ ইউনির্ভাসিটির সাবেক বিতার্কিক শাকিল মাহবুব, ২য় বক্তা হিসেবে ছিলেন শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক বিতার্কিক ফাল্গুনী মজুমদার এবং ৩য় বক্তা ছিলেন বরিশাল ডিবেট অ্যাসোসিয়েশনের নাজনীন সুলতানা। রম্য বিতার্কিকদের হাস্যরস্যপূর্ণ কথায় রেসিডেন্সিয়ালের অডিটোরিয়াম করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে। রম্যের পরেই শুরু হয় প্ল্যানচেট বিতর্ক। এই বিতর্কের শুরুতেই অডিটোরিয়ামের সকল আলো নিভে যায়। এই বির্তকের বিষয় ছিল ‘তোমারই প্রাণে আমারই পরশ’। প্ল্যানচেট তার্কিকরা একে একে মঞ্চে এসে হলভর্তি দর্শকদের যেন অন্য এক পরাবাস্তব জগতে নিয়ে যান। এ বিতর্কে অংশগ্রহণ করেন হোম ইকোনোমিক্স কলেজের সাবেক বিতার্কিক নুসরাত রুবাইয়া নাহিদ (বেগম রোকেয়া), রেসিডেন্সিয়ালের এইচ এম সাবিব নূর (ওসামা বিন লাদেন), ইউনানী ও আর্য়ুবেদিক কলেজের মীর শামসুর নাহার তমা (আনারকলি), ইউল্যাব ইউনিভার্সিটির অরূপ রতন চৌধুরী (মান্না), ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজের সোহানূর রহমান সোহান (হুমায়ূন আহমেদ)। উত্সবের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সম্মানিত প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের অধ্যক্ষ কর্নেল মোসলেমউদ্দিন ভূইয়া, উত্সবের সহযোগী আহ্বায়ক ফাহিমদা ইয়াসমিন তানিয়া ও মাহবুবুর রহমান সাকিলসহ অনেকে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ন্যাশনাল ডিবেট ফেডারেশন বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এ কে এম শোয়েব। প্রধান আহ্বায়ক মুসবাহ আহমেদ মাহদী তার সমাপনী অনুষ্ঠানের বক্তৃতায় উপস্থিত সবাইকে মূল্যবোধ সম্পন্ন মানুষ হওয়ার আহ্বান জানান।
এরপর শুরু হয় পুরস্কার বিতরণী পর্ব। শুরুতেই ন্যাশনাল ডিবেট ফেডারেশন বাংলাদেশের সকলের পক্ষ থেকে সংগঠনের চেয়ারম্যান একেএম শোয়েব কে পাওয়ার অব ইনেস্পাইরেশন অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়। এর পর উত্সবকে সফল করতে অবদানের জন্য ন্যাশনাল ডিবেট ফেডারেশনের ৬০ জন আয়োজককে বেস্ট অরগানাইজার অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়। আবদুল্লাহ আল মামুন, উত্তম রয়, সাইফুল ইসলাম বাবর, জাহিদ হাসান শওকত ও শরিফুল আনোয়ার কে স্পেসাল ওনার দেওয়া হয়। সারা বছর জুড়ে ন্যাশনাল ডিবেট ফেডারেশন বাংলাদেশের কার্যক্রমের উপর ভিত্তি করে ১১ জনকে স্টার অর্গানাইজার অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়। তারা হলো মুসবাহ আহমেদ মাহদী, ফাহমিদা ইয়াসমিন তানিয়া, আমিমুল এহসান ইমরান, সাঈদ ইবনে মাহবুব, তামজিদ হাসান, আশিকুর রহমান আকাশ, তাপসি মুসফিকা তাপসি তিন্নি, সোহানুর রহমান সোহান, মেহেদি হাসান শুভ, ডিএম নুসরাত অমি ও রেদাউনুর রহমান রেজা এবং স্টার প্রেজেন্টার অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয় এম আলমগীরকে। বারোয়ারি বিতর্ক বাংলায় প্রথম হয় শহীদ বীর উত্তম লে. আনোয়ার গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের লুবাবা মেহজাবিন, দ্বিতীয় হয় যৌথভাবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাশায়েত হাসান ও শহীদ বীর উত্তম লে. আনোয়ার গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অথৈ, তৃতীয় হয় এনাম মেডিকেল কলেজের ইনামা হক সারা। বারোয়ারি বিতর্ক ইংরেজিতে প্রথম ও
দ্বিতীয় হয় যথাক্রমে শহীদ বীর উত্তম লে. আনোয়ার গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের তাজ-ই-নূর ও রাইয়ান রহমান। তৃতীয় হয় যৌথভাবে অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের এবি সিদ্দিকি তাজ ও এমআইএসটি-এর ইরফান চৌধুরী।
এরপর শুরু হয় সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম ঘোষণা। সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরস্কার পায় ঢাকার মধ্যে সাাউথ-ইস্ট ইউনিভার্সিটি এবং ঢাকার বাইরে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ। সেরা মেডিকেল কলেজের পুরস্কার পায় ঢাকার মধ্যে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও ঢাকার বাইরে এনাম মেডিকেল কলেজ। সেরা কলেজের পুরস্কার পায় ঢাকার মধ্যে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট গার্লস পবিলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এবার আসে সেরা স্কুলের নাম ঘোষণার পালা। সেরা মাদরাসার পুরস্কার পায় জান্নাতুল বানাত মহিলা মাদ্রাসা। ঢাকার বাইরে সেরা স্কুল হয় পাওয়ার ক্যাডেট মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, পুঠিয়া, রাজশাহী। ঢাকার মধ্যে সেরা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের পুরস্কার পায় ফাউন্ডেশন স্কুল। এক মূহুর্ত অপেক্ষা করে নাম ঘোষণা হয় ঢাকার মধ্যে সেরা বাংলা মিডিয়াম স্কুল মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল। সাথে সাথে দর্শকসারি থেকে ছুটে আসতে থাকে উত্সবের টি-শার্ট পরিহিত এক ঝাঁক কিশোরী। তাদের উল্লাসে মুখরিত হয় পুরো অডিটোরিয়াম। কিন্তু মঞ্চের নিচে এক কোনায় দাঁড়িয়ে থাকা গতবারের সেরা স্কুল শহীদ বীর উত্তম লে. আনোয়ার গার্লস স্কুলের শিক্ষার্থীদের চেহারায় নেমে আসে আশাভঙ্গের আভা। কিন্তু ঘোষণা তখনও বাকি ছিল। মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল এককভাবে নয় সেরা স্কুল সর্বাধিক অংশগ্রহণকারী শহীদ বীর উত্তম লে. আনোয়ার গার্লস স্কুল। সাথে সাথেই আশা ভঙ্গের আভা কেটে গিয়ে আসে প্রাণের ছটা। একঝাঁক গোলাপী প্রাণ মুহূর্তেই ছুটে গেল মঞ্চের সিঁড়ি বেয়ে। তাদের আনন্দ ধ্বনি বাজতে থাকল পুরো মিলনায়তন জুড়ে। তথ্যমন্ত্রী যখন তাদের হাতে সেরা স্কুলের কাপ তুলে দিচ্ছিলেন তখন তাকে মনে হচ্ছিল এমন মুহূর্ত তিনি অনেক দিন দেখেননি। আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। এরপর শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। জমকালো এ অনুষ্ঠানে গান, নাচ, নাটক, কোরিওগ্রাফি পরিবেশন করে সুকন্যা, ফারুখ, তিন্নি, অর্নিলা, নাহিদসহ সারা বাংলাদেশ থেকে আসা বিতার্কিকবৃন্দ। উত্সবে প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিল ট্রাস্ট ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড এবং সহযোগী পৃষ্ঠপোষক হিসেবে ছিল জনতা ব্যাংক লিমিটেড, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড, ফেবার কেসটেল ও টি আর জেড গ্রুপ। মাথার উপর সূর্যের আলো নিয়ে বিতর্ক উত্সবে যোগ দিয়েছিল সারা দেশ থেকে আসা শিক্ষার্থীরা। একই ছাদের নিচে, একই শব্দমঞ্চের সামনে একত্রিত হয়েছিল সবাই। বিদায় বেলায় মাথার উপরে একখণ্ড চাঁদ। গায়ে জোত্স্নার আলো মেখে যখন বিতর্ক উত্সব থেকে বাড়ি ফিরছিল তখন সবার মনের মধ্যে বাজছিল—
আমরা করব জয়
আমরা করব জয়
আমরা করব জয় একদিন...।
